ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮

ব্রেকিং:
বাসায় হবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিল্লিতে সাত দিনের কারফিউ জারির ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
সর্বশেষ:
এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি নিলে তা ফেরতের নির্দেশ, কমিটি বাতিলের হুঁশিয়ারি মাঝ রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আসছেন করোনা রোগীরা করোনায় ২৫ প্রশাসন কর্মকর্তার মৃত্যু

কিডনিতে পাথর হয় কি কারণে

স্বাস্থ্য সৌন্দর্য্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২১  


আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত যা কিনা এ সময়ে এসে আরো দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিচিতজনদের কাছে হর-হামেশায় শুনতে পায় কিডনিতে পাথর জমার সমস্যার কথা। কিন্তু কিডনিতে পাথর হয় কি কারণে সেটি এখনো বহু মানুষের জানা নেই। তাছাড়া কিডনিতে পাথরের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সহজে বুঝারও কোন উপায় নেই। চিকিৎসকদের অভিমত কিডনিতে পাথরের আকার-আকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আর পাথরের আকৃতি বড় হলে কিনা সহজে প্রাথমিক লক্ষণ নির্ণয় করা যায়। আর প্রাথমিক লক্ষণ নির্ভর করে পাথর কিডনির কোথায় এবং কোন অবস্থায় রয়েছে। এই পাথর শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার হয়। অতএব, সুস্থ থাকতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিন নিচের পরামর্শে।
 


কারণ সমূহ:

বিশেষজ্ঞদের মতে কিডনিতে পাথর জমার বা তৈরি হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে, কিছু কিছু বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ বলে বিবেচিত হয়। যেমন-

* শরীরে ভিটামিন এ’র ঘাটতি।

* কোন কারণে বারবার কিডনিতে ইনফেকশন হওয়া এবং এর জন্য যথাযথ চিকিত্সা গ্রহণ না করা।

* কম পানি খাওয়ার কারণে শরীরে পানির স্বল্পতা।

* পরিবেশগত কারণে।

* জেনেটিক বা বংশগত কারণে।

* মেটাবলিক কারণে।

* মাত্রাতিরিক্ত শরীরে ক্যালসিয়ামের আধিক্য।

* অত্যাধিক পরিমাণে দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস।

* শরীরে ভিটামিন এ’র ঘাটতি।

* মূত্রথলিতে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব জমে থাকা এবং পর্যাপ্ত প্রস্রাব না হওয়া।


কিডনিতে পাথর হওয়ার উপসর্গ-

* রক্তবর্ণের প্রসাব।

* বমি বমি ভাব। অনেক সময় বমিও হতে পারে।

* কিডনির অবস্থানে (কোমরের পিছন দিকে) ব্যথা। এই ব্যথা তীব্র তবে সাধারণত খুব বেশি ক্ষণ স্থায়ী হয় না। ব্যথা কিডনির অবস্থান থেকে তলপেটেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।


কিডনিতে ইনফেকশন
যদি পাথর মুত্রনালীকে অবরুদ্ধ করে রাখে, তাহলে বর্জ্য পদার্থ কিডনি থেকে বের হতে পারে না। এর ফলে কিডনিতে ব্যাকটেরিয়া জমা হয়ে ইনফেকশন হয়ে যেতে পারে। কিডনিতে ইনফেকশন হলে কিডনির পাথরের উপসর্গের পাশাপাশি এই উপসর্গগুলোও দেখা দিতে পারে:

* জ্বর হয়ে শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে উপরে উঠতে পারে

* শীত শীত ভাব লাগতে পারে এবং শীতে গা কাঁপা শুরু হয়ে যেতে পারে

* শরীর দুর্বল এবং শক্তিহীন মনে হতে পারে

* ডায়ারিয়া হতে পারে


রোগ নির্ণয়-

কিডনির অবস্থানে ব্যথা এবং রক্তবর্ণের প্রসাব হলে চিকিত্সকরা সাধারণত দুটো সম্ভাবনার কথা চিন্তা করেন। একটি হল কিডনির ইনফেকশন, অন্যটি কিডনিতে পাথর। তাই কিডনির এক্সরে, আলট্রা সনোগ্রাম এবং প্রসাবের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কখনও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি আর যথাযথ ওষুধ খেলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অস্ত্রপচারই একমাত্র উপায়।


সতর্কতা ও পাথর সৃষ্টি প্রতিরোধ

* কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি এড়াতে হলে অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।

* কখনও প্রসাব আটকে বা চেপে রাখবেন না। প্রসাবের বেগ আসলে চেষ্টা করবেন সঙ্গে সঙ্গে প্রসাব করার।

* প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।

* রেডমিট, মাছ প্রভৃতি উচ্চ পিউরিনসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করতে হবে।

* দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার অতিরিক্ত মাত্রায় না খাওয়াই ভাল।

* বারবার ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিলে দ্রুত চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

* রুবার্ব বা পীতমূলি, স্ট্রবেরি, পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, স্পিনিজ, আলুবোখারা, অ্যাসপ্যারাগাস প্রভৃতি অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার পরিহার করতে হবে।

* সোডিয়াম বাই কার্বোনেট অথবা সাইট্রেট গ্রহণ করতে হবে।


চিকিৎসা-
* ব্যথা কমানোর জন্য অ্যান্টিস্পাসমোডিক ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। হায়োসিন বিউটাইল ব্রোমাইড ১০-২০ মিলিগ্রাম দৈনিক তিনবার।

* সাধারণত অপারেশনের মাধ্যমে কিডনি পাথর অপসারণ করা হয়।

*  যন্ত্রের সাহায্যেও পাথর অপসারণ করা যায়। এ পদ্ধতির নাম পারকিউটেনিয়াস লিথোট্রিপসি। অন্য আরেকটি পদ্ধতির নাম এক্সট্রা করপোরিয়েল শক ওয়েভ লিথোট্রিপসি।

 

জানার বিষয়: বেশ কজন সনামধন্য চিকিৎসকের এই রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিদের্শনার সাথে কয়েকটি পোর্টালের প্রকাশিত তথ্য সমন্বয় রেখে কিডনিতে পাথর হয় কি কারণে এটি প্রকাশ করেছি। যা সঠিক তথ্য দিয়ে বিষয়টি আরো সমৃদ্ধ করেছি।