ঢাকা, শনিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২২,   মাঘ ৯ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন কারণে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৮ প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচ সুভাষ ভৌমিক মারা গেছেন খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল ঢাকায় শাবিপ্রবির শিক্ষক প্রতিনিধি দল মা হলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, পাঠদান চলবে অনলাইনে করোনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড

ঘোড়াশালে বাঙালি পিঠাঘর ঐতিহ্যের সুনাম

বোরহান মেহেদী

প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর ২০২১  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

রসিংদীর ঘোড়াশালের পল্লীগ্রাম সরকারটেক এখন পিঠার গ্রাম নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। আর এর পেছনের কারন হচ্ছে এখানে গড়ে উঠা বাঙ্গালি পিঠা ঘর। এই পিঠা ঘরের কর্ণধার হচ্ছেন আক্কেল আলি ফকির। তিনি তার পিঠা ফ্যাক্টরীতে হরেক রকম পিঠার তৈরী করছেন প্রতিদিন। তার হাতে তৈরী পিঠা খেতে পিঠা প্রেমিকরা দুপুর থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত দল বেধে ভীর জমাচ্ছেন। সব শ্রেণীর ভোজণ রসিকরাই আসছেন তবে যুবকরা সংখ্যায় বেশি। পিঠা ঘরে এসে পিঠা খেতে উৎসাহ প্রতিদিনই বাড়ছে।

 

কথায় আছে বাঙালির বার মাসে তেরো পার্বণ। আর প্রত্যেক পার্বণেই বাঙালি সংস্কৃতির এক একটা রূপ ফুটে উঠে। প্রাচীনকাল থেকে বাঙালিরা মায়ের হাতে বানানো মমতামাখা পিঠাকে চিনে। বাহারী পিঠা কার না পছন্দ। ডুবা, ভাঁপা ও চিতল পিঠার নাম শুনলেই খেতে ইচ্ছা করে।বলতেই হয় শৈশব থেকে বৃদ্ধ অবদি পিঠা একটি মুখরোচক খাবার হিসেবে সবার কাছে খুবই পরিচিত।

 

আসলে পিঠা তৈরি বা খাওয়াটা একটা উৎসব কেন্দ্রিক হলে মজা বেড়ে যায়। নিত্যদিনও পিঠা খেতে বাধা নেই, তবে উৎসব ছাড়া পিঠা তৈরি বা খাওয়া একটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বাংলার বিভিন্ন নবান্ন উৎসব ও বিশেষ কোনো আচার অনুষ্ঠানে অনেক ধরনের পিঠা তৈরির প্রচলন রয়েছে। এখন আধূনিক কালেও এর কদর বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বাঙ্গালিরা পৃথিবীর যেখানে অবস্হান করেছেন, সেখানেই হচ্ছে পিঠা উৎসবের আয়োজন।

 

পিঠা খাবার মৌসুম হচ্ছে শীতকাল। সবে অগ্রহায়ণের মাঝামাঝিতে শীত পড়তে শুরু করেছে। কৃষকদের ঘরে এখন নতুন ধানের চালের গন্ধ ছড়াচ্ছে। ছেলে বুড়ো বউ সকলের আবদার বাড়ছে পিঠা খাবারের। মুলত: বাঙ্গালি সাংস্কৃতির একটি বড় অংশ শীতের পিঠা। তাই প্রতিটি গ্রামে এখন শীতালি পিঠার আয়োজন চলছে। অল্পদিনের ব্যবধানে শুরু হবে দেশজুড়ে পিঠা উৎসবও।

 

তবে সবচে বড় একটি বিষয় হচ্ছে বর্তমানে মেশিনে চাল ভাঙ্গানো গুড়িতে গ্রামের মা বোনেরা আগের হাতে গড়া চাউলের গুড়ার মতো পিঠা বানাতে পারছেননা। বলতে গেলে বাজার বন্দরের দোকানিদের পিঠাই এখন বেশীরভাগ পিঠার খাবারের স্বাদ মিটায়। তাই অনেকেই বাজারি পিঠা কিনে আনছেন বাড়ি বা বাসায়। তাতেই মিটছে মৌসুমি পিঠার স্বাদ। তাইতো দেখা যাচ্ছে শহরের অদূরে একটু খোলা জায়গায়, গ্রামের আবেশে ছুটছেন পিঠা রসিকরা।

 

বাঙ্গালি পিঠা ঘরের উদ্যোগক্তা আক্কেল আলি ফকির। তিনি বয়সী মানুষ হলেও  পিঠা তৈরীর একজন অভিজ্ঞ কারিগর। তাছাড়াও আক্কেল আলি একজন দক্ষ কারুশিল্পী। মাটির দেয়ালে পশুপাখি ছবি ও নানা নকঁশা আঁকতে পারেন। বানাতে পারেন বাঁশ বেত দিয়ে নানান মূর্তিও। তাঁর পরিচিতি এলেকার সব শ্রেণীর মানুষের কাছে। তবে এবার হরেক রকমের পিঠা বানানোর কারখানা দিয়ে নাম ও খ্যাতি অর্জণ করছেন এলেকার পিঠা প্রেমিকদের নিকট।

 

বাঙ্গালি পিঠা ঘরে পিঠা খেতে আসা এলেকার সুপরিচিত মুখ ব্যবসায়ি ও রাজনীতিক মাকসুদ রহমানের সাথে তিনি জানান, এ জায়গাটি একটি গ্রামীণ নিরিবিলি স্হান। একদম ভিন্ন মনোরম পরিবেশে পিঠার আয়োজন। মনে হচ্ছে যেন বাড়িতে বসেই পিঠা খাচ্ছি। সবচে বড় কথা এখানে এসে একসাথে ইচ্ছেমতো অনেক ধরনের পিঠা খেতে পারছি। এখানে মুখরোচক সব পিঠাই মিলছে। তাছাড়া এ ধরনের পিঠাঘর আয়োজনকে তিনি বাঙ্গালি ঐতিহ্যের সুনাম বললেন।

 

বাঙ্গালি পিঠা ঘরের মালিক আক্কেল আলি জানান, এই পিঠা ঘরের সুনাম বাড়ার কারনে তিনি নীজেকে ধন্য মনে করছেন। তিনি বলেন আমি প্রতিদিন কম পক্ষে ১০ রকম পিঠা তৈরী করেন। গরম গরম চিতল, ভাঁপা পিঠার সাথে ডুবাপিঠা, পাটিসাপটা, কুলিপিঠা, মেরাপিঠা ও দুই রকম দুধের রস পিঠা। বর্তমানে বাসা বাড়ি ও বৈঠকি আয়োজনে পিঠা আর্ডার পাচ্ছি। এই পিঠা ঘরে সকাল থেকেই পিঠার তৈরী শুরু হয়। সব মিলে ৭ থেকে ৯ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তিনি আরো জানান, আমার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাঙ্গালি পিঠা ঘর এখন আমার পরিবারের খেয়ে পড়ে চলার পথ খুলে দিয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর