ঢাকা, বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২,   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
বিশ্বকাপের জন্য আকর্ষণীয় জার্সি উন্মোচন ব্রাজিলের চার বছর পর মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তানের ৪ সেনা নিহত গাজায় অস্ত্রবিরতিতে জাতিসংঘের প্রশংসা আশুরার শোক মিছিলে নাইজেরিয়ার সেনাদের হামলা; বহু হতাহত ইসরাইলি দখলদারিত্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে: হামাস ট্রাম্পের বাড়িতে এফবিআইয়ের অভিযান

অনিশ্চয়তায় বিশ্ব, চীন কি যুদ্ধে জড়াবে?

সংবাদ বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২২  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।


উক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগেও (গত বছর) চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির পথ খুঁজছিল যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বছরেও (৩০ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অনলাইনে সংলাপ করেন। কিন্তু দুদেশের সম্পর্কের উন্নতি তো হয়নি, বরং আরও অবনতি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় শক্তিধর দুই দেশের নেতার মধ্যে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, তা পুরো বিশ্বের জন্য উদ্বেগজনক।

 

অতীতে বাইডেন ও শি’র বৈরী সম্পর্ক ছিল না। তাদের সম্পর্ক অনেক পুরোনো এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। ২০১৩ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফর করেছিলেন বাইডেন। সেসময় দুজনের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৫ সালে শি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে বাইডেনও অনেক সম্মান দেখিয়েছিলেন। শি’র যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাইডেন বিমানসঙ্গী ও নৈশ্যভোজের আয়োজকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। দুজনের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনাও হতো।

 

কিন্তু সে সম্পর্কের পারদ গলতে থাকে ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। নির্বাচনী প্রচারে শি’র প্রতি কঠোর মনোভাব দেখিয়েছিলেন বাইডেন। শি-বাইডেনের দাবার বোর্ডে করোনাভাইরাস, ইউক্রেন ও তাইওয়ান ক্রমান্বয়ে তাদের সম্পর্ককে অগ্নিকুণ্ডলিতে পরিণত করেছে।

 

অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানে গিয়ে সেই আগুনে আরেকটু ঘি ঢেলে এসেছেন। অবশ্য মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পেলোসিকে তাইওয়ান সফর না করার তাগিদ দিয়েছিলেন বাইডেন। এমনকি মার্কিন সেনারাও এ সফরের বিরোধী ছিল। কিন্তু পেলোসি সে কথা শোনেননি।

 

বাইডেন প্রশাসন কয়েক দিন ধরে বোঝাতে চেয়েছে, হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। তাদের দাবি, হাউস স্পিকারের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের পদ এক করে ফেলেছেন চীনারা। কিন্তু দুটোর আলাদা সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে।

 

বর্তমান সময়ে চীনের মহাপরাক্রমশালী হয়ে ওঠার পেছনে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক কৌশল তাৎপর্যপূর্ণ। চীন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগুন নিয়ে খেলে, তাহলে সেই আগুনে তাকে পুড়তে হবে।

 

প্রশ্ন হচ্ছে, চীন কি যুদ্ধে জড়াবে? গত চার দশকের বেশি সময় চীন কোনো যুদ্ধে জড়ায়নি। চীন এমন একটি দেশ, যেখানে স্থানীয় পুলিশেরা অস্ত্র নিয়ে চলাফেরার প্রয়োজনও মনে করে না।

 

কিন্তু তাইওয়ান নিয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপে চীন ভীষণ ক্ষীপ্ত। চীন মনে করে, তাইওয়ান তাদের। অন্যদিকে তাইওয়ান নিজেকে স্বাধীন মনে করে। আর যুক্তরাষ্ট্র এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীনকে শায়েস্তা করতে চায়। তাইওয়ান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ভরসায় শক্তি প্রদর্শন করছে। বর্তমান সময়ে তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। যা চীনের স্বার্থের পরিপন্থি।

 

বলা বাহুল্য, সম্প্রতি প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে চীনেই শুধু ইতিবাচক অগ্রগতি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে চীন। তাই মার্কিন আধিপত্যের চ্যালেঞ্জ হওয়ায় চীনকে মোকাবিলা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

 

রেনমিন ইউনিভার্সিটি অব চায়নার (আরইউসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ওয়েন ওয়্যাংয়ের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উন্নয়ন কোনো খেলা নয় যে, যেখানে জিতলেই পুরস্কার থাকবে।

 

বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের মিত্র বেশি। এই চীন ১২৫টিরও বেশি দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ গড়েছে। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মূল পার্থক্য হলো, চীন যুদ্ধ পছন্দ করে না। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মতো অন্য দেশে হস্তক্ষেপেও চীনের নজির নেই। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের মতে, চীনের সঙ্গে ‘কৌশলে’ লড়তে হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ, যার সামরিক ব্যয়ের ধারে কাছে কোনো দেশ নেই। চীনের সামরিক ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের মোট অঙ্কের এক-তৃতীয়াংশেরও কম। চীনের বড় শক্তি তার জনগোষ্ঠী (১৪০ কোটি)। যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চার গুণ বেশি চীনের জনসংখ্যা। চীনের জনগণের কাছে যুক্তরাষ্ট্র তার আদর্শিক স্খলনের কারণে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। চীনকে প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রচেষ্টা চীনাদের ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রেও বাণিজ্য বিস্তৃত করেছে চীন। প্রতি বছর মার্কিনিরা হাজার হাজার ডলার দিয়ে চীনের কোনো না কোনো পণ্য বা সেবা কিনছে। চীন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আন্তর্জাতিক চুক্তি সই করেছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগ দিয়েছে।

 

সর্বোপরি চীনের সামগ্রিক অগ্রগতি ও সক্রিয়তা যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশায় ফেলেছে। পেন্টাগন হয়তো চীনকে যুদ্ধে নামানোর উপায় খুঁজছে। তবে চীন যে সহজে যুদ্ধে নামবে না- এটি স্পষ্ট। চীন ক্ষুব্ধ হলেও খুব কম লোক বিশ্বাস করে, ওয়াশিংটন ও এর মিত্রদের সঙ্গে বেইজিং যুদ্ধে জড়াবে।

এই বিভাগের আরো খবর