Berger Paint

ঢাকা, সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২,   অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ আবারও পেছালো যে কোনো মূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবীর ফের রিমান্ডে ৫০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি এসএসসিতে পাসের হার ৮৭.৪৪ শতাংশ সাংহাইয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বিক্ষোভ

জীবন ধ্বংসের নেপথ্যে স্মার্টফোন

মামুন খান

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০২২  

মামুন খান, শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

মামুন খান, শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

 

র্তমানে শিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য এক ভয়ঙ্কর অভিশাপের নাম হলো স্মার্টফোন। খেয়াল করে দেখুন আজকে ষষ্ঠ কিংবা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে মেয়ের হাতেও মোবাইল রয়েছে। করোনা মহামারীর পরবর্তীতে বাবা মায়েদের ধারণা এমন যে, মোবাইল ছাড়া যেন সন্তানদের পড়াশোনা একদমই চলে না। তাহলে আপনার বাবা মা সহ অতীতে যে সকল বিজ্ঞজনেরা শিক্ষা অর্জন করেছেন, যারা মেডিকেল, বুয়েট কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছেন, তাদের পড়াশোনা কি মোবাইল ছাড়া হয়নি? নাকি তাদের পড়াশোনা মোবাইল ব্যতীত আটকে ছিলো?  তাহলে আপনার সন্তানের বেলায় কেন পড়াশোনার জন্য মোবাইল প্রতিনিয়ত ব্যবহার করতে হবে? আমি তো বলছি না পড়াশোনার ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। অবশ্যই ব্যবহার করা যাবে। তবে সেটা যথোপযুক্ত ও ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে। কেননা, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, পড়াশোনার মান উন্নয়ন, দ্রুত সময়ে ফলাফল প্রকাশ, অনলাইন ক্লাস ও ভর্তিসহ অসংখ্য খাতে মোবাইলের অসামান্য ইতিবাচক অবদান রয়েছে। কিন্তু আমাদের সকল কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক কাজের জন্যই কি শুধু মোবাইল ব্যবহার করছে? তাদের দ্বারা কি কোন নেতিবাচক কর্মকান্ড হচ্ছে না মোবাইলের মাধ্যমে?

 

হাজারো ইতিবাচক প্রভাবের মাঝে মোবাইলের গুটিকয়েক নেতিবাচক প্রভাবই আপনার জীবনকে এবং আপনার সন্তানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে।  আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো সময়। যে ব্যক্তি সময়কে যত বেশি সদ্ব্যবহার করবে, সে জীবনে তত বেশি উন্নতি করবে। কিন্তু এই মোবাইল আপনার সময় এবং কর্মস্পৃহাকে  ভয়ালভাবে গ্রাস করে দিচ্ছে। আপনাকে একটা গল্প বলি, আপনি বিশ্বাস করুন বা নাই করুন এটা চিরন্তন সত্যি। "ধরুন, আপনি চিন্তা করলেন আপনি আজকের  সমস্ত কাজ নির্দিষ্ট সময়মত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খাভাবে সম্পূর্ণ করবেন। এরপর হঠাৎ যদি আপনার মনে পড়ে পাঁচ মিনিটের জন্য একটু ফেসবুক থেকে আপডেটগুলো দেখে আসি। মাত্র পাঁচ মিনিটে আর কী হবে? এটা ভেবে যখন  পাঁচ মিনিটের জন্য আপনি ফেসবুক স্ক্রলিং করতে ঢুকলেন এবং  কখন যে আপনার এক ঘন্টা পেরিয়ে যাবে সেটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।  হঠাৎ আপনার মনে পড়বে, আপনিতো পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করার জন্য এখানে এসেছিলেন। এত সময় পেরিয়ে গেল কিভাবে?  হ্যাঁ, মোবাইলের  ব্যবহার এমনই এক নেশার মতো আপনাকে আসক্ত করে রাখে এর মাঝে। এটা তো শুধু যারা পাঁচ মিনিট ব্যবহার করার জন্য আসলেন তাদের এক ঘন্টা সময় নষ্ট হওয়ার গল্প। আর যারা দিনের শুরুতেই ঘুম ভাঙেন মোবাইলের স্কিনে নেট দুনিয়ায় স্ক্রলিং করে ও সিংহভাগ সময়ই মোবাইলের পেছনে অতিবাহিত করছেন, তাদের জীবন থেকে কতটা ভয়ংকর ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময় কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে মোবাইল তা কি একবারও ভেবেছেন? এছাড়াও আপনার  হঠাৎ মনে পড়ল  জরুরী একটা তথ্যের জন্য  আপনাকে মেসেঞ্জারে আসতে হবে। মেসেঞ্জারে আসলেন, তথ্য নিলেন, কিন্তু সেখানেও আপনি বন্ধুদের কথার মায়াজালে পরে  ব্যাপক সময় অতিবাহিত করলেন।  হটাৎ আপনার  মনে পড়ল আপনি কেন জানি মেসেঞ্জারে এসেছিলেন? শুধু এখানেই শেষ নয়, বিশ্বায়নের এই যুগে ভিন্ন সংস্কৃতির নানা অশ্লীলতা এবং বেহায়াপনা অহরহভাবে আমাদের মাঝে ঢুকে পড়ছে। আমরা বয়সে বড়রা সেসকল বেহায়াপনা ও নগ্নতার  ক্ষতিকর দিকসমূহকে বুঝতে পেরে সেগুলো থেকে দূরে থাকি কিংবা সতর্কতা অবলম্বন করে মোবাইল ব্যবহার করি। কিন্তু আমাদের ছোট্ট ছোট্ট কোমলমতি শিশুরা এবং

 

কিশোর-কিশোরী শিক্ষার্থীরা কি সেই সকল ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানে? নগ্নতা ও বেহায়াপনার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তারা না জানার  কারণেই, কৌতুহলবশত ও বন্ধু-বান্ধবের প্ররোচনায় পড়ে কিশোর বয়সেই মোবাইলের মাধ্যমে  জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়া ও অশ্লীল কার্যকলাপে। এছাড়াও আসক্তির অন্যতম উপাদান হলো মোবাইলে ভিডিও গেমস।  অত্যাধুনিক এই ভিডিও গেমসের নেশা আমাদের সন্তানদেরকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক চিন্তা করার শক্তিসহ সমস্ত কর্মস্পৃহা থেকে দূরে সরিয়ে এক আলস্য, অকর্মণ ও সমাজের বোঝা স্বরূপ জাতিতে পরিণত করছে।

 

বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর পত্রিকার ২০১৬  সালের এক প্রতিবেদনে আমরা দেখতে পাই, ১১ শতাংশ শিশু পর্ণ আসক্ত। ক্যাসপারস্কি ল্যাবের পক্ষ থেকে ১০০০ শিশুর উপর গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্যই পাওয়া গিয়েছে। জীবন বিনষ্টকারী এই আসক্তি যে একজন শিশুর জন্য কতটা ক্ষতিকর আরেকদিন নাহয় সে বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। আজ শুধু এতোটুকুই বলবো সচেতন অভিভাবক হিসেবে আপনার সন্তানের হাতে ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটির সঠিক, যথাযথ ও ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা আপনার জন্য আবশ্যকীয় দায়িত্ব এবং যতটা সম্ভব সন্তানকে মোবাইল থেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করুন। আর নয়তো আপনার সন্তানের সুন্দর আগামীর জীবনটাকে নষ্ট করার জন্য আপনাকেই অনুশোচনা করতে হবে।


শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ।

এই বিভাগের আরো খবর