ঢাকা, রোববার   ১৮ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৫ ১৪২৮

ব্রেকিং:
কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরী মারা গেছেন বিমানের সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল, বিমানবন্দরে যাত্রীদের বিক্ষোভ
সর্বশেষ:
পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চম দফায় ভোটগ্রহণ চলছে বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৩০ লাখ

কৃষি বিভাগের ভাসমান বীজতলার সুফল পেয়েছেন রাজাপুরের কৃষকরা

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০২০  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র


বিশাল কৃষি জমিতে পানি থৈ থৈ। দেখলে মনে হবে বিশাল সমুদ্র। সেই সমুদ্রের মাঝে মধ্যে একখন্ড সবুজের হাত ছানি। কাছে যেতেই অবাক হবেন। কলার ভেলায় বিশাল সমুদ্রে ভেসে বেড়াচ্ছে বীজতলাটি। ভেলার উপর বীজতলা। গাঢ় সবুজের সেই রোপা আমন বাতাতে ভেসে বেড়াচ্ছে দিকবেদিক। যখন ভাটার সময়, তখনো ক্ষেতে হাটু পানি। ক্ষেতের আগাছা মাথা উঁকি দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছে। সেই আগাছা ভেদ করে বীরদর্পে তখনো ভাষমান বীজতলা। এটি অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ডুববে না। সেচের প্রয়োজন পড়বে না। কীটনাশক ছিটাতে হবে না। সারের প্রয়োজন হবে না। এমন বীজতলা এতদিন ছিল কৃষকদের স্বপ্নে। সেই স্বপ্নের বীজতলা বাস্তবেই তৈরী করছেন কৃষকরা। ঝালকাঠি জেলা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের সহযোগীতায় চলতি আমন মৌসুমে রাজাপুর উপজেলার ৬টি স্থানে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা সময়মতো রোপা আমনের চাষ করতে পারে এজন্য এসব ভাসমান বীজতলায় উৎপাদিত চারা বিনামূল্যে চাষীদের দেওয়া হবে।  

প্রথমে একাধিক কলার গাছ একসঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে। তার উপর কচুরিপানা বিছিয়ে দিতে হয়। এর উপর ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি পুরু কাদামাটি বিছিয়ে দিয়ে এই বীজতলা তৈরি করা হয়। সেখানে ছিটানো হয় বীজ ধান। এভাবে রাজাপুর উপজেলায় প্রায় ২৪টি ভাসমান বীজতলায় ইতিমধ্যে চারা গজিয়েছে। চলতি আমন চাষের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এসব ভাসমান বীজতলায় তৈরি চারা। চলছে পরিচর্যার কাজ । এসব বীজতলায় ব্রি-২৩ জাতের বীজ বপন করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চারা সঙ্কট মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ডুবে থাকা জমির পাশাপাশি পুকুর ও ডোবায় স্বল্প সময়ে ও কম খরচে এই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করতে পেরে খুশি কৃষকরা।

কৃষক রুহুল আমিন খলিফা বলেন বন্যায় পানিতে আমার বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছি। চারা এখন রোপণের উপযোগী। জমি থেকে পানি নেমে গেলেই ধান লাগানো শুরু করব। একটু সময় সাপেক্ষ হলেও আমনে এবার ভালো ধান পাবো।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর জানান, সরকার এসব বীজতলা তৈরির খরচ বহন করেছে কারন ফসল উৎপাদনে বিলম্ব না হয়। তিনি জানান অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উপজেলার ৬টি স্থানে ভাসমান বীজতলা তেরি করা হয়েছে যার মধ্যে সাতুরিয়া ইউনিয়নে ১টি, রাজাপুর সদর ইউনিয়নে ২টি, গালুয়া ইউনিয়নে ১টি এবং মঠবাড়িয়া ইউনিয়নে ২টি। সরকার এজন্য ৩২৭৬০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আগামীতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহŸান জানিয়েছে তিনি।

 

এই বিভাগের আরো খবর