Berger Paint

ঢাকা, রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২০,   কার্তিক ১৭ ১৪২৭

ব্রেকিং:
তুরস্ক-গ্রিসে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪, আহত ৭ শতাধিক বিশাল এলাকা আজারবাইজানের নিয়ন্ত্রণে ২৪ ঘন্টায় সবোর্চ্চ করোনা তান্ডবের রেকর্ড ১ হাজার ছক্কায় বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ক্রিস গেইল
সর্বশেষ:
কাল থেকে খুলছে দেশের সব পর্যটন কেন্দ্রসহ সুন্দরবন পুলিশ কথা না শুনলে আমার দরজা উন্মুক্ত : ডিএমপি কমিশনার ২৪ ঘন্টায় ভারতে মৃত্যু ৫৫১, আক্রান্ত ৮১ লাখ ছাড়িয়েছে সারাবিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৩ কোটি ৩২ লাখ হত্যার হুমকি দিয়ে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার

ইরানি জেনারেল হত্যায়

উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধ

প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারি ২০২০  

পঠিত: ৮১৮

 

মধ্যপ্রাচ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রচন্ড সংঘাতে উত্তপ্ত সিরিয়া, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিন। এর মধ্যে ইরানের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি, সমর প্রকৌশলবিদ ও সেনা কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানি ও ইরাকের মিলিশিয়া বাহিনী শীর্ষ নেতা আবু মাহদি আল মুহানদিসের হত্যা সেই উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। বাজতে শুরু করেছে আরেক যুদ্ধ-সংঘাতের দামামা। সেই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের গন্ডি পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সুলেইমানি নিহতে মধ্যপ্রাচ্যে শুধু যুদ্ধের উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেনি, প্রভাব ফেলেছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি। ওয়াল স্ট্রিট ও হংকংয়ের শেয়ারবাজারে গত শুক্রবার সকাল থেকেই দরপতন শুরু হয়। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়ে। ইউরোপের অস্থিতিশীল শেয়ারাবাজারে এই প্রভাব মারাত্মক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করেন বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা।

আমরা দেখছি, সোলেমানির হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চিত্র মুহূর্তেই পাল্টে গেল। গত ২৭ ডিসেম্বর ‘কে বা কারা’ রকেট হামলা চালিয়ে উত্তর ইরাকে কর্মরত এক মার্কিন ঠিকাদারকে হত্যা করে। ওই হামলা ইরানপন্থীদের কাজ বলে হাশদ আস সাবির কয়েকটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ২৫ যোদ্ধাকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। ক্ষুব্ধ হাশদ সমর্থকরা বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায়। দূতাবাস হামলায় তেহরানকে দোষারোপ করে ‘চড়া মূল্য দিতে হবে’ হুমকি দেয় ট্রাম্প।

সোলাইমানিকে হত্যার পরিণতি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে গভীর উদ্বেগ শুরু হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামিনি বলেছেন, ‘অপরাধীদের জন্য ভয়াবহ প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে।’ সোলাইমানি হত্যার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের নিকৃষ্টতম উদাহরণ ও ইসরাইলের সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে তার এই দুর্বল বিপজ্জনক কাজের সব পরিণতির দায়ভার বহন করতে হবে।’

সোলেমানি হত্যায় মার্কিন কংগ্রেসও এখন বিভক্ত। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, যে হাতে মার্কিনিদের রক্ত ঝরেছে, তা ইরানি শাসনের ওপর একটি বড় আঘাত। ডেমোক্র্যাটরা সমালোচনা করে বলেছেন, ট্রাম্পের ঔদ্ধত্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত আরেকটি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। তারা মনে করছে এতে করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়াসহ বেড়ে যাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সৈন্য ও ব্যয়ভার। ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এ অসীম যুদ্ধ শেষ করবেন। কিন্তু তার এ পদক্ষেপ তার পরিপন্থী। এছাড়া ডেমোক্র্যাটিক দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন এই হামলায় ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি খড়কুটোর গাদায় ডিনামাইট ছুড়ে ফেলেছেন, এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের একটি সংঘাতের মুখোমুখি পড়তে পারি আমরা।

আমরা মনে করি ইরানের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর এ ব্যক্তির ওপর এমন হামলায় আঞ্চলিক যুদ্ধ ছাড়াও ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। সোলাইমানিকে হত্যায় বিশ্বজুড়ে যে গভীর উদ্বেগ শুরু হয়েছে, তা অচীরেই অবসান হবে বলে আমরা আমরা আশা করছি।