Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭

ব্রেকিং:
বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু ৩ লাখ ৮৭ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত ৬৫ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি রাজধানীর বাংলামোটরে বেপরোয়া বিহঙ্গ বাসের চাপায় ২ জন নিহত স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামকে বদলি, নতুন সচিব মান্নান
সর্বশেষ:
গুগলের বিরুদ্ধে ৫শ’ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা মিশিগানে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভে বাংলাদেশিরাও ভারতে রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ৮, আহত অর্ধশতাধিক জামালপুর-২ আসনের এমপি ফরিদুল হক করোনায় আক্রান্ত

চলুন ঘুরে আসি সেই পলাশীর প্রান্তর

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২০  

পঠিত: ২২০
ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

নদিয়া, কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। যেখানে রয়েছে সেই ঐতিহাসিক পলাশির প্রান্তর, যেখানে সিরাজকে হারিয়ে ব্রিটিশ দখল নিয়েছিল ভারতের। সেখানে এখনো আছে সেই যুদ্ধ ক্ষেত্র। আছে সৌধ।

শুধু তাই নয়, নদিয়া একাধারে ঐতিহাসিক স্থান, তীর্থস্থান- নবদ্বীপ, মায়াপুর, শান্তিপুরের শাড়ি, কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল, যার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। নদিয়া জেলার যেখানে তাকাবেন কিছু না কিছু দ্রষ্টব্য, বিস্ময় লুকিয়ে আছে। সড়ক পথ বা রেল পথে কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টার পথ। জেলার সদর শহর কৃষ্ণনগর।

নবদ্বীপঃ মহাপ্রভু চৈতন্য দেবের জন্মভিটে। ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত। কৃষ্ণনগর থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার পথ। চৈতন্য দেব বৈষ্ণব মতের প্রবক্তা। শুধু তাই না তিনি ছিলেন ষোড়শ শতাব্দীর অন্যতম সমাজ সংস্কারক। তিনি বৈষ্ণব মতের সঙ্গে ভক্তিবাদেরও প্রবক্তা। নবদ্বীপ ছিল সেন বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজা লক্ষণ সেনের রাজধানী। তিনি নবদ্বীপ শাসন করেন ১১৭৯-১২০৩ সাল পর্যন্ত। এই শহরে রয়েছে ১৮৩৫ সালে তৈরি দেওদাস শিব মন্দির, শ্রীচৈতন্যের মুর্তি।

মায়াপুরঃ নবদ্বীপ ধামের ঠিক বিপরীতে ভাগিরথী নদীর ওপারে মায়াপুর। অনেকে বিশ্বাস করেন, মায়াপুরই হল শ্রী চৈতন্যদেবের আসল জন্মস্থান। এখানে গড়ে উঠেছে ইসকন মন্দির। অসাধারণ মন্দির শৈলী। প্রতিদিন বহুভক্ত যান সেই মন্দির দেখতে। হোলির সময় এখানকার রাস উৎসব সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও উৎসবের মিলন ক্ষেত্র। মায়াপুরের থাকা খাওয়ার জন্য সব ধরণের ব্যাবস্থা আছে। সময়মতো পৌছালে মন্দিরে ভোগও জুটে যেতে পারে।

শান্তিপুরঃ শত শত বছর আগে থেকেই শান্তিপুর সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র। বৈদিক শিক্ষা ও পুতির ইতিহাস সেই নবম শতাব্দী থেকে। একই সঙ্গে এখানে রয়েছে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের শাসন কালে এখানে ফৌজদার গাজি ১৭০৩-১৭০৪ সালে তৈরি বিশাল বড় একটি 'ডোম' সহ ৮ মিনারের তোপখানা মসজিদ নির্মান করেন। রয়েছে প্রচলিত আটচালা ধাঁচে তৈরি শ্যামচাঁদ মন্দির, টেরেকোটা দিয়ে তৈরি জলেশ্বর মন্দির, রয়েছে আদিত্বপ্রভু মন্দির।

শান্তিপুরের তাঁতের শাড়ি আজ শুধু দেশেই নয় বিদেশের মাটিতেও স্বমহিমায় উপস্থিত। এখন তো সেখানে মসলিনও তৈরি হচ্ছে।

শান্তিপুরের কাছেই ফুলিয়া শহর। এই শহরেই জন্মেছিলেন বাংলা রামায়নের লেখক কৃত্তিবাস।

পলাশীঃ ১৮৫৭ সালের ২৩ জুন এখানে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজৌদ্দলার সঙ্গে লর্ড ক্লাইভের সেনাদের যুদ্ধ হয়। এবং ব্রিটিশ ভারতের শাসনভার করায়ত্ব করার দিকে এগিয়ে যায়। ব্রিটিশের জয়ের স্মারক হিসাবে ব্রিটিশ ১৮৮৩ সালে একটি স্তম্ভ তৈরি করে। সেটি এখনও রয়েছে।

বেথুয়াডহরিঃ ১৯৮০ সালে ৬৭ একর জায়গার উপর ঘন জঙ্গল। আসলে তা ডিয়ার পার্কেরই একটি অংশ। কিন্তু বেথুয়া ডহরির ঘন জঙ্গল আজ নিজেই আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই জঙ্গলে যেমন হরিণ আছে তেমনি আছে জঙ্গলি বেড়াল, বিভিন্ন ধরনের পাখি, পায়থন ৫০ ধরনের জীবযন্তুর দেখা মেলে।

কৃষ্ণনগরঃ এটি জেলা সদর। এখানের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান হল রাজাকৃষ্ণচন্দ্র রায়ের তৈরি রাজবাড়ি। কৃষ্ণচন্দ্র এখানে শাসন করেন ১৭২৮-১৭৮২ পর্যন্ত। তবে অনিন্দ-সুন্দর স্থাপত্য শৈলির এই রাজ বাড়ি।

রয়েছে দুটি দর্শনীয় চার্চ। এখানে প্রোটেস্টান চার্চ ১৮৪০ ক্যাথলিক চার্চ ১৮৯০ সালে তৈরি হয়।

এই বিভাগের আরো খবর