ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১ ১৪২৮

ব্রেকিং:
ইভ্যালি পরিচালনা কমিটিতে দুই সচিবসহ তিনজনের নাম প্রস্তাব পূজা অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় প্রশাসন: র‌্যাব মহাপরিচালক দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সন`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের অনুরোধ করা হল। নিয়োগ পেতে কেউ অসদুপায়ে আর্থিক লেন-দেন করে থাকলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ (প্রকাশক ও সম্পাদক) দায়ী থাকবেনা।
সর্বশেষ:
বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নিয়োগ ‌`লো-কার্বন`-ই হবে আগামীতে সবুজ-বান্ধব ফাইভজি নেটওয়ার্ক

গাভীর দুধ বেশী উৎপাদনের কৌশল

বেনি মাধব, বিশ্লেষক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

 

খামারীদের গাভী পালনের মূল উদ্দেশ্য দুধ উৎপাদন। আর এ দুধ উৎপাদনে প্রয়োজন গাভীকে সুষম খাবার সরবরাহ করা। রোগ-বালাই থেকে মুক্তির জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে পরিস্কার-পরিছন্ন রাখতে হবে। আর যদিও কোন কারণে রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে অযাচিত চিন্তা না করে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাথে সাথে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান করতে হবে। উন্নত জাতের গাভী সুস্থ থাকলে অবশ্যই পর্যাপ্ত দুুধ দিবে।

 

অন্যদিকে আরো কিছু স্বাভাবিক ও সহজ বিষয়ের দিকে নজর দিলে গাভীর দুধ উৎপাদন আশানুরূপ মাত্রায় বৃদ্ধি সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে দুধের মধ্যে আশি ভাগই পানি আর ১২.৫ ভাগ ফ্যাট নয় ভিটামিন, মিনারেল ইত্যাদি এমন শক্ত পদার্থ থাকে আর বাকী অবশিষ্টাংশ ফ্যাট। গবেষণায় জানা গেছে, এক লিটার দুধ উৎপাদন করতে গাভীর প্রয়োজন হয় প্রায় চার লিটার পানি। কিন্তু অধিকাংশ খামারীরা গাভীকে সময়মত এবং পর্যাপ্ত পানি না দিয়ে গাভীর পিপাসা না মেটানোর কারণে দুধ কম পেয়ে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

উন্নত বিশ্বে এমনকি বাংলাদেশেও গাভী লালন-পালনকারী খামারীদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গাভীকে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি খাওয়ালে দুধের উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে যায়। সে কারণে দুধগাভী যেন প্রয়োজনমত পানি খেতে পারে সে জন্য চব্বিশ ঘণ্টা পানির পাত্রে পানি দিতে হবে।

 

খামারীদের প্রচলিত একটি ধারণা; তাঁরা মনে করে গাভীকে বেশি বেশি খাবার দিলে দুধ উৎপাদন বেশি হবে। আসলে কি তাই? অবশ্যই না। পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর ও সুষম খাবারই গাভীর শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুধ উৎপাদনে সাহায্য করবে। বরং অতিরিক্ত খাবার হিতে বিপরীত হতে পারে খাদ্য হজম না হওয়ার কারণে। তাই খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্তক থাকতে হবে।

 

বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যাখ্যা হল- খাবার হজমের জন্য পাকস্থলীর রাসায়নিক পরিবেশ হয় ক্ষারীয়। তাই গাভী যত বেশি জাবর কাটবে খাবারের সাথে বেশি লালা মিশ্রিত হবে এতে খাবার বেশি হজম হবে। এই জন্য পর্যাপ্ত খাবারই দিতে হবে গাভীকে। গাভী জাবর কাটার সময় না পেলে খাবার হজমে সমস্যা তৈরী হবে। তাতে করে গাভী পুষ্টি কম পাবে। আর পুষ্টি কম পেলে দুধ উৎপাদন কমে যাবে। তাই খাবার হজমের জন্য গাভীকে অবশ্যই ৮ ঘণ্টা জাবর কাটার সময় দিতে হবে। খামারীকে অবশ্যই তীক্ষ দৃষ্টি রাখতে হবে সন্ধ্যার পর আর যেন কোনো খাবার দেয়া না হয়।

 

গাভীকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে হবে। পুষ্টিকর খাবারের সাথে দিতে হবে ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার। প্রতি লিটার দুধে প্রায় ১.২ গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে, আর দুগ্ধবতী সে গাভীগুলোকে যদি ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবার না খাওয়ানো হয় তাহলে গাভীর হাড় থেকে ক্যালসিয়াম ক্ষয় হয়ে গাভীকে দুর্বল ও অসুস্থ করে ফেলবে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে দুগ্ধবতী গাভী পালন হবে বৃদ্ধিমান খামারীর কাজ।