Berger Paint

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৭

ব্রেকিং:
১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছরই আয়কর দেননি ট্রাম্প! চির নিদ্রায় শায়িত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অস্ত্র মামলায় সাহেদ করিমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ২৪ বলে ৮২, ৯ বলে ৭ ছক্কা, নতুন রেকর্ড আইপিএলে এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ: ছাত্রলীগ নেতা রাজনও গ্রেফতার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ : রনি ও রবিউল গ্রেফতার ৭৪-এ পা রাখলেন শেখ হাসিনা
সর্বশেষ:
সৌদিতে শিডিউল ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছে বিমান ড. কামাল ও আসিফ নজরুল ঢাবি এলাকায় অবা‌ঞ্ছিত : সন‌জিত সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার রায় আজ কাশ্মীর সীমান্তে পাক-ভারত উত্তেজনা, এক সেনা নিহত

ঘরের ভিতরে পানি বাইরে করোনা, এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা

মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০  

পঠিত: ৯৮
মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। বিগত ৭ মাস থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারী করোনা ভাইরাস যার ভয়াবহ পরিণতির মোকাবেলা করে এখনও উঠে দাড়াতে পারেনি পৃথিবী। এর মধ্যে শুরু হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় নদীর বাাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ন জনপদ লোনা পানিতে প্লাবিত। দেশের উত্তর এবং মধ্যাঞ্চলসহ সারাদেশে বিশাল এলাকা এখন বন্যা কবলিত। দেশের প্রায় ৩০ টি জেলার বিশাল এলাকাজুড়ে নদীর বাাঁধ ভাঙন ও  বন্যা চলছে। চারিদিকে কেবল পানি আর পানি। এ পানির কারণে অনেক অঞ্চলের অসহায়,গরিব মানুষদের জীবনে এখন সীমাহীন দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পানিতে ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি,তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, ভেসে গেছে ঘের ও পুকুরের মাছ,গবাদিপশু। মাঠের ফসল, ধান ক্ষেত আর তরিতরকারি সবই পানিতে ডুবে ধ্বংস হয়েছে। গোলার ধান, গোয়ালের গরু আর ছাগল সবই ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভেসে গেছে পানিতে। ধ্বংস হয়েছে পোল্ট্রি খামার। পানিতে ভেসে গেছে হাজারো হাঁস-মুরগি।বাঁঁধ ভাঙা পানিতে হাজার হাজার মাটির ঘর ধসে পড়েছে।শেষ সম্বল বলতে আর কিছুই বাকী নেই। ধ্বংস হয়ে গেছে হাজার হাজার একর জমির ফসল। মাছের ঘের সমুহ ডুবে যাবার কারণে ভেসে গেছে শত কোটি টাকার মাছ।

 

একদিকে অসহায় মানুষের জীবন যাপন অতিষ্ট হয়ে গেছে করোনার জন্য যার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি এখনও তার উপরে নদীর বাঁধ ভাঙা পানি ও বণ‍্যায় স্থবির হয়ে পড়েছে মানুষের জনজীবন। বসত বাড়ি, রাস্তাঘাট, স্কুলের মাঠ সবই পানিতে ভাসছে। বাড়ির বাইরেও পানি, ভেতরেও পানি। শত চেষ্টা করলেও দাঁড়ানোর জন্য কোথাও একটু শুকনো জায়গা পাওয়া যাবে না। এমনকি ঘুমানোর জন্যও কোথাও একটু জায়গা নেই। সব মিলিয়ে অনেক অঞ্চলের মানুষের জীবনেযাপন অনেক কষ্টে কাটছে এখনও অনেকেই কোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পায়নি। না খেয়ে অনাহারে দিন পার করছে হাজার হাজার পরিবার। হতদরিদ্র পরিবার আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়েছে তাদেরকে কেউ একটু সাহায্য করতে পারছেনা। বন্যার পানিতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে মানুষের জীবন। সবদিকেই কেবল মানবতার হাহাকার। একদিকে মহামারী করোনা ভাইরাস অন‍্য দিকে বণ‍্যার পানির কারণে অনেক অঞ্চলের কয়েক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

 

বণ‍্যার কারণে বিশুদ্ধ খাবার পানির বড়ই অভাব দেখা দিয়েছে। সব নলকূপই পানির নিচে এবং পুকুরসমূহ ময়লা পানিতে ভরাট। রান্না করে খাবার তৈরির সুযোগ কোথাও নেই। শুকনো রুটি, বিস্কুট, মুড়ি আর চিড়া খেয়েই অনেক পরিবারের জীবন চলছে। ত্রাণের সাহায্যের ওপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে হতদরিদ্রদের জীবন। এমন অবস্থায় সব ভেদাভেদ ভুলে আজ আমাদেরকে দুর্গত মানুষদের পাশে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে কোন ধরনের রাজনীতি নয়, সংকীর্ণতা এবং বিভেদ নয়। আসুন সব ভেদাভেদ ভুলে দুর্গতদের রক্ষায় এগিয়ে আসি।

 

আরেকদিকে প্রাণঘাতী মহামারী করোনার জন্য ঘরবন্দি রয়েছে অনেক পরিবার, অন্য দিকে বন্যার কারণে যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা বর্ণনাতীত। এসব ক্ষতি সহজে পূরণ হবার নয়। করোনার জন্য যে সকল পরিবারের মধ্যে কোন ধরনের সাহায্য দেওয়া হয়নি সেই সকল পরিবার সহকারে বন্যাদুর্গত মানুষদেরকেও সর্বাত্মকভাবে সাহায্য করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা যেন আবার সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য তাদেরকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করতে হবে আমাদের সকলের।

 

উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মানসহ সারা দেশের সার্মথ্যবান মানুষেরা যদি আজ এগিয়ে আসে তাহলে এই দুর্যোগকে মোকাবেলা করা কঠিন এবং অসম্ভব নয়। আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসে এসব দুর্গত মানুষেরা অচিরেই তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

 

যারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা যেন খুব সহজে ব্যাংক থেকে বিনিয়োগ নিয়ে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে পারে, সেজন্য ব্যাংকগুলোকে এইসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া দরকার। যেটা বর্তমান সরকার যতেষ্ট গুরুত্ব দেবে বলে আমরা আশা করছি। একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদেরকে বর্তমানে বিদ্যমান ব্যাংক ঋণ পরিশোধের জন্য সময় দিতে হবে। সেন্ট্রাল ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। আমরা সবাই মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবো অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা আমাদের সব ধরণের বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবেন।

লেখক: শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী

এই বিভাগের আরো খবর