Berger Paint

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ২২ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
২৪ ডিসেম্বরের আগে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তির লটারি ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর বিএনপির দেড় হাজার নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের অভিযোগ মৃত্যুশূন্য দিনে করোনা আক্রান্ত ২২ জন বিএনপি দেশে গণতন্ত্র নয়, কারফিউতন্ত্র চায় : প্রধানমন্ত্রী গরিবের জন্য ইনসুলিন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

‘ছোট কাজ হচ্ছে চুরি করা, কর্ম করে খাওয়ায় কোন লজ্জা নাই’

মোঃ ছাবির হোসাইন

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২২  

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।


সেদিন সিরাজগঞ্জ বাজারে (শ্বশুরবাড়ি) গিয়েছিলাম কিছু জিনিস কেনাকাটা করতে। পথে মুচি ভাইকে দেখে জুতাটা সেলাই আর পালিশ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। ওনাকে বললাম, 'ভাই, আমার জুতাটা সাড়িয়ে দিন তো। সাথে পালিশও করে দিয়েন।' সাধারণত জুতা মুচিকে দিলে ওনারা একজোড়া স্যান্ডেল বা জুতা সাময়িকভাবে পরতে দেন। মুচির সামনে থাকা একজোড়া জুতা পরতে উদ্দ্যত হলাম এই ভেবে যে, মনে হয় এগুলোই কাষ্টমারদের পরার জন্য। উনি বললেন, 'এগুলো না, এই জোড়াটা পরুন।' তিনি কাজ করতে বসেছেন শক্তি ঔষধালয়, সিরাজগঞ্জ-র সামনে। আমি দোকানদারের অনুমতি নিয়ে মুচির কাছে চেয়ারে ফ্যানের নিচে বসলাম।

 

মোবাইলে কাজ করার ফাঁকে খেয়াল করলাম, মুচির পাশেই একই রঙের কিছু জুতা সাজানো। দেখে কৌতুহল জাগল। আমি সাধারণত মানুষের সাথে সুযোগ পেলেই কথা বলি। ওনাকে জুতাগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম ওগুলো উনি নিজেই বানিয়েছেন। বিক্রির জন্য সাজিয়ে রেখেছেন। দাম ৩৫০-৪০০ টাকা। অর্ডার দিয়ে বানিয়ে নিলে আরেকটু বেশি দাম  নেন কিন্তু আরও মজবুত হয়। শুনলাম, দিনে ২/৩ জোড়া বিক্রি হয়। মাঝেমধ্যে একসাথে অনেক অর্ডার আসে। ভালোই চলছে অন্যের জুতা সেলাইয়ের পাশাপাশি জুতা বানিয়ে বিক্রি। মোটামুটি ভালোই দিন কাটছে ১ সন্তানসহ পরিবারের। আরেক সন্তান পৃথিবীতে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

 

কৌতূহলবশত জানতে চাইলাম, কেন নিজে জুতা বানিয়ে বিক্রির উদ্যোগ নিলেন। যা জানতে পারলাম, উনি আগে 'লাকি সুজ' নামক কোম্পানির কারখানায় কাজ করতেন। ২০০৫ সালে কারখানা বন্ধ হলে কাজ হারান তিনি। এরপর থেকে টানা ১৯ বছর এই একই জায়গায় (এসএস রোড, সিরাজগঞ্জ) মুচির কাজ করছেন। নিজের শেখা সেই যোগ্যতাকে নষ্ট না করে কাজে লাগাচ্ছেন। নিজস্ব ব্র‍্যান্ডও তৈরি করেছেন, 'কিপস সুজ'। মুচিগিরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কামাইয়ের কি সুন্দর চিন্তা!

 

মুচির কাজ করতে লজ্জা লাগে কি না? - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'ছোট কাজ হচ্ছে চুরি করা, কর্ম করে খাওয়ায় কোন লজ্জা নাই।' কি অসম্ভব ভালো কথা! আমিও শিখলাম ওনার এই কথা থেকে। ভালো লাগা থেকেই এই লিখা। একটা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ যা আমি পেলামঃ যে কোন কাজকেই অবহেলা করতে নেই আর নিজের যোগ্যতাকে অবশ্যই গঠনমূলক ও লাভজনক কাজে ব্যবহার করা চাই। আমরা শ্রমের মর্যাদা বিষয়ক প্রবন্ধ, রচনা পড়েছি অনেক। মুখস্থ করে পরীক্ষায় লিখে সর্বোচ্চ নম্বরও হয়তো পেয়েছি। কিন্তু জীবনে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ফেল করেছি অনেকেই!

 

ওনার নাম স্বপন কুমার দাশ, বাড়ি সিরাজগঞ্জের জুবলি বাগান এলাকায়। ওনার অনুমতি নিয়েই ছবি তুলেছি ও ফেসবুকে লিখছি। ওনার সাথে যোগাযোগ করার নাম্বারও নিয়েছি। আমিও একজোড়া জুতা কিনে সাহায্য করতে চাইলাম। কিন্তু আমার পায়ের সাথে মিলল না। ওনার পারিশ্রমিক দিয়েই চলে আসলাম। উনি সাহায্য পেলে ব্যবসা বড় করার পরিকল্পনা করছেন। কেউ ফান্ডিং বা ব্যবসায় সাহায্য করতে চাইলে আমি যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারব।

 

আমি একটি বইয়ে সফল/নতুন উদ্যোক্তাদের নিয়ে লিখছি। করোনাকালীন সময়ে বা এর আগে কেউ উদ্যোক্তা হলে আপনার গল্প আমাকে পাঠাতে পারেন। যাচাইয়ের পরে তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ যা অন্যদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি আপনার প্রমোশনও হবে। ইমেইল করতে পারেন বা এই পোস্টেও কমেন্ট করতে পারেন। যা উল্লেখ্য করতে হবেঃ
১. আপনার উদ্দোগের নাম কি?
২. কেন শুরু করলেন? মোটিভেশন বা উৎস কি ছিল?
৩. বর্তমান কি অবস্থায় আছে? কাষ্টমার বেজ কি রকম আছে? আপনার সফলতা বা বিফলতার গল্প।
৪. কি কি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে/হয়েছে? কিভাবে মোকাবিলা করছেন?
৫. সামনে কি কি করার পরিকল্পনা আছে?
৬. আপনার ইচ্ছামত কিছু উৎসাহমূলক কিছু কথা (যদি থাকে)।
মেসেঞ্জারে নক দিলে ইমেইল পাঠিয়ে দিব ইনশাআল্লাহ।

 

আপনার উদ্যোগের কথা কমেন্টে জানালে বা ইমেইলে পাঠালে কি লাভ হবে? সরাসরি কোন লাভ হবে কি না নিশ্চিত বলা মুশকিল। তবে একটা ফ্রি প্রমোশন তো হয়ে যাবে। আর আপনার প্রচেষ্টার গল্প ভালো হলে বইয়ের পাতায় যুক্ত হবে ইনশাআল্লাহ। আর এটিও মাথায় রাখুন যে, আমি একজন জাতীয় মেন্টর। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি ও আইইবি, ঢাকা - এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'ইউনিবেটর প্রোগ্রাম' - এর জন্য নির্ধারিত একজন মেন্টর। এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলঃ ইউনিভার্সিটির ভালো থিসিস বা রিসার্চ আইডিয়াগুলোকে বিজনেস ভেঞ্চার বা স্টার্টাপ আকারে রুপান্তরিত করা। হতে পারে আমি কোথাও আপনার উদ্দোগের কথা বলার সুযোগ পেয়ে যেতে পারি। ফলশ্রুতিতে, ফান্ডিং এর ব্যাপারে সাহায্য হতে পারে।

 

ছোট-বড় সকল উদ্যোক্তাদের জন্য শুভকামনা রইল। দেশে আরও বেশি বেশি স্টার্টাপ/কোম্পানি শুরু হওয়া আশু প্রয়োজন। যে পরিমাণ গ্রাজুয়েট প্রতি বছর বের হচ্ছে, তার বেশিরভাগ অংশই কর্মহীন থেকে যাচ্ছে। এজন্য ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষার্থীদের কেরানি হওয়ার টার্গেট না করে উদ্যোক্তা/ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা বা চেষ্টা শুরু করা উচিৎ। কারও কোন ইনোভেটিভ আইডিয়া থাকলে অবশ্যই কাজ শুরু করুন। শেয়ার করুন আপনার পরিচিত বিশ্বস্ত কারও সাথে। আপনি লেগে থাকলে সফলতা আসবে ইনশাআল্লাহ। আর ফান্ডিং ও মিলে যাবে একসময়। বাংলাদেশ সরকার উদ্যোক্তাদের সাহায্য করার অনেক কাজ হাতে নিয়েছে যা নিয়ে অন্য আরেকদিন লিখা যাবে। আপাতত এ পর্যন্তই থাক। আল্লাহ হাফিজ।

 

লেখক, সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক
সিএসই বিভাগ, চুয়েট
জাতীয় মেন্টর, ইউনিবেটর প্রোগ্রাম।