ঢাকা, রোববার   ১৮ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৫ ১৪২৮

ব্রেকিং:
কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী মারা গেছেন বিমানের সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল, বিমানবন্দরে যাত্রীদের বিক্ষোভ
সর্বশেষ:
পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম দফায় ভোটগ্রহণ চলছে বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৩০ লাখ

আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি বর্ষপঞ্জিকার বিরল দিন

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাস হয় ২৮ দিনে। তবে প্রতি ৪  বছর পর পর এই মাসটি হয় ২৯ দিনে। যাকে বলা হয় লিপ ইয়ার বা অধিবর্ষ।  চলুন জেনে নেওয়া যাক অধিবর্ষ কি ও কেন হয়?

অধিবর্ষ বা লিপ ইয়ার হলো কোনো বছরে ৩৬৫ দিনের পরিবর্তে বাড়তি একটি দিন যোগ করে বছর হিসাব করা। কিন্তু বছরের এই একটি দিন কিভাবে বাড়ে? আসলে আমরা সবাই ‘লিপ ইয়ার’ নামের সঙ্গে পরিচিত।

অতি প্রাচীনকালে চাঁদের গতির ওপর ভিত্তি করে ক্যালেন্ডার তৈরি হতো। এতে ছিল ১২টি চন্দ্রমাস। তখন ২৯.৫ দিনে এক চন্দ্রমাস আর প্রায় ৩৬৫.২৪ দিনে হতো এক বছর। নির্দিষ্ট সময় পর পর অতিরিক্ত দিন যোগ করার জন্য যুক্ত হতো ১৩ নম্বর অধিমাস বা একটি অতিরিক্ত মাস।

খ্রিস্টপূর্বে ৪৬ সালে বিখ্যাত রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার চালু করলেন নতুন ক্যালেন্ডার। এতে মিশরীয়দের আদলে সৌরবর্ষ ব্যবহার করা হলো, নাম দেয়া হলো ‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’। এ ক্যালেন্ডারেই প্রথম সপ্তাহের সাত দিনের নাম দেয়া হলো।

‘জুলিয়ান ক্যালেন্ডার’ বছর হতো ৩৬৫.২৫ দিনে। প্রতি তিন বছরে একদিন বেড়ে ৩৬৬ দিন হতো। জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি চলে এলো বছরের প্রথমে। এছাড়া, সপ্তম মাস কুইনটিলিসের নাম পরিবর্তন করে জুলিয়াস সিজারের নাম অনুসারে রাখা হলো জুলাই। পরে অগাস্টাস সিজার নিজের নাম অনুসারে অষ্টম মাস সেক্সটিলিসের নাম বদলে রাখেন আগস্ট। তিনিই লিপইয়ার বা অধিবর্ষ চার বছরে করেন।

অর্থাৎ, ফ্রেব্রুয়ারি মাসে প্রতি চার বছর অন্তর যুক্ত হয় একটি অতিরিক্ত দিন। ২০২০ সালও অধিবর্ষ, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাস ২৯ দিনে।

এতো গেলো ইতিহাসের বনর্ণা। এবার আসি গানিতিকভাবে লিপ ইয়ারের কথায়। পৃথিবী সূর্যের চারপাশে একবার ঘুরে আসে, সেই সময়কাল হচ্ছে প্রায় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। অথচ বর্তমানে ব্যবহৃত গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জিতে বছর হিসাব করা হয় ৩৬৫ দিনে।

এভাবে প্রতিবছর ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড সময় গণ্য না করেই বছরের হিসাব করা হয়। ফলে প্রতি চার বছর অন্তর এই বাদ দেয়া সময়টা প্রায় একদিনের সমান হয়। এই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে প্রতি চার বছর পরপর ৩৬৬ দিনে বছর হিসাব করা হয়, যা আমরা ২৯ ফেব্রুয়ারি হিসাবে বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হতে দেখি।