Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭

ব্রেকিং:
করোনায় আক্রান্ত `সারেগামাপা`র ৪ বিচারক শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু, আজ ষষ্ঠী নতুন বছরের শুরুতেই কমপক্ষে দুটি করোনার টিকা মিলবে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পেনে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ালো অস্কফোর্ডের ভ্যাকসিন ট্রায়াল: ব্রাজিলে স্বেচ্ছাসেবীর মৃত্যু
সর্বশেষ:
বিশিষ্ট সাংবাদিক শরিফুল ইসলামের ‘মা’র কুলখানি বলিউডের সহকর্মীর প্রেমে আপত্তি নেই : কিয়ারা লাইফ সাপোর্টে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এইচএসসির ফরম পূরণের আংশিক টাকা ফেরত পাবেন শিক্ষার্থীরা সাবরিনার মামলায় দুই ওসিকে শোকজ যুক্তরাষ্ট্রে নাইটক্লাবে বন্দুক হামলায় নিহত ৩ আইপিএলের সাফল্যে অবাক হয়নি সৌরভ

গ্রিন ব্যাংকিং- টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি

মো: জিল্লুর রহমান

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২০  

পঠিত: ১৬৩
মো: জিল্লুর রহমান। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

মো: জিল্লুর রহমান। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র


সুজলা সুফলা শস্য-শ্যামলা আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর অস্বাভাবিক পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে “পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন” ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। এ আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ হলো গ্রিন ব্যাংকিং তথা পরিবেশ বান্ধব সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা ও টেকসই উন্নয়ন।

গ্রিন ব্যাংকিং তথা সবুজ ব্যাংকিং এমন ব্যবস্থা যার মূল উদ্দেশ্য পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার। বিদ্যুৎ, পানি, কাগজের খরচ কমানোর উপযোগী প্রতিষ্ঠান ও কারখানা সবুজ শিল্প হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বায়নের যুগে পরিবেশবান্ধব কারখানা তৈরির ধারণা থেকে ২০১১ সালে গ্রিন বা সবুজ ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ক্ষেত্রে শুরুতেই ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মধ্যে গ্রিন পরিবেশ তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিবেশ বিপর্যয় রোধকল্পে ও পৃথিবীকে বাঁচানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।  সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক নীতিবোধ এবং সরকারের কর্মসূচী বাস্তবায়নকল্পে দেশের সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক ইতিমধ্যে পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রম অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক শক্তিশালী ও টেকসই ব্যাংক ব্যবস্থার স্বার্থে বিশ্বমানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং নীতিমালা ২০১১ সালে প্রণয়ন করেছে। তিন পর্যায়ে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷ মূলত পরিবেশের বিষয়টি মাথায় রেখেই এটি করা হয়েছে। বিশ্বের উন্নত সব দেশে এ সবুজকে ধরে রাখার মানসে ব্যাংকের এ বিষয়টি অনেক আগেই শুরু হয়েছে৷

প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশে ব্যবসারত সব ব্যাংককে নিজেদের মধ্যে একটি পরিবেশবান্ধব বা সবুজ ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়ন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়৷ এ নীতিমালা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়৷ পর্ষদের পরিচালকদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং নীতি, কৌশল ও কার্যক্রমের দেখভাল করবে৷ বাংলাদেশে ব্যবসারত বিদেশি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও প্রায় একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

নীতিমালা অনুসারে পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি ব্যাংক স্বতন্ত্রভাবে একটি সবুজ ব্যাংকিং বিভাগ বা অনুশাখা স্থাপন করা হয়৷ এ অনুশাখা ব্যাংকের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত আছে৷ তাছাড়া, ব্যাংকগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নিতে বলা হয়৷ এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে যথাসম্ভব কাগজের ব্যবহার সীমিত করে অনলাইন ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে৷ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ী বাতি ব্যবহার করার এবং কম্পিউটার, এসিসহ বিভিন্ন যন্ত্র যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয় সে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে৷

ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি বা প্রকল্প অর্থায়নে নজর বাড়ানোর কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক৷ এসব প্রকল্পের মধ্যে আছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, পানি শোধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জৈব-গ্যাস, জৈব সার প্রভৃতি৷ বন্যা, খরা ও দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য নিয়মিত সুদের হারেই অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে৷ জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য একটি জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল গঠন করতে বলা হয় ব্যাংকগুলোকে৷ এছাড়া সবুজ বিপণন কর্মসূচি গ্রহণ, অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম জোরদার করা ও এ বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে৷

কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণীত এই নীতিমালার আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংবেদনশীল বিভিন্ন খাতের বিষয়ে ব্যাংকের কৌশলগত নীতি প্রণয়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে৷ যেসব খাতকে প্রাধান্য দিতে হবে সেগুলো হলো কৃষি, কৃষি বাণিজ্য, চামড়া, মৎস্য, বস্ত্র ও পোশাক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কাগজ ও মণ্ড, চিনি, নির্মাণ, গৃহায়ন, প্রকৌশল, ধাতব পদার্থ, রসায়ন, রাবার ও প্লাস্টিক, ইট প্রস্তুত, জাহাজভাঙা প্রভৃতি৷ এই পর্যায়ে ব্যাংকগুলোকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবুজ শাখা স্থাপনের জন্য উৎসাহিত করতে হবে৷ যেসব শাখা সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক আলো-বাতাস, জ্বালানি সাশ্রয়ী বাতি ও পাখা, সীমিত পানি বিদ্যুৎ, পরিশোধিত পানি ব্যবহার করবে, সেগুলো সবুজ শাখা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বীকৃতি পাবে৷ তৃতীয় পর্যায়ে ব্যাংকগুলোকে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালনের তাগিদ দেয়া হয়েছে৷

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা মেনে এখন অনেক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখা সৌরশক্তির আলোয় পরিচালিত হচ্ছে। গ্রিন শাখা'র স্বীকৃতি পেতে ব্যাংকগুলো সূর্যের আলোর পর্যাপ্ত ব্যবহারের উপযোগী জায়গায় নতুন শাখা স্থাপন করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বাতি এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহারে জোর দিয়েছে। পানির স্বল্প ব্যবহার এবং ব্যবহূত পানির পুনর্ব্যবহার, কাগজের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে গাছ বা বন রক্ষার মতো উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে। এখন আর আগের মতো প্রধান কার্যালয় থেকে যে কোনো নির্দেশনার প্রিন্ট কপি ডাকে বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পাঠানো হয় না। অধিকাংশ নির্দেশনা ই-মেইল বা ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকরাও যেন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট না করেন, পেপারলেস ব্যাংকিং করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে অনলাইন ব্যাংকিংয়ে।

এখন বেশিরভাগ গ্রাহকের টাকা তোলার ভরসা এটিএম বুথ। যখন তখন টাকা তোলা কিংবা হাল আমলে স্থানান্তরের সুবিধা মেলে সেখানে। ব্যাংকের ভিড় এড়িয়ে বুথ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টিও কাজ করে সবার মধ্যে। বুথে লেনদেন শেষে রিসিট প্রিন্টের আগে একটি বার্তা ভেসে ওঠে মনিটরে। এতে ব্যাংকভেদে যা-ই লেখা থাকুক, মূল বিষয় কাগজ বাঁচানো ও ভবিষ্যতের সবুজ বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান। একটি রিসিটে যত অল্প কাগজ ব্যবহার হোক, সম্মিলিত গ্রাহকের কথা ভাবলে তা কিন্তু বিপুল। সবাই সাশ্রয়ী হলে কাগজ ব্যবহার কমবে, যাতে বেঁচে যাবে অনেক গাছ ও বাঁশ। সবুজের পথে হাঁটতে পরিবেশবান্ধব হতে ব্যাংকগুলোর অনেক পদক্ষেপের একটি ছোট্ট, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ এটি।

শুধু এটিএম বুথে কাগজ বাঁচানো নয়, অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায়ও পেপারলেস হওয়ার যুগে অনেক আগেই প্রবেশ করেছে ব্যাংকগুলো। তেমনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও এখন অনেক মনোযোগী সরকারি-বেসরকারি সব ব্যাংক। শুধু সবুজ শিল্পোদ্যোগ গড়ে তুলতে অর্থায়ন নয়, নিজেরাও সবুজবান্ধব হয়ে উঠছে ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলো এখন সবুজ চর্চার ওপর জোর দিয়েছে। নিজেদের পাশাপাশি অর্থায়নের ক্ষেতে পরিবেশের ক্ষতি করে না এমন গ্রিন প্রকল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়- এ রকম কোনো প্রকল্পে অর্থায়ন করছে না।

সৌরবিদ্যুৎ তথা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পাশাপাশি সূর্যের আলোর অধিক ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংক ভবনগুলো সবুজ হয়ে উঠছে। বিদ্যুৎ খরচ কমানোর উপযোগী করে তৈরি এসব ভবন গ্রিন তথা সবুজ ভবন হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পাচ্ছে। এসব ভবন এমনভাবে তৈরি, যেখানে দিনের বেলা সরাসরি সূর্যের আলোর চলছে কার্যক্রম। আবার সৌর প্যানেল ব্যবহার করে নিজেদের বিদ্যুৎ নিজেরাই উৎপাদন করছে।

সবুজ অর্থায়ন ও ব্যাংকের অভ্যন্তরে সবুজ চর্চায় সবগুলো ব্যাংকই কমবেশি তৎপর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ৫৭ বাণিজ্যিক ব্যাংক এরই মধ্যে গ্রিন ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়ন ও ইউনিট গঠন করেছে। জুন ২০১৯ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর ৫৬৯ শাখা সৌরবিদ্যুতের আলোয় পরিচালিত হচ্ছে। ২০১২ সালে যেখানে মাত্র ১০১টি শাখা ছিল সৌরবিদ্যুতের আওতায়। তখন কোনো এটিএম বুথে সৌরশক্তির আলো ছিল না। বর্তমানে সব ব্যাংক মিলে ৭,০১৫ এটিএম বুথের মধ্যে ৯৫টি সৌরশক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

সবুজ ব্যাংকিংয়ের অন্যতম পদক্ষেপ পেপারলেস তথা অনলাইন ব্যাংকিং। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। জুন ২০১৯ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ১০,৩৪২ শাখার মধ্যে অনলাইনের আওতায় এসেছে ৯,২৫১টি যা মোট শাখার ৮৯.৪৫ শতাংশ। অথচ নীতিমালা জারির পরের বছর ২০১২ সালেও ৭,৯৯৮ শাখার মধ্যে অনলাইনের আওতায় ছিল মাত্র ৩,০৪২ শাখা। বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো বেশ আগ থেকে অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধায় এগিয়ে আছে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোরও।

২০১২ সাল শেষে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৩,৪৪২ শাখার মধ্যে মাত্র ৫.৪৯ শতাংশ শাখা অনলাইন সুবিধার আওতায় ছিল। জুন ২০১৯ শেষে ৩,৭৬২ শাখার মধ্যে ৩,৬৮৮টি তথা ৯৮.০৩ শতাংশ অনলাইনের আওতায় এসেছে। সরকারি বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১,৪১৮ শাখার মধ্যে ৪০২টি তথা ২৮.৩৫ শতাংশ অনলাইনের আওতায় এসেছে। ২০১২ সালে ১,৪১৫ শাখার মাত্র ৩.৪৬ শতাংশ শাখা ছিল অনলাইনে।

এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৫,০৯৭ শাখার একটি ছাড়া বাকি সব এখন অনলাইনের আওতায়। ৩,০৭৮ শাখার মধ্যে ২,৭৪১টি ছিল অনলাইন সুবিধার আওতায়। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আগের মতোই ৬৩ শাখার সবক'টি অনলাইন সুবিধার আওতায় রয়েছে।

ব্যাংকিং খাতে অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সবুজ করার ক্ষেত্রে যেসব ব্যাংক এগিয়ে এসেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম শাহ্‌জালাল ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি বেশি পরিচিতি পেয়েছে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউতে ১৭তলা নিজস্ব আইকনিক গ্রিন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এ ভবন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিবিসির লিড গোল্ড সনদপ্রাপ্ত, যা দেশের ব্যাংক খাতের একমাত্র ভবন। অত্যাধুনিক নকশা ও প্রযুক্তিতে তৈরি ভবনটি ৩৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয়ী। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা ও খালি জায়গা। ভবনের ছাদ সাজানো হয়েছে বিভিন্ন গাছগাছালিতে।

অন্যদিকে রাজধানীর বাংলামটরে নির্মিত মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমটিবি টাওয়ার পুরোপুরি সবুজ ভবন না হলেও অনেক ধরনের সুবিধা রয়েছে। ব্যবহূত পানি শোধন করে ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সৌরশক্তি বসানো হয়েছে। সবুজ ব্যাংকিংয়ে আরও এগিয়ে রয়েছে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির ১৭৪ শাখার মধ্যে ৬৩টি চলছে সৌরশক্তির আলোয়।

অর্থায়ন বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিঃ। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের আংশিক পরিচালিত হচ্ছে সৌরশক্তির আলোয়। এ ছাড়া সারাদেশে বিদ্যমান ৩৬১ শাখার মধ্যে ৫৮টি চলছে সৌরবিদ্যুতের আলোয়। পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ কমাতে প্রধান কার্যালয় থেকে সব শাখাকে ২৮ নির্দেশনা দিয়েছে এ ব্যাংক। বিশেষ বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় ২০১৮ সালে সারাদেশে ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস প্রকল্পের আওতায় এক কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। প্রতিবছর এ বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরাসরি গ্রিন খাতে ব্যাংকটির বিনিয়োগ রয়েছে ১,১০৭ কোটি টাকার অধিক। এ ছাড়া অন্যসব বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি পরিবেশবান্ধব উপায়ে নির্মিত কি-না তা যাচাই-বাছাই করে অর্থায়ন করছে।

নিজেদের মধ্যে সবুজ ব্যাংকিংয়ের চর্চার পাশাপাশি এ খাতে অর্থায়ন বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো। ২০১৩ থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত সরাসরি গ্রিন প্রোডাক্টে ২৯,১৯৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছিল যা জুন ২০১৯ পর্যন্ত ছয় মাসে বিতরণ করেছে আরও ৫,৫৭১ কোটি টাকা।

প্রতিবছরই ব্যাংকগুলোর সবুজ শিল্পোদ্যোগে অর্থায়ন বাড়ছে। ২০১৮ সালে ব্যাংকগুলো আগের বছরের চেয়ে দ্বিগুণ ৯,৯৮৭ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এমন খাতে। ২০১৭ সালে সরাসরি গ্রিন প্রোডাক্টে বিনিয়োগ ছিল ৪,২৫১ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে যা ছিল ৩,৩৮০ কোটি টাকা। সরকারসহ বিভিন্ন পক্ষের সোচ্চার ভূমিকার ফলে সবুজ কারখানা স্থাপনের সংখ্যা বাড়ছে। এতে বাড়ছে ঋণ চাহিদাও।

গ্রিন ব্যাংকিং নীতিমালার পর ব্যাংকগুলো শুধু বেশি মুনাফা কিংবা সময়মতো টাকা ফেরত আসার প্রস্তাব পেলেও ঋণ না দিয়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে তৈরি শিল্প কারখানায় বিনিয়োগে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে। এভাবে বৈষয়িক উষ্ণতা রোধ, জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপযোগী কারখানা তৈরিতে উৎসাহিত করা ব্যাংকের লক্ষ্য। নিঃসন্দেহে সবুজ ব্যাংকিং আগামী দিনগুলোতে দেশের অর্থনীতির জন্য টেকসই উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি রচনা করবে।

লেখক: ব্যাংকার ও কলাম লেখক, সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

এই বিভাগের আরো খবর