Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭

ব্রেকিং:
বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ৮৭ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত ৬৫ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি রাজধানীর বাংলামোটরে বেপরোয়া বিহঙ্গ বাসের চাপায় ২ জন নিহত স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামকে বদলি, নতুন সচিব মান্নান
সর্বশেষ:
গুগলের বিরুদ্ধে ৫শ’ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা মিশিগানে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভে বাংলাদেশিরাও ভারতে রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ৮, আহত অর্ধশতাধিক জামালপুর-২ আসনের এমপি ফরিদুল হক করোনায় আক্রান্ত

গৃহস্থালির ‘অদৃশ্য শ্রম’

আসাদুর রহমান

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২০  

পঠিত: ১৯৪
ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় শাকসবজি কোটা-বাছার কাজ করেন শিউলী বেগম (৪৫)। মজুরি দিনে ২০০ টাকা। তাঁর এই শ্রম ও মজুরির হিসাবটা দেশের অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে সংসারজীবনে তিনি এই একই কাজ ২৫ বছর ধরে করে যাচ্ছেন।

শিউলী বেগমের মতো বাংলাদেশের কয়েক কোটি নারীর গৃহস্থালির এই শ্রম পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র মূল্যায়ন করে ‘অদৃশ্য শ্রম’ হিসেবে। বিভিন্ন গবেষণা, অর্থনীতি বিশ্লেষক এবং মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নারীর গৃহস্থালির কাজ মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অন্তর্ভুক্ত হলে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সাংসারিক কাজের যে বোঝা, সেটা পুরুষের চেয়ে নারীকে ১৫ গুণ বেশি বহন করতে হয়। পারিবারিক কাজে যে শ্রম ব্যয় হয়, তার ৮০ শতাংশই দিতে হয় নারীদের। সাংসারিক কাজ করতে হয় ৪৫ রকমের। গবেষণা বলছে, গৃহস্থালির নৈমিত্তিক কাজ পেশাজীবীর মাধ্যমে করাতে গেলে পারিশ্রমিক হিসেবে প্রতি মাসে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। এই হিসাবে জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর গৃহস্থালির কাজের বার্ষিক অর্থমূল্য দাঁড়ায় ৯০১ থেকে দুই হাজার কোটি ডলার।

এ নিয়ে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। তাঁর গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি হিসাবে জিডিপিতে নারীর অবদান ২০ শতাংশ হলেও তাঁরা গৃহস্থালিতে যে শ্রম দেন, এর আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ কোটি টাকা। সেই হিসাবে জিডিপিতে নারীর অবদান দাঁড়াবে ৪৮ শতাংশ।

গৃহস্থালির ‘অন্তহীন’ এই শ্রম নারীর ওপর কী ধরনের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে গত জানুয়ারিতে একটি গবেষণাপত্র ছাপা হয় ‘সেক্স রোলেস’ সাময়িকীতে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির ৩৯৩ জন বিবাহিত নারীর ওপর করা হয়েছে গবেষণাটি। এদের মধ্যে ৯০ শতাংশ নারী বলেছেন, স্বামীর মোজা খুঁজে দেওয়া থেকে শুরু করে সংসারের সব কাজের বোঝা তাঁদের বহন করতে হয়। আর এটি করতে গিয়ে অনেক নারীর কাজে নিজের জীবন নিয়ে পরিতৃপ্তি কমে যায়। নেতিবাচক প্রভাব ফেলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও।

একজন নারী গড়ে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা সময়ে প্রায় ৪৫ ধরনের কাজ করে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এখনো ৮০ শতাংশ নারী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দ্বারা সহিংসতা, শোষণ, বৈষম্য ও অমানবিকতার শিকার।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, গৃহস্থালির কাজ নারীর জন্য ‘দ্বিগুণ যন্ত্রণার’ (ডাবল পেইন) কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সারা দিন বাইরে শ্রম দিয়ে ঘরে ফিরে অনেক নারীকে গৃহস্থালির কাজ করতে হয়। এই শ্রম তাঁকে কেবল শারীরিক কিংবা অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করে না, মানসিকভাবেও নারী অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক  বলেন, ‘আমরা বাইরের শ্রমবাজারকে গুরুত্ব দিয়ে চলি। উন্নয়নকে ফোকাস করি। কিন্তু উন্নয়ন মানেই আমরা হিসাব করি, শ্রমবাজারে নারী কতটা অবদান রেখেছে। এই হিসাবে ঘরের কাজও বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু এখনো ঘরের কাজকে নারীর কাজ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। ঘরের কাজে পুরুষের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এই বিষয়টার দ্রুত পরিবর্তন হওয়া দরকার। না হলে নারী বাইরের শ্রমবাজার ছেড়ে আবার ঘরে ফিরে আসবে।’

অর্থনীতিতে গৃহস্থালির কাজে স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ (এমজেএফ)। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “গৃহস্থালির কাজের স্বীকৃতি না থাকায় নারী ঘরেও প্রাপ্য সম্মানটুকু পান না। নারীর প্রতি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও নারীর অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করার মাধ্যমে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা যৌথভাবে ‘মর্যাদায় গড়ি সমতা’ শীর্ষক প্রচারাভিযান চালিয়ে আসছি।”