ঢাকা, শনিবার   ২৩ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ৮ ১৪২৬

ব্রেকিং:
মুন্সিগঞ্জে বাস-বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে তিন শিশুসহ নিহত ১০,ছয় সদ্যসের তদন্ত কমিটি গঠন
সর্বশেষ:
৫৫ বছরই থাকছে যুবলীগে বয়সসীমা এমপি বুবলীকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ১০৬ রানে অল আউট বিএনপির অপপ্রচারের ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেইঃ কাদের জানুয়ারির মাঝামাঝি ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

অনিক ও রবিনের পরিবারও চান আবরার খুনের বিচার

প্রতিদিনের চিত্র রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০১৯  

পঠিত: ১৭৭

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার বিচার চান অনিক সরকার (২২) ও মেহেদী হাসান রবিন (২২) এর পরিবারও।

এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির মধ্যে এই দুই আসামির বাড়ি রাজশাহী। তারা দুইজনই ২০১৫ ব্যাচের ছাত্র। শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন রবিন ও অনিক।

এদের মধ্যে মামলার তিন নম্বর আসামি অনিক সরকারের বাড়ি মোহনপুর উপজেলার বড়ইকুড়ি গ্রামে। তিনি কাপড় ব্যবসায়ী আনোয়ার সরকারের ছেলে। অনিক সরকার বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক।

আর চার নম্বর আসামি মেহেদী হাসান রবিনের বাড়ি পবা উপজেলার কাটাখালি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাপাসিয়ায়। তিনি স্কুলশিক্ষক মাকসুদ আলীর একমাত্র ছেলে। মেহেদী হাসান রবিন বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

এদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর রাজশাহীতে আলোচনায় আসেন অনিক ও রবিন। তবে উভয় পরিবার তাদের সন্তানদের এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে হতাশ। সন্তানরা যদি সত্যিই দোষী হয় তবে তাদের বিচার চান পরিবারের সদস্যরা।

কাটাখালি পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, এলাকায় খুব নিরীহ ও শান্ত ছেলে হিসেবে পরিচিত রবিন। তিনি এলাকার ছেলেদের সঙ্গে তেমন মিশতেন না। রবিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সে বিষয়টিও এলাকার কেউ জানতেন না।

আসাদ আরও বলেন, রবিনের দাদা ও চাচা দুজনেই জামায়াতে ইসলামির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রবিনের দাদা মমতাজ উদ্দিন জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে একবার কাউন্সিলর নির্বাচনও করেছেন। আর চাচা ইমরান আলী সক্রিয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতি করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে চারটি নাশকতার মামলা রয়েছে।

আসাদ বলেন, রবিনের বাবা মাকসুদ আলী পার্শ্ববর্তী পুঠিয়া উপজেলার ভারুয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। তবে বর্তমানে তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য।

রবিনের বাবা মাকসুদ আলী বলেন, আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার বাবা ও ভাই এক সময় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন তারা নিষ্ক্রিয়। কলেজের চাকরি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আমার ভাইকে চারটি নাশকতার মামলার আসামি করা হয়েছে।

মাকসুদ আরো বলেন, রবিন বুয়েটে ভর্তি হওয়ার পর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে-তা বছর খানেক আগে জানতে পেরেছি। তাকে রাজনীতি না করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু সে শুনেনি। রবিন যদি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকে তবে তার সাজা হবে। এতে আমাদের কিছু বলার নেই।

অপরদিকে আবরার হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি অনিকের বাবা আনোয়ার হোসেন সরকার এলাকায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। রয়েছে কাপড়সহ পেট্রোলপাম্প ও সারের ডিলারের ব্যবসা। দুই ভাইয়ের মধ্যে ছোট অনিক। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে হতবাক অনিকের পরিবারও। এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে অনিক ঢাকাতেই লেখাপড়া করছে। অনিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল তা জানেন না তার পরিবারের সদস্যরা।

অনিকের এক মামা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত বলে জানিয়ে রাজ্জাক বলেন, তার বাপ চাচারা সবাই বিএনপি করেন। তিনি কিভাবে ছাত্রলীগ করেন। তাকে পদ দেয়ার আগে তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখার প্রয়োজন ছিল।

অনিকের বাবা আনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, কারও সন্তান যেন এমন না হয়। এমনটা না করে। আমি আশা করব অনিকের মত আর কেউ যেনো ভুল পথে না যায়। আইন সবার জন্য সমান। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার ছেলে অপরাধী হলে প্রচলিত আইনে তার যে সাজা হবে আমি মেনে নেব।

নিজে কোন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় দাবি করে আনোয়ার হোসেন বলেন, অনিক রাজশাহীতে থাকা অবস্থায় কোনো রাজনীতি করত না। কারো সাথে তেমন মিশতোও না। কি করে সে রাজনীতিতে প্রবেশ করলো তা জানি না। আমরা জানি অনিক সেখানে পড়ালেখা করছে। যখন জানতে পারলাম অনিক এক ছাত্রকে হত্যা করেছে, সেই দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমারা অবাক হয়ে গেছি। কখনো ভাবিনি আমার ছেলে কাউকে খুন করবে।

 

এই বিভাগের আরো খবর