Berger Paint

ঢাকা, সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ আবারও পেছালো যে কোনো মূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীর ফের রিমান্ডে ৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি এসএসসিতে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ সাংহাইয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ

কঠিন বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বগুড়ার ভূমিকা

মোঃ রায়হানুল হক লিমন

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২২  

মোঃ রায়হানুল হক লিমন

মোঃ রায়হানুল হক লিমন



ভ্যতার উন্নতির সাথে সাথে বেড়ে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রার মান সেই সাথে সহজতর হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন । এর সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের ব্যবহার্য্য দ্রব্যাদির । পরিশেষে এসব ব্যবহার্য অনেক জিনিস আর ব্যবহার উপযোগী থাকে না। সেগুলো আমরা অব্যবহারযোগ্য বা অদরকারি বলে ফেলে দেই। আমরা যে জিনিসপত্রগুলো বর্জন করি বা ফেলে দেই তাই হচ্ছে বর্জ্য। বর্জ্য মানুষের জন্য একটি জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেকেই বিভিন্ন মাত্রা এবং পরিমাণে বর্জ্য উৎপন্ন করে। এই ফেলে দেওয়া বর্জ্যের মাঝে যে সকল বর্জ্য কঠিন প্রকৃতির বা প্রায় কঠিন প্রকৃতির  সেগুলোকে বলা হয় কঠিন বর্জ্য।  বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, পৃথিবীতে প্রতিবছর ২.০১ বিলিয়ন টন কঠিন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। ২০৫০ সালে এর পরিমাণ ৩.৪০ বিলিয়ন টনে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে উৎপাদিত কঠিন বর্জ্যের প্রায় ৪০ শতাংশই পরিবেশবান্ধবভাবে ব্যবস্থা করা হয় না। বিশ্বব্যাপী একজন মানুষ গড়ে প্রতিদিন ০.৭৪ কিলোগ্রাম কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন করে। যেখানে উৎপাদিত বর্জ্যের প্রায় ৩৫ শতাংশই আসে উন্নত দেশসমূহ থেকে, যা ২০৫০ সাল পর্যন্ত আরো ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। মধ্যম আয়ের এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ক্ষেত্রে যা ৪০ শতাংশ হতে পারে।বাংলাদেশ দৈনিক প্রায় ৩৭০০০ টন কঠিন বর্জ্য উৎপাদন করে, যা ২০২৫ সালে ৪৭,০৬৪ টন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১২ সালে দেশে মোট উৎপাদিত বর্জ্যরে পরিমাণ ছিল ২২.৪ মিলিয়ন টন। প্রতিদিন শুধু পৌর এলাকায় ২৫০০০ টন কঠিন বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যা মাথাপিছু ১৭০ কেজি।

 

শিল্প বিপ্লবের শুরু থেকেই শিল্প খাত হতে আগত কঠিন বর্জ্যের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মাঝে ধাতব পদার্থ, গ্লুকোজ, ছাই, পেপার ও পেপারজাত পণ্য, কাপড় বা ন্যাকড়া, টায়ার, টিউব, পাইপ ইত্যাদি কিন্তু এর উৎপাদন সম্পর্কিত সঠিক ধারণা থাকলে এই সমস্যার উত্তম সমাধানের পাশাপাশি কঠিন বর্জ্য থেকে আসতে পারে সম্ভাবনার পথ। এই বর্জ্য সমস্যা মোকাবেলার একটি সর্বোত্তম উপায় হল আমাদের বর্জ্য উৎপাদন কমানো এবং একইসাথে এর যথাযথ ব্যবস্থাপনা । স্থলভূমিগুলির কিছু জঞ্জাল যা তাদের ক্ষয় প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে দীর্ঘ সময়ের জন্য জমা থাকে, তা অতি সহজেই তৈরি করতে পারে বায়োগ্যাস। এটি বর্জ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার, যেহেতু এই বায়োগ্যাসে প্রচুর পরিমাণে শক্তি রয়েছে যা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ব্যবহার করা যেতে পারে । পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে গত ২৩ ডিসেম্বর ‘কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা- ২০২১’ নামে একটি গেজেট জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা বাস্তবায়নে জনবল ও আর্থিকসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলেই এ বিধিমালার সুফল পাওয়া যাবে। চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা না থাকা, জনবল স্বল্পতা, কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন জনবলের অভাব, আর্থিক (বাজেট), স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন না করা, বিভিন্ন স্টকহোল্ডারদের সঙ্গে (মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসহ) সমন্বয়হীনতাকে চিহ্নিত করা হয়।

 

পরীক্ষা করে দেখা গেছে উৎপাদিত বর্জ্যের মধ্যে ১৫ ভাগ প্লাস্টিক আবর্জনা, ৬৫ ভাগ জৈব আবর্জনা ও ২০ ভাগ বিবিধ আবর্জনা রয়েছে। সবচেয়ে বিস্তর অংশ জৈব আবর্জনা থেকে তৈরি হতে পারে বায়োগ্যাস, উচ্ছিষ্ট অংশ থেকে তৈরি হতে পারে  জৈব সার এবং বায়োগ্যাস রূপান্তর করা যেতে পারে সিএনজিতে যা পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হবে, অন্যদিকে জৈব সার ব্যবহার হতে পারে আবাদি জমিতে যা মাটির গুনাগুন বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখতে পারে। বায়োগ্যাস হচ্ছে, পচনশীল জৈব পদার্থ যেমন গোবর বা ডিম পাড়া মুরগীর বিষ্ঠা থেকে উৎপাদিত এক প্রকার দাহ্য গ্যাস। যখন গোবর বা বিষ্ঠা পানির সাথে মিশিয়ে বায়ো-ডাইজেস্টারে বায়ুনিরুদ্ধ অবস্থায় উপযুক্ত তাপমাত্রায় রাখা হয় তখন। অনুজীব এর ক্রিয়ার ফলে গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই গ্যাস রান্নার জন্য খুবই কার্যকর। এই বায়োগ্যাস দুই ভাবে উৎপন্ন করা যায় একটি পাইরোলাইসিস ও অপরটি গ্যাসিফিকেশন । বিভিন্ন ধরণের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থাকলেও বাংলাদেশে মূলত ফিক্সড ডোম বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং ভাসমান ডোম বায়োগ্যাস প্লান্টই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এজন্য, প্রথমে খামারের পাশে বা সুবিধামত স্থানে মাটির নিচে একটি ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়। ট্যাঙ্কের উপরের দিকে থাকে একটি গোলাকার পাত্র যেখানে গোবর বা কাঁচামাল ফেলা হয়। ঐ পাত্রের সঙ্গে পাইপ সাহায্যে ট্যঙ্কের সংযোগ করিয়ে দেয়া হয়। তার পাশে থাকে আরেকটি হাউস। এ হাউসের সঙ্গেও ট্যাঙ্কের সংযোগ থাকে। ট্যাঙ্কে গ্যাস জমা হয় যা পরবর্তিতে পাইপ লাইন দিয়ে চুলার সাথে যুক্ত করা হয় অথবা একটি চেম্বারে জমা করা হয়। দ্বিতীয় হাউসটিতে জমা হয় বায়োগ্যাসের স্যালারি বা বর্জ্য। এ স্যালারি পরবর্তীতে সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

 

বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা বিশ্বব্যাপী এবং বিশেষত বাংলাদেশের মত অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে একটি গুরুতর সমস্যা। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃহৎ পরিমাণে কঠিন বর্জ্য তৈরির জন্য দায়ী এবং যথাযথ ব্যাবস্থাপনার অভাবে গুরুতর সমস্যা তৈরি হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জযুক্ত। কারণ কঠিন বর্জ্য নিষ্পত্তি করার জন্য ডাম্প এবং ল্যান্ডফিলগুলো সাধারণ পছন্দ। তবে এগুলো সবচেয়ে সস্তা বিকল্প। কঠিন বর্জ্যের নিষ্পত্তির জন্য বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি। বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রথম বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এর নন ব্যাংক ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন হিসেবে ইডকল বায়োগ্যাস সেক্টরে বিনিয়োগ করে থাকে । দেশের জ্বালানী শক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানী শক্তির বিকল্প ব্যবহারের লক্ষ্যে ২০০২ সালে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া একাডেমী ক্যাম্পাসে ২টি বৃহৎ বায়োগ্যাস প্লান্ট (১৩০ ঘন মিটার) স্থাপন করা হয়। যা দেশের সকলের জন্যে অনুকরণীয় হয়ে আছে কারন উক্ত প্লান্টের মাধ্যমে একাডেমীর সকল বর্জ্য নিয়ন্ত্রণসহ ক্যাম্পাসে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে বায়োগ্যাস ও উন্নতমানের জৈব সার উৎপাদন করা হয়। একইভাবে যদি দেশের সকল প্রতিষ্ঠান বা এলাকার বর্জ্য নিয়ন্ত্রনে আনা যায় তবে তা থেকে নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব। যে সকল কঠিন বর্জ্য আমরা যত্রতত্র ফেলে রাখি অথবা পরিবেশ দূষন করি সেগুলোকেই কাজে লাগিয়ে তৈরি করা সম্ভব বায়োগ্যাস সেইসাথে বাইপ্রডাক্ট হিসেবে উৎপন্ন হবে সার যা ব্যবহারে কমানো সম্ভব নানাবিধ পরিবেশ দূষণ ও সমস্যা। পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া ক্যাম্পাসের মত দেশের সকল জায়গায় এরকম প্রকল্পের আওতাধীনতায় গড়ে উঠতে পারে একটি সুন্দর পরিবেশ ।এই চিন্তাধারা এবং তার  ধারাবাহিকতায় বর্তমানে গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে গড়ে উঠেছে বায়োগ্যাস প্লান্ট যার সব থেকে বড় অনুপ্রেরনা হিসেবে কাজ করেছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া । আরডিএ, বগুড়া প্রায় এক দশক ধরে পল্লী মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে দেশের Solid Waste Management, নবায়নযোগ্য জ্বালানী তথা কমিউনিটি ভিত্তিক বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং দারিদ্র বিমোচনের উপর বিভিন্ন পরিবেশ বান্ধব মডেল উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), GIZ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত সারাদেশে সর্বমোট ৭৬,৭৭১ টি বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য কিছু সক্রিয় কর্মসূচী ও প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখ্য যে বায়ো গ্যাস উৎপাদন পরিবারিক না হয়ে একটা কমিউনিটি হলে সকলস্তরের মানুষ সেটা ব্যবহার করতে পারে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বায়োগ্যাস উৎপাদন খুলে দিয়েছে নানা সম্ভববনার দ্বার ।এলাকা বা গ্রাম কেন্দ্রিক এ ব্যবস্থায় আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া সম্তব। পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া একাডেমী প্লান্টের মাধ্যমে একাডেমীর সকল বর্জ্য নিয়ন্ত্রণসহ ক্যাম্পাসে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উন্নতমানের জৈব সার উৎপাদন করা হয়। ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির ফলে খাদ্য উৎপাদন বহুলাংশে বৃদ্ধি হচ্ছে, সেই সাথে কমে যাচ্ছে নানাবিধ খরচ।  আরডিএ, বগুড়া এ সকল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একাডেমী ক্যাম্পাসে বায়োগ্যাস প্লান্ট এবং নির্মিত বিভিন্ন ভবনের সেপ্টিকট্যাংক বায়োগ্যাস প্লান্টের উপযোগী করে বিনির্মাণ করায় আরডিএ ক্যাম্পাস Zero Waste Campus  গ্রীন ও ক্লীন ক্যাম্পাসে পরিনত হয়েছে। ঠিক একইভাবে চারপাশের পরিবেশ হচ্ছে দূষণ মুক্ত যা মানুষকে আরো বেশি আগ্রহী করে তুলছে বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরিতে। বিষয়টি দ্বারা দেশী-বিদেশী বিভিন্ন পর্যায়ের নীতি নির্ধারক, গবেষক, দর্শনার্থী, প্রশিক্ষণার্থীগণ উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও এলাকায় বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের সবুজ মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পরিবেশ উন্নয়নে বর্জ্যকে ব্যবহার করে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, বগুড়া’র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সাফল্য :

#    বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর।
#    পারিবারিক পর্যায়ের প্রচলিত বায়োগ্যাস প্লান্টের পরিবর্তে কমিউনিটি ভিত্তিক বায়োগ্যাস মডেল উদ্ভাবন।
#    শুধু দুধ ও মাংসের জন্য খামার লাভজনক নয় বরং বর্জ্যকে বায়োগ্যাস ও জৈবসারে রূপান্তরের মাধ্যমে গবাদিপশুর খামার লাভজনক করা সম্ভব হয়েছে।
#    মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস ও জৈব সারের যোগান নিশ্চিত করণে মডেলটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
#    গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমন রোধকল্পে মডেলটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
#    সিলিন্ডারে বোতলজাতকরণসহ পরীক্ষামূলকভাবে বায়োগ্যাসকে সিএনজিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে।
#    স্থানীয় পর্যায়ে নবায়যোগ্য জ্বালানী শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ায় এলপিজি গ্যাস আমদানীতে বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয়ে মডেলটি সহায়ক ভূমিকা রাখছে।  

 

উন্নতমানের জৈবসার উৎপাদন ও জমিতে প্রয়োগের মাধ্যমে মাটিতে জৈব পদার্থের ঘাটতি পূরণে সহায়তাকরণ ও পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রীণহাউজ গ্যাসের ক্ষতিকারক প্রভাবকে কমিয়ে নিয়ে আসার উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে পল্লী জৈবসার ও বায়োগ্যাস ইউনিটের যাত্রা শুরু। বিভিন্ন ইউনিটের চাহিদাভিত্তিক কাঁচা গোবর ও শুকনা গোবর সরবরাহ করা, একাডেমীর বিভিন্ন বাসাবাড়ীতে নিয়মিত বায়োগ্যাস সরবরাহকরণ, বায়োস্লারী শুকিয়ে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বাজারজাতকরণ এ ইউনিটের কাজ। এই কার্যক্রমের আওতায় সেপ্টেম্বর ২০১৯ হতে নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত নীট আয় ১.২৮লক্ষ টাকা ।

 

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বর্জ্য সমস্যা হতে উত্তরণের সহজ এবং কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে কঠিন বর্জ্যকে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বায়ু গ্যাস ও উন্নতমানের জৈব সারে রূপান্তর করা সময়োপযোগী পদক্ষেপ। শুধুমাত্র দুধ ও মাংসের জন্য গবাদিপশু নয় বরং গবাদি পশুর বর্জ্য হতে বায়ু গ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন করে জ্বালানি খরচ হ্রাস  এবং কৃষি জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে কঠিন বর্জ্যকে প্রক্রিয়াকরণ দ্বারা ব্যবহার উপযোগী করতে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী বগুড়া, প্রতিনিয়ত কাজ করে চলছে। পরিবেশের জন্য কঠিন বর্জ্য হুমকিস্বরূপ। সঠিক ব্যবস্থাপনা ছাড়াই কঠিন বর্জ্য নষ্ট করছে পরিবেশ, উৎপন্ন করছে বিভিন্ন রোগ জীবাণু।  ড্রেন, খাল, নদী-নালায় আটকে তৈরি করছে জলাবদ্ধতা।কিছু কিছু কঠিন বর্জ্য হতে উৎপন্ন হচ্ছে দুর্গন্ধ, বিকিরিত হচ্ছে তেজস্ক্রিয় রশ্মি, যা পরিবেশ এবং মানবদেহ উভয়ের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এ সকল সমস্যার জন্য দায়ী কঠিন বর্জ্য। আরডিএ, বগুড়া কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত উন্নত আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে । এ লক্ষ্যে "পল্লী জনপদ " নামক যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে সেখানে পল্লী বাসি একত্রে বসবাসের গ্রোথ সেন্টার পর্যায়ে স্বল্প ব্যয়ে চার তলা বিশিষ্ট সাতটি পল্লী হাউজিং নির্মাণ, দুইতলা বিশিষ্ট সাতটি ক্যাটেল,পোল্ট্রি সেড নির্মাণ এবং এসকল স্থানের বর্জ্য বায়োগ্যাস প্লান্টে ইনপুট হিসাবে ব্যবহারে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তির উৎস হিসেবে কমিউনিটি ভিত্তিক বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন, বর্জ্য মুক্ত বহুতল আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ ও মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নে জৈব সার উৎপাদন এবং এগুলোর মাধ্যমে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করা এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ সমস্ত কর্মকান্ডের আলোকে সহজেই প্রতীয়মান যে, আরডিএ কঠিন বর্জ্য হতে বায়োগ্যাস তৈরীতে গবেষণাধর্মী কর্মপ্রয়াস এবং নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বহুমাত্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে।

 

শিক্ষার্থী
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ

 

এই বিভাগের আরো খবর