Berger Paint

ঢাকা, বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২০ ১৪২৭

ব্রেকিং:
হত্যার দায় সিনহা ও সিফাতের ওপর চাপিয়েছে পুলিশ ইতালিতে প্রবেশের অপেক্ষায় হাজারও বাংলাদেশি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আভাস বিশ্বে করোনায় মৃত ৬ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি একদিনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ১১ শিশুর
সর্বশেষ:
তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে : আবহাওয়া অধিদপ্তর কুমিল্লার সাবেক এমপি এটিএম আলমগীরের ইন্তেকাল এবার সীমান্ত ঘেঁষে হেলিপ্যাডের কাজ শুরু করল নেপাল, আরও চাপে ভারত রাজধানীতে ঢুকছে বন্যার পানি, অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

করোনা ও বন্যায় ঈদ আনন্দ নেই কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের

খাজা ময়েনউদ্দিন চিশতি, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২০  

পঠিত: ৫৫
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

  

সম্প্রতি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় কুড়িগ্রামের সাবিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে ঘর-বাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যা দুর্গত প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের। করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি বন্যায় কর্মহীন হয়ে পড়া এসব মানুষেরা খেয়ে না খেয়ে দিন পাড় করছে। যারা ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়ে কষ্টে দিন যাপন করছে তারাও ঘরে ফিরতে পারছে না। বন্যায় নদী ভাঙ্গনে  ভেসে গেছে দুই হাজারেরও বেশি পরিবারের ঘর-বাড়ি।

খাদ্য সংকটের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও গোবাদি পশুর খাদ্য চরম আকার ধারন করেছে। এ অবস্থায় ঈদের আনন্দ মলিন হয়ে গেছে জেলার প্রায় ৪ শতাধিক চরাঞ্চলের বন্যা দুর্গত মানুষের।

সদর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার গারুহারা চরের তোফাজ্জল হোসেন জানান, আমরা দিনমজুরের কাজ করে কোন রকমে পেট চালাই। করোনার কারনে আর বন্যায় একেবারের বসে থাকা ছাড়া উপায় নাই। ৭ জন সদস্যের পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে জীবন পার করছি। এই এক মাসের বন্যায় মাত্র ১০ কেজি চাল পেয়েছি। সেই চালও শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কিভাবে ঈদের কথা ভাববো। আমাদের কোন ঈদ নেই।

উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বালাডোবার চরের এক গৃহীনি জানান, ৩/৪ মাস ধরে আমার স্বামীর হাতে কোন কাজ নেই। ঘরে খাবার নেই। ঈদে ছেলে-মেয়েদের মাংস ভাল কিছু করে খাওয়ানোর কোন উপায় নাই।

উলিপুর উপজেলার বজরা ও সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, পুরো ইউনিয়নের মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে বন্যা কবলিত হয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করছে। এদের জন্য আরো সরকারী বেসরকারী সহযোগীতার দরকার। ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। যা দিয়ে তারা ঈদের দিন খেতে পারবে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক জানান, জেলার বন্যা কবলিতদের জন্য সরকারীভাবে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ঈদের আগে জেলার ৪ লাখ ২৮ হাজার ৫শ ২৫ পরিবারকে ১০ কেজি করে ভিজিএফ’র চাল দেয়া হয়েছে।

বন্যার পানি ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানালেন, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম।

 

এই বিভাগের আরো খবর