Berger Paint

ঢাকা, সোমবার   ২৬ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১০ ১৪২৭

ব্রেকিং:
গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে দগ্ধ একই পরিবারের ১০ জন কারওয়ানবাজারে বিডিবিএল ভবনে অগ্নিকাণ্ড দেশে ফিরছেন না পি কে হালদার নিউ ইয়র্কে জনতা এক্সচেঞ্জ হাউজে জালিয়াতি : ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সর্বশেষ:
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করতে পারে : এফবিসিসিআই পদ্মা পাড়ি দিতে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের জন্য বিশ্বব্যাংক থেকে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা চায় বাংলাদেশ

চীন ঠেকাতে একজোট ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২০  

পঠিত: ৮৯৮
ভারত মহাসাগরের সংগৃহীত ছবি

ভারত মহাসাগরের সংগৃহীত ছবি

 

প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য ঠেকাতে জাপানের রাজধানী টোকিওতে দুই দিনের বৈঠকে বসছেন চার প্রভাবশালী রাষ্ট্র ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

‘অবাধ ও স্বাধীন’ ভাবে এই দুই মহাসাগরে নৌ-যান চলাচলের যুক্তি দেখিয়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে একটি সংলাপ শুরু হয়। এই সংলাপের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘কোয়াড’। সে সূত্র ধরে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আজ মঙ্গলবার থেকে টোকিওতে দু’দিনের বৈঠক বসবেন।

প্রসঙ্গত, ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে প্রায় চার মাস ধরে চলা টানটান উত্তেজনার মধ্যে এ বৈঠক আরম্ব হতে যাচ্ছে।

এই চারটি প্রধান বৈরী দেশের মধ্যে মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠক নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ চীন । তাই কোয়াডের এই বৈঠক চলাকালীন সময়ে একসাথে তিন থেকে চারটি নৌ এবং বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত বৈঠক করে আসছে এই চারটি রাষ্ট্র, কিন্তু চীনকে আটকানোর জন্য এই জোটবদ্ধ উদ্যোগ, বিশ্বরাজনীতিতে স্পষ্ট করে তা কখনই বলা হয়নি।

বিস্ময় হল যে, এসব বৈঠক নিয়ে চারটি দেশের সরকারগুলো জনসমক্ষে যে বক্তব্য ঘোষণা দিয়েছে বা যেসব নথিপত্র আদান-প্রদান হয়েছে, সে সব নথি অথবা বক্তব্যে কোথাও চীন লেখা শব্দ নেই।

অন্যদিকে পর্যবেক্ষক ধারণা করছেন, টোকিও বৈঠক এবার বিশ্বকে খোলাসা করবে। কারণ যে রাষ্ট্র এতদিন এই প্লাটফর্মকে প্রকাশ্যে ‘চীন-বিরোধী’ তকমা দিতে সবচেয়ে বেশি কুণ্ঠিত ছিল, সেই ভারত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

অতি সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা র‌্যান্ড করপোরেশনের একটি প্রকাশনায় সাউথ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক গ্রসম্যাস তার একটি লেখায় লিখেছেন , তিনি লিখেছেন বর্তমান পরিস্থিতি এখন অন্যরকম। কারণ, সংগঠিত চারটি এই দেশ সবগুলো এখন চীনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও নীতির অবস্থানের প্রশ্নে একমত।

ডেরেক বলেন, ‘কোয়াড প্লাটফর্মকে ২০০৭ সালে একটি প্রতিরক্ষা জোটে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা ভেস্তে যায় চীনকে নিয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিধা-দন্দ নীতির কারণে। তাদের চীনকে কতটা কোণঠাসায় ফেলা উচিত, তা নিয়ে এই দুই দেশের অনিহা সিদ্ধান্ত।’

তবে, 'এখন মনে হচ্ছে তারা সবাই ঐক্যমতে পৌঁছেছে। বিশেষ করে তিনি মনে করতেন কোয়াডে ভারত সবচেয়ে দূর্বল। কিন্তু ভারত মনে হয় তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে, এখন মনে হচ্ছে চীন প্রশ্নে চারটি দেশই একমত।’

ভারতে কেন কট্টর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার কতগুলি কারণের মধ্যে  ২০১৭ সালে ডোকলাম সীমান্তে বিরোধ এবং জুন মাস থেকে লাদাখ সীমান্ত চরম পরিস্থিতি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করতো কোয়াডের ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে খুবই উৎসাহী।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ডেরেক বলেন, ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্কে ভারসাম্য রাখা নিয়ে ভারতের যারা সব সময় সোচ্চার ছিলেন, তারাও আজ অবস্থান পরিবের্তন করে শক্ত হয়েছেন।’

ইদানিং দক্ষিণ এশিয়ায় চীন তাদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত এবং ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে চীনা সাবমেরিন পাঠানোও তাদের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়ে ছিল।

এছাড়া, চীনের অব্যাহত পাকিস্তানকে সামরিক সাহায্য প্রদান, পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরে চীনের নিয়ন্ত্রণ, পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের ভেতর দিয়ে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের সড়ক নির্মাণে চীনের মহাপরিকল্পনা- এ সমস্ত বিষয় নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বাড়ছিল।

যার কারণে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০১৪ সাল থেকে চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে যে অবিশ্বাস-অনাস্থা বেড়েছে, তাতে করে ১০ বছর অপেক্ষার পর আমেরিকার পক্ষে কোয়াডের পুরগঠন নিশ্চিত সম্ভব হয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরবর্তী থেকে চীনকে কোণঠাসা করতে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের বন্ধু রাষ্ট্র নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠন করতে বেশ কয়েক বছর ধরে চেষ্ঠা চালিয়ে আসছিলেন। এখন সেটা সফল হতে চলেছে বললেন ডেরেক।

বিশ্ব রাজনীতির পর্যবেক্ষক ধারণা করছেন, ‘ইউরোপের সামরিক জোট ন্যাটোকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ কমেছে, কিন্তু চীনের ক্রমবর্ধমান উথ্থান এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির জবাব দিতে ন্যাটো ধাঁচের একটি জোট এশিয়াতে গঠন করতে আমেরিকার আগ্রহ।

সেক্ষেত্রে অধ্যাপক ডেরেক মনে করেন, চীন নিয়ে ভারতের মৌলিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সে সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে।

তবে শুধু ভারত নয়, কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক তদন্তের এক প্রস্তাবনা রাখার কারণে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ হয় তাদের। এরপর অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংস এবং বার্লির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন। এমনকি অস্ট্রেলিয়ান মদ এবং আরো বহু পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের কথাও বিবেচনা করছে চীন।

জানা গেছে, ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কোয়াডের বাকি দেশগুলোকে গুয়ামে তাদের সামরিক ঘাঁটিতে একটি যৌথ বিমান মহড়া দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এখন শোন যাচ্ছে, আন্দামানের কাছে গত কয়েক বছর ধরে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ভারত যে নৌ-মহড়া করে আসছে সেখানে আগামী বছরে অস্ট্রেলিয়াও যোগ দেবে। তবে, ২০০৭ সাল থেকে চীন এই চারটি দেশের বন্ধুত্ব সম্পর্ককে গভীর সন্দেহের চোখে দেখছে।

জাপানের টোকিওর ওই বৈঠক নিয়ে দু'দিন আগে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, কোনো একটি রাষ্ট্রকে টার্গেট করে কোনো জোট গঠন কোনভাবেই কাম্য নয়।

চীনের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন তাঁর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অন্য একটি দেশকে টার্গেট না করে, তাদের স্বার্থ ক্ষুন্ন না করে, বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত হবে নিজেদের মধ্যে বিশ্বাস, বোঝাপড়া বৃদ্ধির চেষ্টা করা।’


সূত্র: বিবিসি বাংলা

এই বিভাগের আরো খবর