ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১,   জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮

ব্রেকিং:
ইসরায়েলে ৩ হাজার রকেট ছুড়ল হামাস pmশেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
সর্বশেষ:
ভারতে একদিনে আরও ৪ হাজারের বেশি মৃত্যু গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০ শিশুসহ নিহত ৪২

জো বাইডেনের জলবায়ু সম্মেলন বিশ্বের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে

মো: জিল্লুর রহমান

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২১  

মো: জিল্লুর রহমান, ছবি- সংগৃহীত।

মো: জিল্লুর রহমান, ছবি- সংগৃহীত।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন চলতি বছর ২০ জানুয়ারি তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পুনঃযোগদান বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং এর কয়েকদিন পর ২৭ জানুয়ারি তিনি জলবায়ু সঙ্কট মোকাবেলায় সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশগুলোর প্রচেষ্টা জোরদার করার লক্ষ্যে শিগগিরই একটি শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন জলবায়ু বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন ‘লিডারস সামিট’-এ ৪০ জন বিশ্ব নেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং ভার্চুয়ালই অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনটি বিশ্ববাসীদের দেখার জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। "লিডারস সামিট অন ক্লাইমেট"এ মূলত জলবায়ু কেন্দ্রিক পদক্ষেপ গ্রহণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক গুরুত্বগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটি আগামী নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (সিওপি২৬ বা কোপ ২৬ ) সফল করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

 

বিজ্ঞানীরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পৃথিবীর উপর জলবায়ু পরিবর্তনের চরম মন্দ প্রভাব বিলম্বিত করার লক্ষ্যে বিশ্বের উষ্ণায়নকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। লিডারস সামিট ও কোপ ২৬ উভয় সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে উষ্ণায়নকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার প্রচেষ্টাকে সহায়তা করা এবং এ লক্ষ্যকে অর্জনযোগ্য অবস্থায় বহাল রাখা। জো বাইডেনের সম্মেলনে জলবায়ুকেন্দ্রিক উচ্চাকাঙ্খা কীভাবে ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে জলবায়ু প্রভাবের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করবে তার দৃষ্টান্তও তুলে ধরা হয়।

 

জো বাইডেন দু'দিনব্যাপী ভার্চুয়াল জলবায়ু সম্মেলনে কয়েক ডজন বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে "জাতীয়ভাবে প্রতিশ্রুত অবদান" নামে একটি অঙ্গীকার করেছেন এবং তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে পুনরায় ফিরে এসেছেন যা তার পূর্ববর্তী ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্বন নিঃসরণ রোধে বৈশ্বিক জোট থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিল এবং এ কারণে বিশ্বব্যাপী আমেরিকা মারাত্মকভাবে সমালোচিত হয়। জো বাইডেন সম্মেলনে বলেন, "এই পদক্ষেপগুলি আমেরিকাকে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃত শূন্য নির্গমন অর্থনীতির পথে নিয়ে যাবে। তবে চরম সত্যটি হলো আমেরিকা বিশ্বের নির্গমনের ৫০ শতাংশেরও কম প্রতিনিধিত্ব করে। কোনও জাতিই নিজেরা এই সঙ্কট সমাধান করতে পারে না, কারণ আমি জানি আপনারা প্রত্যেকেই বিষয়টা পুরোপুরি বুঝতে পেরেছেন।

 

বাইডেন প্রশাসনের পরিবেশবাদী দল এবং জলবায়ু বিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে ২০০৫ সালের স্তরের তুলনায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করার জন্য প্রচন্ড চাপ ছিল। ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী নির্গমন অর্ধেকে হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তা হিসাবে বিবেচনা করা হয় যদি বিশ্ব উষ্ণায়নকে ১.৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে জাতিসংঘের লক্ষ্যগুলি অর্জন করতে চায়। তবে বাইডেনের প্রতিশ্রুত ৫০ শতাংশ থেকে ৫২ শতাংশ নির্গমন হ্রাসের উচ্চাভিলাষী অঙ্গীকার, এখনও পরিবেশবাদী দলগুলির সমালোচনার মুখোমুখি হতে পারে কারণ এ ধরনের প্রতিশ্রুতি আমেরিকাকে নেতৃত্বের আসনে ফিরে আসতে সহায়তা করবে না। উদাহরণস্বরূপ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৫৫ শতাংশ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং যুক্তরাজ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট ৭৮ শতাংশ নির্গমন হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

 

একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম নির্গমনকারীদের উপর চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে আমন্ত্রিত সবাইকে সমান উচ্চাভিলাষী নির্গমন হ্রাসের প্রতিশ্রুতি করতে শীর্ষে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস জলবায়ু চুক্তি পরিত্যাগ করার পর অন্যান্য দেশগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল যাতে ওয়াশিংটন কিভাবে তার কঠোর অবস্থান থেকে ফলপ্রসূভাবে ফিরে আসে এবং সেই পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিকভাবে কতটা টেকসই হয়।

 

সম্মেলনে প্রথম বক্তব্য রাখেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে তার দেশ ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েছে এবং তিনি আরও বলেছেন, "তার দেশ ২০৩০ সালের আগে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনকে উন্নত করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।" তবে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি নতুন কোন অঙ্গীকার নয়, বরং এটা চীনের জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী হিসাবে দেখা হয়, যা বিশ্বের একটি বৃহত্তম কার্বন নির্গমনকারী দেশ। তবুও অন্য উন্নত দেশগুলির চেয়ে চীনের লক্ষ্যগুলি পিছনে রয়েছে।

 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অবশ্য উক্ত সম্মেলনে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি না দিয়ে  বলেছেন যে, তিনি তার দেশের রাষ্ট্রীয় ভাষণে রাশিয়ায় প্রকৃত নির্গমন পরিমাণকে ২০৫০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে সীমাবদ্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের পুরো গ্রহের ভাগ্য, প্রতিটি দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনা, মানুষের মঙ্গল ও জীবনযাত্রার মান অনেকাংশে এই প্রচেষ্টাগুলির সাফল্যের উপর নির্ভর করে। ১৯৯০ সালের তুলনায় রাশিয়া গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকে অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে হ্রাস করেছে, কার্বনডাই-অক্সাইড ৩.১ বিলিয়ন টন থেকে ১.৬ বিলিয়ন টনে নিয়ে গেছে।

 

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারো, যিনি অ্যামাজন বনাঞ্চল রক্ষায় ব্যর্থতার জন্য তীব্র সমালোচিত হয়েছিলেন, তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে অবৈধ বন উজাড় রক্ষার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতো অন্যান্য দেশের নেতারাও জলবায়ু নির্গমন হ্রাসের বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

 

উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে অবিলম্বে এক উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে অবিলম্বে একটি উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। এছাড়া তিনি সম্মেলনে বেশ কয়েকটি পরামর্শ উপস্থাপন করেন। প্রথমত, ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিলের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে হবে, যা অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ ভারসাম্য বজায় রাখবে। এই তহবিলের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়গুলোর ক্ষয়ক্ষতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। দ্বিতীয়ত, প্রধান অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উদ্ভাবনের পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নের জন্য বিশেষভাবে ছাড় দিতে হবে। তৃতীয়ত, সবুজ অর্থনীতি ও কার্বন প্রশমন প্রযুক্তিগুলোর ওপর দৃষ্টি দিতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তির বিনিময় করতে হবে।

 

তবে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) চলতি বছর বিশ্বজুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সংকট আরও প্রকট হয়েছে এবং এধারা এবছরও অব্যাহত থাকবে। আইইএর প্রতিবেদন বলছে, করোনাভাইরাসের মহামারির ধাক্কায় বিশ্বজুড়েই অর্থনীতির চাকা প্রায় থেমেই গিয়েছিল। সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে অর্থনীতি আবার পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক এই পুনরুদ্ধারে যে উপকরণগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, কয়লা তার মধ্যে অন্যতম। এর ফলে ২০২১ সালে এত পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হবে, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে জলবায়ু সম্মেলন শুরুর আগমুহূর্তে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে এবং এটি একটি উদ্বেগজনক চিত্র।

 

আইইএর এই বার্ষিক পর্যালোচনা প্রতিবেদন গ্লোবাল এনার্জি রিভিউয়ে বলা হয়, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। অর্থাৎ ২০২১ সালে মোটের ওপর ৩ হাজার ৩০০ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হতে পারে। অথচ গত বছর করোনা মহামারির কারণে দেশে দেশে লকডাউন ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০১৯ সালে সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরিত হয়েছে। তবে আইইএ বলছে, এ বছর নিঃসরণ বাড়লেও তা ২০১৯-কে ছাড়াতে পারবে না এবং ২০২১ সালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি চাহিদা মহামারির আগের সময়ের পর্যায়ে বাড়বে। ফলে এবছর গ্যাস ও কয়লার ব্যবহার বাড়বে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো দাবদাহ, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, যা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে৷ বিভিন্ন দেশের সরকারের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির ২০১৪ সালের মূল্যায়নে এই বিষয়গুলো উঠে আসে৷ ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বড় অংশে দাবদাহ ক্রমাগত বাড়ছে৷ একইভাবে, উত্তর অ্যামেরিকা ও ইউরোপে ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেড়েছে এবং কিছু দিন পরপরই বিশ্বের নানা জায়গায় একই উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে৷

 

বিশ্বের ১৮৯টি দেশের সমর্থনে করা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মূল লক্ষ্য বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোকে অর্থসহায়তা দেওয়া। ঐতিহাসিক এই চুক্তিতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির গড় হার দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে বা সম্ভব হলে দেড় ডিগ্রির মধ্যে রাখতে বিশ্বের দেশগুলো একমত হয়। জো বাইডেনের জলবায়ু সম্মেলন সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে আসবে বলে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস।

 

লেখক: ব্যাংকার ও মুক্তমনা কলাম লেখক, সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

এই বিভাগের আরো খবর