ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন কারণে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় `জাওয়াদ` শুরু হচ্ছে বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ট্রায়াল বাংলাদেশকে বিনামূল্যে করোনার আরও টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র রোনালদোর রেকর্ডের ম্যাচে জয় পেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

মতবিনিময় সভায় ফখরুল

খালেদা জিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানি নিতে বলেছেন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২১  

 

লীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এজন্য অবিলম্বে তাকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানিতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

আজ মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন। এসময় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মির্জা ফখরুল। তিনি রাজনৈতিক বিষয় প্রাধান্য না দিয়ে চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

 

 

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, কোনো ইমপ্রুভ নেই। গতকাল যা ছিল, আজও তা-ই আছে। তার (খালেদা জিয়া) মনোবল শক্ত আছে। ডাক্তাররা আশাবাদী। তারা খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা শক্ত করে জোর দিয়ে বলেছেন, এখানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব নয়। তাকে অ্যাডভান্স কোনো সেন্টারে পাঠানো জরুরি। সে ক্ষেত্রে তারা সাজেস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা জার্মানি। আমরা আবারও বলছি, কালবিলম্ব না করে এখনই খালেদা জিয়াকে অ্যাডভান্স চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো দরকার। দেশের উন্নয়ন, স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের জন্য উনাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো জরুরি।

 

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি দলের সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাওয়া হয়নি। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন প্রোগ্রামে সরকারকে বলছি, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে হবে। তবে আমরা এখনও প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির কাছে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে সরকারের (প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি) সঙ্গে আলোচনার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

 

এ নিয়ে কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সব পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেয়।চিকিৎসার জন্য আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেবেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সব আমাদের বিবেচনায় আছে। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সব পদক্ষেপ নিব।

 

 

উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা যথেষ্ট ইন্টেলিজেন্ট, তারা সব জানে। আমরা আমাদের দেশের জনগণের ওপর নির্ভর করি। আমরা জনগণের বাইরে কারো কাছে যাব না।

 

 

প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এটা সঠিক নয়। আইনের মধ্যে আছে সরকার চাইলে উনাকে (খালেদা জিয়া) বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে পারে। তারা আইনের যা বলছেন তা সঠিক না। খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দিলে কি কর্মসূচি হবে কি-না জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, সময় মতো সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব কর্মসূচি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

 

 

চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নামে যা হচ্ছে তা কোনো নির্বাচন নয়। এটাকে নির্বাচন বলা যায় না। আগে যদিও আমরা কয়েকটা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম, এবারের নির্বাচন আমরা বর্জন করেছি। এবারে কোনো নির্বাচনই হচ্ছে না। ৬৬৯ সহিংসতায় নিহত ৯২ জন, আহত সহস্রাধিকের বেশি। যারা নিহত হয়েছে তারা কোনো বিচার পাচ্ছে না। যা চলছে তা মধ্যযুগীয় চর দখলের মতো অবস্থা। এসব দেখে মানুষের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপরই আস্থা চলে গেছে। নাগরিক হিসেবে আমরা খুব চিন্তিত। এ দেশের কাঠামো, রাজনৈতিক কাঠামো কী দাঁড়াবে? বাংলাদেশ এখন একটা হাইব্রিড কর্তৃত্বপরায়ণ রাষ্ট্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, আমরা বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না। সরকারের অধীনে নির্বাচন অর্থহীন। তাই আমরা এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না। অবশ্যই নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। দলীয় বিশৃঙ্খলার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপি অনেক বড় দল, অনেক কিছু হবে, অনেক কিছু থাকবেই। তারপরও আমরা বিষয়টা বিবেচনায় রাখব।

 

 

বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের দাবির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা হাফ পাসের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন সমর্থন করি। কিন্তু দেখেন ডিজেল কেরোসিনের দাম বাড়ানোর পর বাস মালিকরা আন্দোলনে নামলে সরকার বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করল, দাম বাড়াল। অথচ জনগণের কথা চিন্তা করল না। বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের হুঁশিয়ারির বিষয়ে মহাসচিব বলেন, এটা দলের সিদ্ধান্ত, দল যদি মনে করে তাহলে তারা পদত্যাগ করবে।

ও/এফ

এই বিভাগের আরো খবর