Berger Paint

ঢাকা, বুধবার   ২৮ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৩ ১৪২৭

ব্রেকিং:
নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস কারাগারে আজারবাইজানের হামলায় কারাবাখের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহত কুষ্টিয়া কুষ্টিয়ায় বিষাক্ত মদপানে প্রাণ গেল ৩ যুবকের বদলির কারণে উন্নয়ন যেন বাধাগ্রস্ত না হয় :প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার ওয়েবসাইট হ্যাকড
সর্বশেষ:
তুর্কি-ইসরাইলি পতাকায় আগুন আর্মেনীয়দের হাজী সেলিমের দখলে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের জমি উদ্ধার ইরফান সেলিম ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে আরও ৪ মামলা

খাগড়াছড়ির দু’টি গ্রামকে স্মার্ট ভিলেজ স্বীকৃতি দিয়ে উদ্বোধন

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২০  

পঠিত: ৩৬৪
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

খাগড়াছড়ির দু’টি গ্রামকে স্মার্ট ভিলেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে উদ্বোধন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (সিএইচটিডিবি)। গ্রামগুলো হচ্ছে রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নধীন দক্ষিন দাতারাম পাড়া এবং খাগড়াছড়ি জেলা সদর উপজেলার ঠাকুরছড়া এলাকার চরপাড়া গ্রাম। তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটি জেলায় দু’টি করে মোট ৬টি গ্রামকে ‘স্মার্ট ভিলেজ’ করবে উন্নয়ন বোর্ড।

 

সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২০খ্রিঃ) সকাল ১০টায় চরপাড়া স্মার্ট ভিলেজ উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, এনডিসি। উদ্বোধন শেষে কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপন করেন প্রধান  অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ।

 

প্রত্যন্ত গ্রামকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দৃষ্টিনন্দন গ্রামে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। যেখানে শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি, যোগাযোগ উন্নয়নসহ প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

 

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে দু’টি, রাঙামাটিতে দু’টি এবং বান্দরবানে দু’টি করে মোট ছয়টি গ্রামকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ‘স্মার্ট ভিলেজ’ এ রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আওতায় গ্রামগুলোতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও পরিবহন, প্রত্যেক পরিবারের জন্য টয়লেট স্থাপন, গবাদি পশু পালন, স্ট্রিট লাইট, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, লাইব্রেরি, খেলার মাঠ, পার্ক, কমিউনিটি ট্যুরিজম সম্প্রসারণ, সমবায়, সাংস্কৃতিক চর্চার সরঞ্জামাদিসহ ৩১টি বিষয়ে কাজ করা হবে। এতে পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলো সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আধুনিক গ্রামে পরিণত হবে।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ‘‘টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের কর্মকর্তা ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, এটি আমাদের পাইলট প্রকল্প। আমরা নির্বাচিত গ্রামগুলোকে ধাপে ধাপে সব সুযোগ-সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবো। একটি আধুনিক গ্রামে যত ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকে আমরা চেষ্টা করবো সবটা দিতে। এমনকি গ্রামের প্রত্যেকটি ঘরের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করার বিষয়টিও আমাদের প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে।

 

স্মার্ট ভিলেজগুলোকে সমবায়ভিত্তিক সঞ্চয়ী কার্যক্রম পরিচালনা, গ্রামের তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করাসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখির বাসস্থান সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায়ও গ্রামগুলো ভূমিকা রাখবে।

 

খাগড়াছড়ির নির্বাচিত দু’টি গ্রামে ৬৫টি করে পরিবার রয়েছে। পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়িত  প্রকল্পের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ঠাকুরছড়া এলাকার চরপাড়ায় মোট জনসংখ্যা ৩৩০ জন এবং রামগড় দাতারাম পাড়ায় ৩৫৬ জন শিশুসহ নারী পুরুষ সুফল লাভ করবেন। ইতোমধ্যে গ্রামগুলোতে কৃষি উপকরণ ও বিভিন্ন প্রকার সবজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে আভ্যন্তরীণ রাস্তা, সিঁড়ি ও ড্রেনের কাজ চলমান। গ্রামগুলোর অধিকাংশ বাসিন্দার কৃষি এবং দিন মজুর নির্ভর। স্মার্ট ভিলেজের আওতায় গ্রামের অবকাঠামো স্বতন্ত্র রেখে পর্যটকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ইকো ট্যুরিজমের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কমিউনিটি কেন্দ্রিক ট্যুরিজম সম্প্রসারণ হবে বলে জানানো হয়। গ্রামগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর দেওয়া হয়েছে বাড়তি জোর। এ নিয়েও রয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, বিভিন্ন দেশের ধারণা কাজে লাগিয়ে আমরা স্মার্ট ভিলেজ তৈরির বিষয়টি বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্রগ্রামের শিশুদের স্কুলমুখী করতে পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে অত্র এলাকা মডেল পাড়া কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকায় পাড়াকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সব ধরনের সামাজিক সেবা ও সুবিধাদি প্রদানের মাধ্যমে গ্রামটিকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশ বান্ধব, স্বনির্ভর ও নিরাপদ বসতিরূপে গড়ে তোলার কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। আমরা যেভাবে গ্রামগুলোকে আধুনিক করার চিন্তা করছি তার সঙ্গে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ জরুরি। এতে গ্রাম ও গ্রামের মানুষগুলোর যেমন ভাগ্য বদলাবে তেমনি অন্য দেশের মতো এই গ্রামগুলো দেখতে পর্যটকরা আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

এই বিভাগের আরো খবর