Berger Paint

ঢাকা, রোববার   ০৭ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭

ব্রেকিং:
দেশের ৫০ জেলা পুরোপুরি লকডাউন, ১৩ জেলা আংশিক
সর্বশেষ:
করোনায় বিপর্যস্ত স্পেনকে ছাড়িয়ে পঞ্চমে ভারত চট্টগ্রামে আরও ১৫৬ জনের করোনা শনাক্ত বাজেট অধিবেশনের আগেই সব এমপির করোনা টেস্ট রুবানা হক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেননি: বিজিএমইএ বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংসহ নয়জনের কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়েছে।

উহান থেকে ঢাকা : প্রসঙ্গ কোভিড-১৯

মুকুল কান্তি ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২০  

পঠিত: ২৫০১
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

পৃথিবীতে যে প্রাণীকে আমরা সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিজীবি বা শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে জানি তা হল ‘মানুষ’ অর্থাৎ মানব জাতি। কিন্তু এই মানব জাতিই আজ অতিবাহিত করছে মহাসংকটাপন্ন সময়। এক প্রজাতির ছোট্ট অনুজীব ‘করোনা ভাইরাস’ অর্থাৎ 'COVID-19' এর আক্রমণে বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত আজ স্তব্ধ। প্রতিটি মুহূর্ত এক ভয়াবহ আতঙ্ক আর উদ্বেগের তাড়নায় ছুটে চলা জনজীবন যেন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। এই ভাইরাসের উৎপত্তি চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে হলেও বর্তমানে এর আক্রমণ শুধু উহান, হুবেই কিংবা চীনের মধ্যে স্বীমাবদ্ধ নয়, বর্তমানে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশে^র আনাচে কানাচে। তাই বাংলাদেশও রেহাই পায়নি এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে। অনিয়ন্ত্রিত এই ভাইরাসটি সারা বিশ্বে আক্রান্ত করেছে লক্ষ লক্ষ মানুষকে আর কেড়ে নিয়েছে বহু মূল্যবান প্রাণ। তাই বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও অঞ্চলকে কোভিড-১৯ এর আক্রমন থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেতে রীতিমতো খেতে হচ্ছে হিমসিম। কেননা এই ভাইরাসের কোন স্বীকৃত প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন অদ্যাবধি সফলভাবে কেউ আবিষ্কারের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। কেউ জানেনা এমন মহামারীর সমাপ্তির মহেন্দ্রক্ষণের আগমন ঘটবে কবে এই পৃথিবীতে। তবে অতীত ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, কোন ঘটনার যেমন সূচনা রয়েছে তেমনি রয়েছে তার সমাপ্তির ইতিহাস। তাই অনেক আতঙ্ক, হতাশা আর ভয়কে অতিক্রম করে বুকভরা আশা নিয়ে দেখতে চাই নতুন স্বপ্ন। যে স্বপ্নে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সূচনা হতে পারে একটি নতুন পৃথিবী।  

'COVID-19' বর্তমান সময়ের বিশ্বভ্রমণে শীর্ষে থাকা একটি শক্তিশালী ভাইরাসের নাম, একথা নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য। কিন্তু কি তার পরিচয়? এমন কৌতুহল আমার মতো আরো অনেকেরই থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কেননা পুরো পৃথিবীতে হয়তো এমন কোন দেশ নেই যে দেশের মানুষ করোনার নামটি শোনেননি। মূলত,  ভাইরাস (Virus) হল একটি অকোষীয় ও অতি-আণুবীক্ষণিক বা অতিক্ষুদ্র অণুজীব যারা জীবিত কোষের ভিতরেই মাত্র বংশবৃদ্ধি করতে পারে। পৃথিবীতে এখনও অনেক ভাইরাস রয়েছে যেগুলোকে মরণঘাতি ভাইরাস বলা হয়। যেমন:  ইবোলা ভাইরাস, রেবিজ ভাইরাস, ডেঙ্গু, এইচআইভি সহ বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস। তেমনই একটি ভাইরাসের নাম 'COVID-19'। এই ভাইরাসকে আবার ‘নভেল করোনা ভাইরাস’ বলা হয়ে থাকে । এই ভাইরাসটিকে সনাক্ত করা হয়েছে এক প্রকার নতুন করোনাভাইরাস হিসেবে।  ‘করোনাভাইরাস’ বলতে মূলত ভাইরাসের একটি শ্রেণির একটি গোত্রের অনেকগুলো ভাইরাসকে বোঝায়, যা প্রাণীদেরকে সহজেই আক্রান্ত করতে পারে। এদের মধ্যে এক প্রকার নাম হিউম্যান করোনা ভাইরাস যার অনেক রকম প্রজাতিও রয়েছে। বিজ্ঞানীদের আবিস্কৃত প্রায় ছয়টি করোনা ভাইরাসের সাথে এবার এ প্রজাতির যে ভাইরাস যুক্ত হলো তার নাম দেওয়া হয়েছে 'COVID-19'। জানা যায়, এই পর্যন্ত মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন করোনা ভাইরাস রয়েছে মোট সাত ধরনের । সেগুলি হল: 229E (আলফা করোনা ভাইরাস); NL63 (আলফা করোনা ভাইরাস); OC43 (আলফা করোনা ভাইরাস); HKU1 (বিটা করোনা ভাইরাস); MERS-CoV (বিটা করোনা ভাইরাস); SARS-CoV এবং COVID-19/SARS-CoV-2  । MERS-CoV ভাইরাসটি প্রথমবার ২০১২ সালে সৌদি আরবে সংক্রমিত হয়েছিল। এই ভাইরাসে আক্রান্ত যে কোন ব্যক্তির সাথে মেলামেশার মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়ায়। অন্যদিকে SARS-CoV ২০০৩ সালে এশিয়ায় বেশ কিছু অঞ্চলে মহামারী আকার ধারণ করেছিল। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপেও ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু মানুষ। আর বর্তমানে সারা বিশ^জুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো ভাইরাসের নাম COVID-19 । করোনার CO, ভাইরাসের VI, ডিজিসের D  এবং ২০১৯ সালে ভাইরাসটি প্রথম ধরা পড়ায় ১৯ নিয়ে হয়েছে COVID-19।

আপাতদৃষ্টিতে এই কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ সাধারণ সর্দি, কাশি, জ¦র, মাথা ব্যাথা ও গলাব্যাথার মতো হলেও এর আক্রমণে হতে পারে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা এবং অনেক অরগানগুলির বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা। এই ভাইরাসটি প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত রোগীর শরীরের যে জায়গাটিতে জায়গা করে নেয় তা হলো শ্বাসনালী বা গলা। সেখানে সে ডিম পেড়ে বংশবৃদ্ধিও ঘটাতে পারে এবং তখনই রোগী পুরোপুরি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশের Institute of Epidemiology, Disease Control and Research(IEDCR) বা ‘রোগতত্ত, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট’ এর মতে এ রোগের লক্ষণগুলো হল- ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ২-১৪ দিন লাগে; বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ জ¦র; এছাড়া শুকনো কাশি, গলা ব্যথা হতে পারে; শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে ;  অন্যান্য অসুস্থতা (ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, কিডনী সমস্যা, ক্যান্সার ইত্যাদি) থাকলে অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হতে পারে।

তাহলে এই ‘করোনা’ নামটি এলো কিভাবে? ‘করোনা’ নামটি এসেছে মূলত এর আকৃতির ওপর ভিত্তি করে। ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে দেখলে সারা গায়ে কাঁটার মতো খোঁচা খোঁচা অংশ দেখা যায়, যাকে বলা হয় আসলে ভাইরাল প্রোটিন। এই খোঁচাগুলো আসলে স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন যাদের প্রধান কাজ মানুষের শরীরে তাদের বন্ধু প্রোটিন খুঁজে নেওয়া। বাহক কোষের (Host Cell) প্রোটিনের সঙ্গে জুটি বেঁধেই এরা কোষের মধ্যে ঢুকতে সক্ষম। অর্থাৎ এই মুকুটের মতো খোঁচাগুলো অনেকটা চাবির কাজ করে, যার সাহায্যে তারা মানুষের শরীরের কোষে এন্ট্রি নিতে পারে। এই ভাইরাসটি দেখতে ক্রাউন বা মুকুটের মতো।  তাই এর নাম রাখা হয়েছে 'করোনা'(Corona), যা ল্যাটিন শব্দ ‘Coronam’ থেকে এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা World Health Organization (WHO) Gi g‡Z “Coronaviruses are a group of viruses belonging to the family of Coronaviridae, which infect both animals and humans. Human coronaviruses can cause mild disease similar to a common cold, while others cause more severe disease (such as MERS - Middle East Respiratory Syndrome and SARS – Severe Acute Respiratory Syndrome). A new coronavirus that previously has not been identified in humans emerged in Wuhan, China in December 2019.”
এই সংস্থার পক্ষেও এই ভাইরাসের কোন ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি । এই সংস্থার ভাষ্যমতে, “At this time, there are no specific vaccines or treatments for COVID-19. However, there are many ongoing clinical trials evaluating potential treatments. WHO will continue to provide updated information as soon as clinical findings become available?”

জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পশু ও মানুষ এই দুইয়ের শরীরেই হতে পারে এবং দু’ক্ষেত্রেই এই ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। দ্রæত একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে পরিবাহিত হতে সক্ষম এই ভাইরাসটি পশুদের শরীর থেকেও মানুষের শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। যদিও এমন সংক্রমণ খুব কম দেখা যায়। কিন্তু আমরা যদি অতীতের  SARS (Severe Acute Respiratory Syndrome) নামক করোনা ভাইরাসের কথা বলি তাহলে সেগুলো প্রথমেই কিন্তু এভাবেই সংক্রমিত হয়েছিল। যেমন MERS তথা Middle East Respiratory Syndrome নামক করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি ও সংক্রমণ শুরু হয়েছিল উটের শরীর থেকে। আবার ভাম বিড়ালের শরীরে উৎপত্তি হয়েছিল SARS তথা Severe Acute Respiratory Syndrome. 'COVID-19' তথা নভেল করোনাভাইরাসের উৎপত্তিও কোন না কোন পশুর শরীর থেকেই হয়েছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, কোন না কোন পশুর শরীর থেকেই মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয়েছে কোভিড-১৯ ভাইরাসটি। যদিও এমন ধারণা এখনো সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়। এ ব্যাপারে সারা বিশে^ চলছে আরও নিবিড় গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা । এই   নভেল করোনাভাইরাসের সঙ্গে SARS করোনাভাইরাসের কিছুটা সামঞ্জস্য দেখা গেলেও সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্য না থাকায় এটিকে ঝঅজঝ ভাইরাসও বলা যায় না। তাই করোনা ভাইরাসেরই এক প্রকার ভাইরাস এই 'COVID-19' এমন ধারণা নিয়েই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। তবে কখন, কোথায় এবং কিভাবে উৎপত্তি হয়েছিল এই প্রাণঘাতি 'COVID-19' ভাইরাসের, তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেনি এখনও। শুধু ভাইরাসটি সংক্রমিত হওয়ার পর যেভাবে জনসম্মুখে এসেছিল তার কিছু পটভূমি উল্লেখ করা যেতে পারে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে কিছু মানুষ অজানা কারণে নিমোনিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং আক্রান্ত রোগের প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়তে থাকলে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ প্রথমে WHO (World Health Organization) বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানানো হয়। তবে তার পর উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং (Li Wenliang) ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ তাঁর সহকর্মীদেরকে সংক্রমণ এড়াতে ‘'Wuhan University Clinical Medicine 2004’ নামক একটি WeChat গ্রুপে Ôsevere acute respiratory syndrome (SARS)' এর মতো একটি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এর সম্ভাব্যতা জানিয়ে একটি সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। প্রথমে লি চীনের CST ১৭:৪৩ সময়ে লিখেছিলেন “There are 7 confirmed cases of SARS at Human Seafood Market. They are being isolated in the emergency department of our hospital’s Houhu Hospital District.” সাথে রিপোর্টেও ছবি এবং ভিডিও আপলোড কওে দিয়েছিলেন । এর কিছুক্ষণ ঈঝঞ ১৮:৪২ সময়ে তিনি আরো লিখেছিলেন 'The latest news is, it has been confirmed that they are coronavirus infections, but the exact virus is being subtyped. Don't circulate the information outside of this group, tell your family and loved ones to take caution. In 1937, coronaviruses were first isolated from chicken...' এই ভাইরাসের তথ্যটি লি ওয়েনলিয়াং পেয়েছিলেন উহান সেন্ট্রাল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের পরিচালক অর ঋবহ এর হাতের একজন রোগীর রিপোর্ট থেকে। এই সতর্ক বার্তার খবর পেয়ে ২০২০ সালের ৩ জানুয়ারী উহান পুলিশ তাকে ‘ইন্টারনেটে মিথ্যা মন্তব্য করার’ জন্য তলব করে এমন মন্তব্য না করার পরামর্শ দেয়। তবে এই অদম্য চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং পরবর্তিতে ফিরে আসেন তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রমে। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, এই করোনা ভাইরাসটির তথ্য প্রদানকারী চিকিৎসকও হার মানতে বাধ্য হন 'COVID-19' নামক একটি কঠিন করোনা ভাইরাসের কাছে। ৮ জানুয়ারি একজন রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন তিনিও। ৩০ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে তাঁর শরীরে সনাক্ত হয় করোনা ভাইরাস কিন্তু ততক্ষণে চিকিৎসক পৌঁছে যান মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। জীবনযুদ্ধে করোনার নিকট হার মেনে ৭ ফেব্রæয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ২:৫৮ মিনিটে  চলে যেতে হয় তাঁকে। যে মানুষটি বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন চীনের কোটি কোটি মানুষ তথা সমস্ত মানব জাতিকে সে মানুষটির বিদায় নিতে হলো অসহায়ভাবে এই পৃথিবী থেকে। রেহাই পেল না চীনের অনেক মানুষও। কিভাবে যেন রাতারাতি ছড়িয়ে গেল উহান শহরের প্রায় পুরোটা জুড়ে।

এদিকে ১ জানুয়ারি ২০২০ উহানের সামুদ্রিক ও বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হয়। অর্থাৎ কোন এক প্রানী থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। বিশেষ করে চীনের উহান শহরের একটি বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তাদের মতে, ওই বাজারটিতে অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী বেচাকেনা হতো। যেমন- জ্যান্ত মুরগী, বাদুড়, ইদুর, খরগোশ, সাপসহ আরো নানা প্রজাতির প্রাণী। হয়তো এগুলোর কোন একটি থেকে নতুন এই করোনা ভাইরাস মানব শরীরে প্রবেশ করেছে । ৭ জানুয়ারি  চীনের বিজ্ঞানীরা নতুন এই ভাইরাসটির প্রথম রোগজীবানু শনাক্ত করতে সক্ষম হন এবং ৯ জানুয়ারি  করোনা ভাইরাসে প্রথম রোগীর মৃত্যু হয়। আর ২০ জানুয়ারি বেইজিং ও শেনজেনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর তথ্য নিশ্চিত করা হয়।  আবার 'COVID-19' এর উৎপত্তি নিয়ে সারা বিশ্বজুড়ে আলোচনারও শেষ নেই। এমনকি এই ভাইরাসের আক্রমণের বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবেও ব্যবহার করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন অনেক বৃহৎ শক্তিসম্পন্ন দেশগুলো। যেমন: ‘The Wahington Post’ 17 gvP© 2020'China and the U.S. blame each other for the coronavirus. But both countries made similar mistakes. শিরোনামে একটি খবর প্রচার করেছিল। যেখানে চীন ও আমেরিকার পরস্পর দোষারোপ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চীন করোনাভাইরাসটি উহানের মার্কিন সেনা সদস্যদের দ্বারা উদ্ভূত হয়েছিল বলে দোষারোপ  করার চেষ্টা করা হলেও এর কোন তথ্য প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনভাইরাসকে একটি ‘বিদেশী ভাইরাস’ ও 'Chinese Virus’ বলে অভিহিত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং চীন এ মানব বিধ্বংসী ভাইরাসটি হুবেই প্রদেশের একটি 'Bioweapons Lab' এ তৈরি করেছিল বলে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু উভয় দেশের এসব বক্তব্য তথ্য প্রমাণভিত্তিক নয় বিধায় অদ্যাবধি ভিত্তিহীন বলেই প্রচারিত হয়েছে।  শুধু তাই নয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর কার্যক্রমকেও চীনা পক্ষপাতদুষ্ট বলে দোষ চাপিয়ে ডোনেশন বন্ধ করে দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছিলেন।  

কিন্তু কোভিড-১৯ কারোর পারস্পরিক দোষারোপ নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট করেনি। সে অবিরাম ছুটে চলেছে এক দেশ থেকে আরেক দেশে দুরন্ত গতিতে। কোথাও কোথাও অনেক বড় স্বপ্নগুলোকে হত্যা করেছে নৃসংশভাবে। গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে মানব বিধ্বংসী এই ভাইরাসের এক দেশ থেকে আরেক দেশে বাহকের সংখ্যাও নিতান্ত কম নয়। এই পর্যন্ত বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে 'COVID-19' এ আক্রান্ত হওয়া দেশ ও অঞ্চলের সংখ্যা ২১০ টি। অর্থাৎ পৃথিবীতে যতগুলো স্বাধীন দেশ রয়েছে তার প্রায় সবগুলোতেই পৌঁছে গেছে এই ভাইরাস এবং বংশবিস্তার করেছে নিয়ন্ত্রনহীনভাবে। লক্ষাধিক মানুষকে এই ভাইরাসের নিকট পরাজয় বরণ করে বিদায় নিতে হয়েছে এই সুন্দর পৃথিবী থেকে। আক্রান্তের সংখ্যাও ভয়াবহ আকারে বাড়ছে।

চীনের উহান শহরে যখন করোনার ভয়ংকর পরিস্থিতি দেখা দেয় তখন চীনে বসবাসরত বাংলাদেশের অনেক প্রবাসী ও শিক্ষার্থী দেশে ফেরত আসলেও তাঁদের দেহে করোনা শনাক্ত হয়নি। তাই বলা যায় বাংলাদেশ সরকারেরও খুব বেশি টনক নড়েনি তখন। কেটে যায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস। কিন্তু ইউরোপের কয়েকটি দেশ যেমন- ইতালি, স্পেন, যুক্তরাজ্য এবং এশিয়ার ইরানের মতো কয়েকটি দেশে যখন 'COVID-19' মারাত্মক আকার ধারণ করে তখন ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা দলে দলে দেশে ফিরতে শুরু করে এবং দেশে ফেরার পর প্রশাসন হোম কোরাইনটাইনে থাকার পরামর্শ দিলেও অনেকেই মেনেছেন এবং অনেকেই মানেননি। তবে অধিকাংশই নির্দেশনা মানেননি বললেও ভুল হবেনা। কারণ অনেকেই তখন বিদেশ থেকে দেশে আসার পর দিব্ব্যি ঘুরে বেড়িয়েছিলেন বিভিন্ন জায়গায়। এতে ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বাংলাদেশে। ঠিক তখনই মার্চ মাসের প্রথম দিকে করোনা ভাইরাস পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ সফর করে প্রবেশ করে বাংলাদেশে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে শনাক্ত হয় করোনা ভাইরাস অর্থাৎ  'COVID-19'।  তখনই কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে সরকার। এমনকি বার বার বিশেষজ্ঞ মহল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ঘোষণা প্রদানের কথা উঠলেও আমলে নেয়নি। তার জন্য হাইকোর্টেও রিট করতে হয়েছে। যদিও পরবর্তিতে ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এমনকি দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় সাধারন ছুটির সময় বৃদ্ধির ঘোষণায় বর্তমানে সারা বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জরুরী সেবা ব্যতীত সকল সরকারী প্রতিষ্ঠান এবং পিপিই ও মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত সকল গার্মেন্টস বন্ধ থাকার কথা।

যাহোক, এরপর প্রথমদিকে খুব অল্প পরিমান রোগীর করোনা টেস্ট করা হলে আক্রান্তের সংখ্যাও খুব বেশি বাড়েনি। কিন্তু এপ্রিলের প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ালে 'COVID-19' আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে যায়। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় মৃতের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। তবে দেশের সরকার প্রধান বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের এক অনন্য প্রচেষ্টা বলা যেতে পারে। এমনকি ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মৌদির আহবানে বিগত ১৫ মার্চ ২০২০ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ প্রতিরোধে অভিন্ন কর্মকৌশল গ্রহণে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ভুক্ত দেশগুলোর নেতৃবৃন্দের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করে করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে তার স্বাস্থ্যজ্ঞান এবং এ সংক্রান্ত সরঞ্জাম ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে আমরা যেমন ভিডিও কনফারেন্স করছি, সার্কভুক্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্যসচিবরাও এমন ভিডিও কনফারেন্স করতে পারেন। সেই কনফারেন্সে প্রয়োজনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞও থাকতে পারেন। সার্ক অনুমোদন করলে বাংলাদেশে এমন প্রোগ্রাম আয়োজন করতে প্রস্তÍুত বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী । এই সম্মেলন করোনা মোকাবেলায় সবাইকে নতুন পথের দিশা দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। যা দেশবাসীর জন্য যেমন আশাব্যঞ্জক ছিল তেমনি সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য ছিল অনুপ্রেরণার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২৫ মার্চ দেশের ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২০’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে একটি ভাষণ প্রদান করেছিলেন। সেখানে তিনি সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা প্রদান করেছিলেন। সকল ধরণের পর্যটন এবং বিনোদন কেন্দ্র বন্ধসহ যেকোন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস ও গণপরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন এবং কাঁচাবাজার, খাবার ও ওষুধের দোকান এবং হাসপাতালসহ জরুরি সেবা কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার এবং বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেন। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ৫০০ চিকিৎসকের তালিকা তৈরি করেছে যাঁরা জনগণকে সেবা প্রদান করবেন বলে ঘেষণা প্রদান করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারংবার তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সারাদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীতে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের অর্থনীতিতে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রভাব মোকাবিলায় বেশ কিছু উদ্দীপনা প্যাকেজ সহ তাঁর সরকারের তরফ থেকে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার সার্বিক একটি আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে এমনকি তিনি চিকিৎসকদের জন্য প্রনোদনার ব্যবস্থা রাখারও ঘোষণা দেন । অর্থাৎ তিনি করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স ও সাস্থ্য সহকারীদেরকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করার উৎসাহ প্রদান করেন। আর তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরকে কেউ যেন অভূক্ত অবস্থায় না থাকে তার জন্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ওমমএস এর চাল প্রতি কেজি ১০ টাকায় বিক্রির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন এবং সামাজিক দূরত্ব অনুসরণ করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করেন। এছাড়াও তাঁর নির্দেশনা অনুসারে দেশের শিক্ষপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ সরকারী ছুটি এখনো চলমান । তিনি সমস্ত গণপরিবহন ও গার্মেন্টস (পিপিই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত) বন্ধ রাখারও নির্দেশ প্রদান করেন। আর জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সবাইকে অতি জরুরী ব্যতীত বাড়ি থেকে বের না হয়ে  নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করারও পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি কৃষিখাতেও প্রনোদনা প্রদানের ঘোষণা প্রদান করেছিলেন, যা কৃষকদেরকে উৎপাদনে অনেক উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগাবে। আর চিকিৎসাখাতে প্রনোদনা প্রদানের ব্যপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  যে ঘোষণা দিয়েছেন তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক এবং আমাদের চিকিৎসকদের অনুপ্রণিত করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ^াস। এভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর জায়গা থেকে করোনা মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অন্যান্য শ্রেণিপেশার মানুষ কি ভূমিকা পালন করছে করোনা মোকাবিলায় তা আমরা সকলেই দেখতে পাচ্ছি।

প্রথমেই যদি আমাদের প্রবাসী বা বিদেশ ফেরৎ বাংলাদেশীদের কর্মকান্ডের দিকে একটু নজর দিই তাহলে দেখতে পাব কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকেই অসচেতনতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তাঁরা, সেটা হোক শ্রমিক শ্রেণি আর হোক এলিট শ্রেণি। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায় যে, এই মানুষগুলোকে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারিন্টাইনে না রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিল কেন? তাই যদি করা হতো তাহলে হয়তোবা আমাদের পরিস্থিতি এতদূর নাও গড়াতে পারতো। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি ইতালিতে অনেক সংখ্যক লোক ততদিনে বিদায় নিয়েছে পৃথিবী থেকে।  আর অধিকাংশ লোক যেহেতু ইতালি থেকে আসা, সুতরাং স্বভাবত কারণেই ধরে নেওয়া উচিৎ ছিল যে তাঁদের মধ্যে কারো না কারোর শরীরে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ থাকবেই। তাছাড়া চীনের উহানে যখন হাজার হাজার লোক মারা গেলেন তখন কিঞ্চিৎ পরিমাণ টনক নড়লেও এমন ক্ষতির হাত থেকে হয়তো আমরা বেঁচে যেতে পারতাম। যাহোক, প্রথমদিকে সরকার বা প্রশাসনের এমন হালকাভাবে নেওয়ার যুক্তিকতা কতটুকু তা আসলেই প্রশ্নবিদ্ধ।  তবে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সত্যিই প্রশংসনীয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বর্তমানে গৃহীত পদক্ষেপগুলো জনমনে আশার আলো সঞ্চারিত করতে সমর্থ্য হয়েছে।

অন্যদিকে গার্মেন্টস মালিকরা মুনাফা লাভের আশায় কি করেছিলেন, তা দেখে সত্যিই পুরো দেশবাসী আর অবাক না হয়ে উপায় ছির না। এ কেমন সমন্বয়হীনতা অথবা এ কেমন দায়িত্বহীনতা যার দরুন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক গণপরিবহন বন্ধ থাকা সত্বেও নিজের আর্থিক উপার্জনের একমাত্র সম্বল চাকুরিটি বাঁচানোর জন্য কেউবা মালবাহী গাড়ীতে করে, কেউবা পায়ে হেটে কর্মস্থলমূখী হতে বাধ্য হল।  এত আমরা যে সামাজিক দুরত্বের কথা বলি, যে শারিরীক দুরত্বের কথা বলি তা কতটুকু পালিত হলো এবং এর জন্য দায়ী কে? আসলে প্রশ্নটি থেকেই যায়। গার্মেন্টস মালিকদের সারা জীবনের পুঁজিতে কি শ্রমিকদের একমাস বেতন প্রদান করা যেত না? কথাগুলো বলছি এই কারণে যে, এই সমন্বয়হীনতার কারণে যে পরিস্থিতি তৈরি হলো এতে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমানইতো বেশি হলো। যদিও অনেক চাপাচাপির ফলস্বরূপ আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি অনেক গার্মেন্টসই বন্ধ।

অসংখ্য ধন্যবাদ পাওয়ার অধিকার রাখে বর্তমানে দেশের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী ডাক্তার , নার্স ও প্যাথলজিস্ট সহ অন্যান্যরা, যাঁরা দেশের এমন ক্রান্তিলগ্নে কোভিড-১৯ এর কবল থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি প্রদানের যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যুগিয়ে যাচ্ছেন সাহস, দেখিয়ে যাচ্ছেন পৃথিবীতে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অসীম স্বপ্ন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন সেই যুদ্ধের ময়দানে সত্যিকারের এক একজন সেনাপতি এই ডাক্তার, নার্স, প্যাথলজিস্ট ও সাস্থ্যসহকারীসহ অন্যান্যরা। একদিকে এমন ডাক্তারদের ত্যাগ-তিতিক্ষা যেমন আমাদেরকে মানসিক সাহস যোগায় তেমনি সঞ্চারিত করে বুকভরা আশার আলো। তাই এই মহামারীর সময়ে সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া উচিৎ তাঁদের সুরক্ষার বিষয়টি। কারণ জেনে শুনে এই মারাত্মক ভাইরাসের সবচেয়ে কাছে যাচ্ছেন তাঁরা। অনেক ঝুঁকি উপেক্ষা করে এগিয়ে এসেছেন তাঁরা।  তাঁরা সুরক্ষিত থাকলে চিকিৎসা সেবা চলমান থাকবে এবং চিকিৎসা সেবা চলমান থাকলে করোনা ভাইরাস আক্রমণ মোকাবিলা সম্ভব হবে। আবার অন্যদিকে যখন দেখি ঢাকার হাসপাতালগুলোর দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে চিকিৎসা নাপেয়ে এই সুন্দর পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিতে হয় সুমনের মতো মেধাবী ছাত্রের তখন খুব আশাহত হই। মাথার উপর ভেঙ্গে পরে বিশাল আকাশ, অসহায়ত্ব জেগে উঠে বারংবার। এ বুঝি সত্যিই অকাল নেমে এলো পৃথিবীতে। এগুলোর কারণ অনুসন্ধানে দেখি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদের নিরাপত্তাহীনতাবোধই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তাছাড়া কিছু কিছু ডাক্তার আছেন যারা পেশাগত দায়িত্ব থেকে সরে বেরিয়ে এসে অতি নিরাপদ জীবন খুঁজতে গিয়ে নিজেকে, সমাজকে এবং দেশকে আরো সংকটের দিকে ফেলে দেন। তাঁরা নিজেরাও জানেননা যে, একজন করোনায় আক্রান্ত রোগীকে যদি সুস্থ করে তোলা না হয় অতবা সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা না হয়, তাহলে ঐ রোগী আরো অনেকজনকে সংক্রমিত করবে, আক্রান্ত করবে পরিবারকে, আক্রান্ত করবে সমাজকে এবং আক্রান্ত করবে পুরো দেশকে। হয়তোবা স্বার্থপরতার মতো ভাবতে পারেন নিজে চিকিৎসা না করলে বোধহয় বেঁচে গেলাম বা ঝুঁকিমুক্ত হলাম। আসলে যেমনটি ভাবেন মুক্তি পাওয়ার উপায় সেটি নয় কারণ দেশে যদি একটি করোনায় আক্রান্ত রোগী থাকে তাহলে সেও দেশের জন্য বিপদজনক। তাই তাকে সুস্থ করে তোলাটাই জরুরী নয় কি? হয়তোবা ভয় আর আতঙ্কেও জায়গা থেকে চিকিৎসক দের এমন চিন্তা মাথায় আসতে পারে। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে নামার আগেই যদি আমরা পরাজয় মেনে নিই তাহলে এ কেমন যোদ্ধা হলাম আমরা। আর ঐসব কিছু কিছু চিকিৎসকের কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদেরও হতে হয় সমালোচনার শিকার। তাই এমন দুর্যোগের সময় রোগীদের এড়িয়ে চলাটা সমাধান নয়। বরং সেল্ফ প্রোটেকশন যা যা দরকার তা নিয়ে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সম্মুখ সমরে অবতীর্ন হওয়াটা অনেক বেশি জরুরী। তবে শুধু করোনায় আক্রান্ত রোগী নয় অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীরাও যেন সঠিক চিকিৎসা পায় তা তার ব্যবস্থাও আপনারাই করার সামর্থ্য রাখেন।  কারণ পৃথিবীতে সৃষ্টিকর্তা মানুষ নামক যে প্রানীর সৃষ্টি করেছেন তাদের রোগ-ব্যাধির সরানো এবং জরুরী মুহূর্তে বাঁচিয়ে রাখার কাজটা আপনারাই পারেন। আপনাদের হাল ছেড়ে দেওয়া মানেই পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার সামিল।  

অন্যদিকে গেøাবালাইজেশনের যুগে পুরো বিশে^র অর্থনীতিও একে অপরের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিশ^ব্যাপী কোভিড-১৯ যেভাবে হানা দিচ্ছে এতে স্থবির হয়ে আছে পুরো বিশে^র জনজীবন। উৎপাদন ব্যবস্থায়ও পড়েছে ভাটা। তাই উৎপাদন যেভাবে থেমে আছে তা থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে কম বেশি অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিবেই। অর্থনীতির চাকাটি যখন তার নিয়ম অনুযায়ী ঘুরার সুযোগ পায়না তখন চাকার একটি অংশের উপর চাপ বেশি পড়ে যায়। আর ঐ অংশের উপর চাপ বেশি পড়া মানেই আতিরিক্ত অংশটি ক্ষয় হয়ে যাওয়া। যা বিশে^র সমস্ত দেশের অর্থনীতিকে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রস্তুততো? হ্যাঁ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এজন্য কৃষিখাতের উপর বেশি জোড় দিয়েছেন। যেহেতু আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান দেশ সুতরাং কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনের কোন বিকল্প উপায় বর্তমানে নেই। তিনি এখাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা দিয়ে উৎপাদন ব্যবস্থাকে অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।  তবে শুধু উৎপাদন করলেই হবে না সাথে বাজার সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তাও কোন অংশে কম নয়। কারণ বাজার না থাকলে উৎপাদনকারী উৎপাদনে খুব বেশি উৎসাহিত হবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া দেশের সকল মানুষ কৃষি কাজের সাথে জড়িত নয়। তাই অনেক সংকটের মধ্যেও আমাদেরকে ভাবতে হবে কৃষি উৎপাদন নিয়ে এবং বাজার সৃষ্টির ব্যাপারে। সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নিতে হবে করোনা সংকট পরবর্তী বৈশি^ক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলার জন্য।

দেশের করোনা সংকটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ন বিষয় ত্রাণ বিতরণ ও গ্রহণ নিয়ে। বর্তমানে দেশের শ্রমজীবি শ্রেণির মানুষেরা যেভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে এতে ত্রাণের প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই থেকেই যায়। এক্ষেত্রে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগ ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হলেও রয়েছে যথেষ্ট অপ্রতুলতা এবং বন্টনে সমন্বয়হীনতা। আর পত্রিকা খুললেই যখন চোখে পড়ে ‘করোনা দুর্যোগেও চাল চুরি বন্ধ হচ্ছে না’ এমন শিরোনামের কিছু খবর তখন ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িতদের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে। এমন দুর্যোগের সময়ও যারা রক্ষক তারা ভক্ষকের ভূমিকা পালন করতে পারে। যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। তাই প্রথমত, সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে ত্রাণের পরিমাণ আরো বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ‘দেশে কেউ যেন না খেয়ে না থাকে’। এই দুর্যোগের সময় যদি একটু খাবার ভাগাভাগি করে একে অপরকে বাঁচানোর চেষ্টা করি তাহলে আমাদেরকে করোনা কখনোই দুর্ভিক্ষের কবলে ফেলতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, যথাযথ সমন্বয় সাধন পূর্বক এই ত্রাণগুলো বন্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোন আত্মসাৎকারীকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়াটা ঠিক হবে না। কারণ এমন দুর্যোগের সময়ও যাঁরা এমন ঘৃণ্যতম কাজ করতে পারে তাঁদেরকে দেশের শত্রæ বলতেও কোন দ্বিধা নেই আমার। তাই যাতে ত্রাণগুলো সঠিক সময়ে যেন সঠিক মানুষের কাছে পুরোপুরি পৌঁছায় তার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় দেশে দুর্ভিক্ষের কালো থাবা পড়তে পারে এবং অনিয়ন্ত্রতভাবে বাড়তে পারে সামাজিক অবক্ষয়।  

আর যাই করি না কেন যেন ভুলে না যাই, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় World Health Organization (WHO) কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিধি এবং দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৩ টি গাইডলাইন বা Institute of Epidemiology, Disease Control and Research(IEDCR) বা ‘রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট’ কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিধিগুলো। কেন না এ রোগের যেহেতু কোন প্রতিষেধক এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি সেহেতু নিজেকে কোভিড-১৯ ভাইরাস এর আক্রমণ থেকে যেভাবেই হোক রক্ষা করাটা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করা, সামাজিক ও শারিরীক দুরত্ব অনুসরণ করা, বার বার হাত ধোয়া, নিতান্ত প্রয়োজনে বাইরে বের হলে মাস্ক পরিধান করা, জ¦র, সর্দি, কাশি বা গলা ব্যথা হলে বাড়িতে হোম কোয়ারিনটাইন মেনে চিকিৎসা নেওয়া অথবা হটলাইনগুলোতে ফোন করা ইত্যাদি বিষয়গুলো। মনে রাখতে হবে আমাদের সুরক্ষা বা নিরাপত্তা এখন একান্ত আমাদের হাতেই। কারণ কোন অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা বা চিকিৎসার বিনিময়ে সংক্রমিত রোগীর জীবন যে সবসময় রক্ষা করা যায় এমনটা নয়। কেননা আমরা দেখেছি অনেক বিখ্যাত ও রাজ পরিবারের মানুষও কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা পায়নি। বিদায় নিতে হয়েছে  অসহায়ভাবে। আর আমাদের সরকার, প্রশাসন ও স্বাস্থ্যবিভাগ যে ‘লকডাউন’ এর কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তা যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় এজন্য সরকার ও প্রশাসনকেও আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। কারণ এটি আমাদের সুরক্ষার জন্যই করা হয়েছে।  প্রাতিষ্ঠানিক বা হোম ‘কোয়ারিনটাইন’ এর  নীতিমালাগুলো অনুসরণপূর্বক আমাদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে সবসময়।  আর আহবান জানাতে চাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে যথাসম্ভব বেশি বেশি কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার জন্য। কারণ যত বেশি পরীক্ষা হবে তত বেশি দেশের সংক্রমণের হিসাব আমরা বুঝতে পারব আর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারর। এই করোনা ভাইরাস এই পর্যন্ত(১৩ এপ্রিল, ২০২০) বাংলাদেশে আক্রান্ত করেছে ৮০৩ জনকে এবং কেড়ে নিয়েছে ৩৯ জনের প্রাণ। এই ভাইরাস বা COVID19 সারা বিশ্বজুড়ে আমাদের অনেক ক্ষতি করে যাচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। পুরো মানব জাতিই তার কাছে আজ অসহায়। কেড়ে নিয়েছে অনেক মানুষের প্রাণ। যা কখনোই আর ফিরে পাওয়ার নয়। আক্রান্ত করেছে লক্ষ লক্ষ মানুষকে। যাদের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিৎ। তবুও পরাজয় মেনে না নিয়ে বিশ্ব চালিয়ে যাচ্ছে আপ্রাণ যুদ্ধ। তবে এই ভাইরাস আমাদেরকে কোন শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে কী?  এর হিসাব যদি খাতায় লিপিবদ্ধ করি তাও কোন অংশে কম হবে না। কারণ সারা পৃথিবীতে যেসব অনিয়ম চলে আসছিল তার অনেক কিছুই সাময়িক সময়ের জন্য হলেও বন্ধ করে দিয়েছে এই করোনা ভাইরাস। যেমন: প্রথমত, পরিবেশের দিকে একটু নজর দেওয়া যাক। এই ভাইরাস পৃথিবীর ভারসাম্যহীন পরিবেশকে নিয়ে এসেছে একটি ভারসাম্যের মধ্যে। আমরা বৈশি^ক ঊষ্ণতা ও জলবায়ুর পরিবর্তনের কথা জানি। মনুষ্যসৃষ্ট কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং সালফারের অন্যান্য অক্সাইডসমূহ, নাইট্রিক অক্সাইড, ক্লোরোফ্লুওরো কার্বন ইত্যাদি গ্রীনহাউস গ্যাসগুলি পৃথিবীর স্থান থেকে তাপ বিকিরণ করে। এই তাপ, ইনফ্রারেড বিকিরণ রূপে, গ্রহের বায়ুমন্ডলে এই গ্যাসগুলি দ্বারা শোষিত এবং নির্গত হয় ফলে নিম্ন বায়ুমন্ডল এবং ভূপৃষ্ঠকে উষ্ণ করে। ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে। এই জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বিপর্যয় ঘটে পরিবেশের। বাড়তে পারে সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও। এখানে একটা বিষয় পরিস্কার যে, মানুষই এই ক্ষতিকর গ্যাসগুলো বিভিন্নভাবে সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁদের নিজেদের ক্ষতি নিজেরা ডেকে আনছে। এই করোনা ভাইরাসের আক্রমণের ফলে বর্তমানে সারা বিশে^ মিল, কল-কারখানা, যানবাহন ইত্যাদি বন্ধু থাকায় এই গ্যাসগুলো নিসরণ হতে পারছেনা। এতে করে জলবায়ুর ইতিবাচক পরিবর্তন কি দেখার সম্ভাবনা আমরা আশা করতে পারিনা? এছাড়াও আমরা দেখেছি কক্সবাজারের সমূদ্র সৈকটের চিত্র। সারা বছর পর্যটকদের ভীড় থাকার কারণে একটি প্রাকৃতিক সমূদ্রসৈকটের চিত্র দেখতে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে করোনা ভাইরাসের আক্রমণের সময় পর্যন্ত। পরিবেশের কি এক সজীবতা। ডলফিনগুলোর দাপিয়ে বেড়ানো দেখে মনে হয় যেন ফিরে পেয়েছে নিজেদের স্বাধীন রাজ্য। আর লাল কাঁকড়াগুলোতো পুরো সৈকটের রংটিই পাল্টিয়ে দিল। আবার বিভিন্ন পাখিদের আগমন দেখে মনে হয় এ যেন অন্যরকম এক সমূদ্র সৈকট আমরা দেখলাম। যা অতীত ইতিহাসে কখন হয়েছিল তা জানা নেই। পরিবেশের ক্ষেত্রে এমন আরো উদাহরণ খুঁজলে পাওয়া যাবে অহরহ উদাহরণ যা থেকে আমাদের অবশ্যই শিখার অনেক কিছুই রয়েছে। দ্বিতীয়ত, মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতেও অনেক ভূমিকা রেখেছে এই করোন ভাইরাস। কেননা, বিশে^র মানুষ যখন ছোট-বড় বিভিন্ন দ্ব›দ্ব সংঘাতে লিপ্ত ঠিক তখনই করোনার আক্রমণে সব দ্ব›দ্ব সংঘাত ভুলে গিয়ে করোনা মোকাবিলায় বিশ^ ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এখন বৃহৎ শক্তিসম্পন্ন দেশগুলোও হিমসিম খাচ্ছে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়। আবার দেশের অভ্যন্তরের কিছু চিত্র আমাদেরকে যথেষ্ট ভাবিয়ে তোলে। বিত্তশালীরাও এগিয়ে এসেছে খেতে খাওয়া মানুষের জন্য দু’মুঠো আহার যোগানোর কার্যক্রমে। বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ-সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে তারা। যে চিত্রগুলো আমরা অতীতে খুবই কম দেখেছি। যাহোক, এই দুর্যোগ হয়তোবা মানব জাতির জন্য একটি বড় ধরণের শিক্ষাও হতে পারে। কারণ প্রকৃতিকে তার নিয়মেই চলতে দিতে হয়। তার কোন নিয়মে যদি কোন ব্যাতিক্রম ঘটে তাহলে সেও একদিন প্রতিবাদী হয়ে উঠে। এই শিক্ষা থেকেই দৃঢ় মনোবল নিয়ে যত দ্রæত সম্ভব কোভিড-১৯ মোকাবিলা করে গড়ে তুলতে চাই আগামীর ভয় ও আতঙ্কবিহীন একটি সুন্দর পৃথিবী, যেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে নির্বিগ্নে জীবনের গতি চালিয়ে নেওয়ার অফুরন্ত সাহস এবং সুখ ও সমৃদ্ধিতে বেঁচে থাকার এক আকাশছৌঁয়া স্বপ্ন।  

লেখক: শিক্ষক, লেখক ও মুক্ত গবেষক।

 

এই বিভাগের আরো খবর