Berger Paint

ঢাকা, শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৯ ১৪২৭

ব্রেকিং:
ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক আজ বিশ্ব পোলিও দিবস মাস্ক খুললেই করোনার ঝুঁকি বাড়ে ২৩ গুণ যুক্তরাষ্ট্রে নৌবাহিনীর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, ২ পাইলট নিহত জাল ডলার প্রস্তুতকারী চক্রের ৬ সদস্য আটক চলে গেলেন ব্যারিস্টার রফিক উল হক
সর্বশেষ:
আজ মহাষ্টমী: করোনা থেকে মুক্তিতে ভক্তদের বিশেষ প্রার্থনা নোয়াখালীতে চকলেট দেয়ার কথা বলে শিশুকে ধর্ষণ

আমরা কতটা প্রস্তুত

আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা

মো: জিল্লুর রহমান

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

পঠিত: ৪৮৮
মো: জিল্লুর রহমান। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

মো: জিল্লুর রহমান। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র


দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে। আসন্ন শীত মৌসুমে করোনার প্রভাব বাড়তে পারে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছেন। দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। সম্প্রতি সংক্রমণের হার আগের তুলনায় কমায় অনেকেই আত্মতুষ্টিতে ভুগছে এবং অনেকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা শুরু করেছে। এমনটি হলে বিপদ আরও বাড়বে। বিশ্বের অনেক দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ ঘটেছে এবং তা প্রথম দফার চেয়ে ভয়াবহ। সুতরাং সেই শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না এবং বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

আমাদের দেশে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা সংক্রমণের হার কিছুটা নিম্নমুখী। তবে এই হার এখনও স্বস্তিকর অবস্থায় পৌঁছায়নি। সম্প্রতি কিছু হাসপাতালের শয্যা খালি থাকছে। অন্যদিকে অন্যান্য রোগীর সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যান্য রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কভিড-১৯ হাসপাতালের অব্যবহূত শয্যা সংখ্যা সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। কারণ করোনার সংক্রমণ এখনও শেষ হয়নি। দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের শঙ্কা রয়েছে। সুতরাং কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো পুরোপুরি বন্ধ না করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে যেন দ্রুততার সঙ্গে চালু করা যায় সেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা প্রয়োজন।

 

সরকারের পক্ষ থেকেও দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে এবং সরকারও তা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিভাগও প্রস্তুত রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। জীবন ও জীবিকার তাগিদে মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলায় চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুত থাকতে হবে। শীতকালে বিয়ে ও পিকনিকসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। জনসমাগম বেশি হওয়ায় করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে সকলকে বিরত থাকতে হবে।

 

বিশ্ব জুড়েই মহামারি করোনার টিকা ও ওষুধ বের করার চেষ্টা চলছে। কবে নাগাদ ওই টিকা পাওয়া যাবে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাশিয়া ইতোমধ্যে করোনার টিকা আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়ার করোনাভাইরাস টিকার পরীক্ষা শুরুর পর প্রথম প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে টিকায় ভাইরাস প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসা বিষয়ক সাময়িকী দা ল্যান্সেটে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যারা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের সবার শরীরে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করার মতো অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে এবং বড় কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে এবং কোনরকম তথ্য প্রকাশ না করেই অগাস্ট মাসে স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের জন্য টিকার লাইসেন্স দেয় রাশিয়া। একই সাথে সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে করোনার চিকিৎসা করার প্রয়াসও অব্যাহত রেখেছে।

 

লকডাউন জীবিকার স্বার্থে দীর্ঘকাল চালিয়ে নেওয়া ঢ়সম্ভব নয়। সুতরাং সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সকলের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে জনসাধারণকে আরও সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

 

দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতির পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্যরাও। কমিটির তথ্যমতে, কভিড-১৯ সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে চ্যালেঞ্জ থাকলেও বর্তমানে পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার পরিধি ও মান উন্নয়ন করা হয়েছে। এর পরও যেসব বিষয়ে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণের উদ্যোগ নিতে হবে। অনেক দেশে দ্বিতীয় দফায় মারাত্মক সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগযোগের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও সবকিছু পুরোপুরি চালু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সব ক'টি কারণে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। সেই সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এখনই করণীয় বিষয়ে রোডম্যাপ প্রস্তুত করে সে অনুযায়ী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

 

এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য হচ্ছে, করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রতিদিনই নতুন নতুন পরিকল্পনা করে যাচ্ছে এবং তা কার্যকর করছে। এ কারণেই অন্যান্য দেশের তুলনায় সংক্রমণের গতি ঊর্ধ্বমুখী নয়। অন্যান্য অনেক দেশে আক্রান্ত হু হু করে বাড়লেও বাংলাদেশে তা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, করোনার দ্রুত বিস্তার রোধে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সফল। এ ছাড়া মৃত্যুহারও অনেক কম। পাশাপাশি সুস্থতার হারও বেশি। এগুলো ইতিবাচক। বিশ্বের অনেক দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ চলছে এবং সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমরাও দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর বাইরে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও আলাপ আলোচনা চলছে। তবে সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য মাস্ক বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। তাহলেই সংক্রমণ কমিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হওয়া যাবে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রথম দফার সংক্রমণ সামাল দিতে গিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার যেসব বিষয়ে ত্রুটি ধরা পড়েছে তা দ্রুত সংশোধন করতে হবে। বিশেষ করে নমুনা পরীক্ষা থেকে শুরু করে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা দ্রুততার সঙ্গে গুণগত মানে উন্নীত করতে হবে। এজন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। শীত মৌসুমে সাধারণত রেসপাইরেটরির রোগ বেশি লক্ষ্য করা যায়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির রেসপাইরেটরির রোগ থাকলে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। করোনার এ সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবেলায় জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চল‌া ও গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার কোন বিকল্প নেই।

 

লেখক: ব্যাংকার ও কলাম লেখক, সতিশ সরকার রোড, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

এই বিভাগের আরো খবর