Berger Paint

ঢাকা, সোমবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ১১ ১৪২৭

ব্রেকিং:
কমলাপুরে পোশাক কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট
সর্বশেষ:
ভারতে কংগ্রেস নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ রাজধানীর হাইকোর্টের সামনের রাস্তায় ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তি নিহত ঘন কুয়াশায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ

ট্রাম্পের শাসনকাল পুরোটাই বিতর্কিত কর্মকান্ডে টইটম্বুর

মো: জিল্লুর রহমান

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২১  

মো: জিল্লুর রহমান, ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

মো: জিল্লুর রহমান, ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।


তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে রাষ্ট্রক্ষমতা যাদের হাতে, তারা আজীবন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চান। একবার ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে গেলে সে স্বাদ অনন্তকাল পেতে চান। ট্রাম্পের আচরণ তাদের কাছে খুব অচেনা লাগছে না। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তার ভাষ্য নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যদিও কারচুপির কোনো প্রমাণ তিনি বা তার দল দেখাতে পারছে না। নির্বাচন নিয়ে তিনি ও তার সমার্থকরা আইনের আশ্রয়ও নিয়েছিলেন কিন্তু সব ক্ষেত্রেই তার সমস্ত আবেদন অগ্রাহ্য হয়েছে। সাধারণত আমেরিকায় ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে পূর্বে এমন অদ্ভুত ও নাটকীয় ঘটনা কখনও হয়নি। আগে ছোটখাট যাই ঘটেছে কিন্তু এবার যা হচ্ছে তা পিছনের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ট্রাম্প ধীরে সুস্থে তার পারিবারিক ব্যবসায় ফিরে যাবেন, সেটাই সকলের কাম্য ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো হোয়াইট হাউজের ক্ষমতা ট্রাম্পকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরেছে, যা তিনি ছাড়তে চাচ্ছেন না। তিনি এটিকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তি মনে করছেন।

 

আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্প চার বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণ করেই একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধাস্ত গ্রহণ করেছেন। রাজনীতি ও কুটনীতি উভয় ক্ষেত্রেই অনভিজ্ঞ ও অপরিপক্ব ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই গণমাধ্যমে আলোচিত ও সমালোচিত ছিলেন। বিশ্ব রাজনীতিতেও তিনি অালোচিত ও সমালোচিত ব্যক্তি। বুঝে হোক আর না বুঝে হোক তিনি টুইট বার্তার ঝড় বইয়ে দেন। এটা তার পেশা ও নেশা! অনেকে বলেন, একঘেয়েমি ও গোয়ার্তুমি তার একটি রোগ। কিছু বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সমার্থক তার অন্ধ ভক্ত হলেও, অধিকাংশ মুক্তমনা মার্কিন নাগরিক তার অস্বাভাবিক আচরণে চরম বিরক্ত ছিলেন। তার সমালোচনায় তারা সব সময় সরব এবং নির্বাচনী ফলাফলেও তার প্রমাণ মিলেছে। তবে তার অন্ধ সমার্থকরা কংগ্রেস ভবনে যা ঘটিয়েছে তা মার্কিন ইতিহাসে বিরল, নজিরবিহীন ঘটনা ও একটি কলঙ্কিত অধ্যায়।

 

৬ জানুয়ারী কংগ্রেস ভবনে হামলার পর গোটাবিশ্ব জুড়েই নিন্দার ঝড় উঠেছে। গোটা ওয়াশিংটন জুড়ে কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাম্প টুইটার অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে তার সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন ঠিকই কিন্তু সেখানেও তিনি ভোটে কারচুপির বিষয়টি উল্লেখ করতে ভুলেননি। শুধু তাই নয়, সমর্থকদের প্রতি নরম মনোভাবও দেখিয়েছেন। পরে অবশ্য ট্রাম্প একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, কংগ্রেস ভবনের ঘটনা অনভিপ্রেত। ক্ষমতা হস্তান্তর যাতে স্বাভাবিক ভাবে হয়, সে দিকে তিনি খেয়াল রাখবেন। বস্তুত, এই প্রথম ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প। এর আগে তার বক্তৃতায় ভোট কারচুপি, ক্ষমতা থেকে সরতে না চাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তারপরেই তাঁর সমর্থকরা ক্যাপিটল ভবনে আক্রমণ চালায়।

 

নির্বাচনের অনেক আগ থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ ছিল অসংযত ও রহস্যময়। ভোটের ফল তার পক্ষে না এলে তিনি তা মানবেন না, তা আগে থেকেই বার বার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। এমনকি সর্বশেষ জর্জিয়ায় সিনেট নির্বাচনে নিজের দুই প্রার্থী হেরে যাওয়ার পরও তা মানতে চাননি। আর এরপর যা ঘটলো, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক কালো অধ্যায়।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমার্থন ও উস্কানিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে এক নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটলো। সেই হামলার সময় উগ্র সমর্থকদের ফিরে যাওয়ার কথা বললেও নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে তিনি বিষোদগার ও হামলাকারীরাদের দেশপ্রেমিক বলে উল্লেখ করেন। তার দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক বড় নেতাও কংগ্রেস ভবনের এ ধরণের হামলায় বিস্মিত ও স্তম্ভিত। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগতভাবে কয়েক সপ্তাহ ধরে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ তুলে নিজ সমর্থকদের কান ভারী করে আসছিলেন। উসকানির চূড়ান্ত পর্যায়ে তার শত শত উগ্র সমর্থক মার্কিন গণতন্ত্রকে প্রতিনিধিত্ব করা ঐ ভবন অভিমুখে বিক্ষোভ করে একপর্যায়ে হামলাই করে বসে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাচনে স্পষ্ট ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু তিনি হার মানতে নারাজ। তার দাবির সপক্ষে মিছিল নিয়ে ওয়াশিংটনে আসতে তিনি কয়েকবার সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এদিন নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিতে যৌথ অধিবেশন বসে কংগ্রেসের। ফেসবুক ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আর যে কয়েকটি দিন প্রেসিডেন্ট আছেন – সেই পুরো সময়টার জন্য তার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এ্যাকাউন্ট বন্ধ করে রাখা হবে। ফেসবুক বলছে,  ট্রাম্পকে এ সময়টায় তাদের সেবা ব্যবহার করতে দেয়াটা খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

 

কংগ্রেস ভবনে হামলার পর ফের যৌথ কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হয়। সেখানে ইলেকটোরাল ভোট গণনার পরে বাইডেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকার করা হয়। ঐ অধিবেশনের পরেই দ্বিতীয়বার ট্রাম্পকে অভিশংসন করা নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু ২০ জানুয়ারির আগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলে বলছেন বিশ্লেষকরা।

 

বর্তমানে আমেরিকা করোনা ভাইরাসে বিধ্বস্ত এবং সেদেশে কারো জীবনের কোনো স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নেই। ভয়াবহ ঝুঁকিতে গোটা দেশের জনগণ। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বে আমেরিকায় সর্বাধিক। অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির শীর্ষে অবস্থান করেও করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আমেরিকাকে পূর্বে কখনও এরকম অসহায় হতে দেখা যায় নি। আর আমেরিকার এই পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা কোনও ভাবেই অস্বীকার করা যায় না। আর এ সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছেন জো বাইডেন ও তার রানিং মেট কমলা হারিস। শুধু করোনা ভাইরাস মোকাবেলা নয়, অন্যান্য ব্যর্থতাকে ছাপিয়ে উঠে জো বাইডেন তার সফলতা ছিনিয়ে এনেছেন। নাছোরবান্দা ট্রাম্প সর্বশেষ পরাজয় মেনে নিলেও, তার সরাসরি সমার্থন ও উস্কানিতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবনে এক নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটলো।।

 

করোনা ব্যর্থতার জন্য তার দেশেই ট্রাম্পের নামে চালু হয়েছিল মৃত্যুঘড়ি। নিউ ইয়র্ক শহরের টাইমস স্কয়ারের একটি বিলবোর্ডে ট্রাম্পের নামে মৃত্যুঘড়িটি চালু করা হয়েছিল। ঘড়ির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’। এই ঘড়িতে ট্রাম্প প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাজনিত সংকটের কারণে নিহতদের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচনে এর খেসারত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিতে হয়েছে। জো বাইডেনের প্রতিশ্রুতিকে ভোটাররা আস্থায় নিতে পেরেছে এবং তাকে বিজয়ী করেছে।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইনিন প্রয়োগ করে কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় নতুন প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। জীবাণুনাশকের ইঞ্জেকশন দিয়ে করোনাভাইরাস ধ্বংস করা যায় কি-না -তা নিয়ে গবেষণা শুরুর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। একইসাথে, কোভিড-১৯ রোগীর শরীরে বা অতি-বেগুনি আলোকরশ্মির তাপ দিয়ে করোনাভাইরাস মেরে ফেলা যায় কিনা - সেটাও খতিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন মি.ট্রাম্প। অর্থ্যাৎ কতদ্রুত তিনি তার নাগরিকদের করোনা মুক্ত করতে পারেন, সে চেষ্টাই করেছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই দ্রুত নির্বাচনী বৈতরণী পার করা কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি! নানা সমালোচনা ও বিতর্কের পর তিনি এসব সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিলেন।

চার বছর আগে ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকা প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন যা আমেরিকার আদালতে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। জো বাইডেন নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করে তার প্রথম ও প্রধান কাজ হলো এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং এ প্রতিশ্রুতি ইমিগ্রান্ট ভোটারদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে, তারা প্রতিশোধ নেয়ার অপেক্ষায় ছিলেন এবং জো বাইডেনকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে তার ফল দিয়েছেন।

 

এছাড়া ট্রাম্প গত নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে মরিয়া হয়ে ওঠেন যা কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দিলেও তার মনপুত হয়নি। ডেমোক্র্যাটরা একে তার পাগলামি বলে অভিহিত করেছিল। তিনি আমেরিকার জনপ্রিয় ওবামা কেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্য সেবা বাতিলের ঘোষণা দেন যা মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। তিনি প্যারিস প্রটোকল নামে পরিচিত অান্তর্জাতিক জলবায়ু সংক্রান্ত চুক্তি থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহার করে নেন। তিনি ইউনেস্কো ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন এবং সর্বশেষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফান্ড বন্ধসহ সেটা থেকে নিজেদের সদস্য পদ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। জো বাইডেন ঘোষণা করেছেন তিনি পুনরায় এসব আন্তর্জাতিক সংস্থায় আবার ফিরে আমেরিকার ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনবেন।

 

আশ্চর্যের বিষয় ট্রাম্প আমেরিকার সমস্ত ঘনিষ্ট মিত্রদের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইরানের সাথে সম্পাদিত ছয় জাতীর পরমানু সমযোতা চুক্তি থেকে আমেরিকাকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেন। শুধু নিজেকেই প্রত্যাহার করে ক্ষান্ত হননি, তিনি আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্রদেরকেও বের হয়ে যাওয়ার জন্য প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করেন এবং ইরানের সাথে সমস্ত ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দেন। চুক্তিতে অনুস্বাক্ষরকারী বাকী দেশগুলো ট্রাম্পের এ সিদ্ধাস্তকে চরম অপরিপক্ব সিদ্ধাস্ত বলে অভিহিত করেছিল। জো বাইডেন নির্বাচনের সময়ই ঘোষণা করেছেন, তিনি পুনরায় ইরানের সাথে সম্পাদিত ছয়জাতির চুক্তিতে ফিরে যাবেন এবং ইরানকে কুটনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবেন।

 

নির্বাচনের বেশকিছু দিন আগে জর্জ ফ্লয়েড নামের একজন কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকায় ব্যাপক আন্দোলন হয়। আমেরিকাজুড়ে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ। স্লোগান ছিল, ‘সে দ্য নেইম- জর্জ ফ্লয়েড’। শুধু আমেরিকা নয়, বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ছিল করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর তাণ্ডব উপেক্ষা করে আমেরিকার বর্ণবাদী ভাইরাসের দিকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখানেও বেফাঁস মন্তব্য করে বর্ণবাদকে উষ্কে দিয়েছিলেন কিন্তু ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে চুপসে গেছেন। তার বর্ণবাদী আচরণ নতুন কিছু নয়, এ আগেও তিনি দেশে বিদেশে এজন্য সমালোচিত হয়েছেন। বর্ণবাদী চিন্তা তার ধ্যান ও জ্ঞানে এবং এটাতেই তার চরম বিশ্বাস! কৃষাঙ্গরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেনি এবং নির্বাচনে এটা তার নেতিবাচক ফল বয়ে এনেছে এবং জো বাইডেনের পাল্লা ভারী করেছিল।

 

তার একটি সমস্যা হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সকালের সিদ্ধাস্ত বিকালে পরিবর্তন করেছেন। নিজের বিশ্বস্ত বন্ধুকে কয়েক দিনের মধ্যেই শত্রুতে পরিনত করেছেন। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ গুরুত্বপূর্ণ পদস্থ ব্যক্তিদের বেশ কয়েকদফা পরিবর্তন করেছেন, যা আমেরিকার রাষ্ট্র প্রধানদের ইতিহাসে বিরল ও নজিরবিহীন। তিনি গণমাধ্যমকে সবসময় শত্রু ও প্রতিপক্ষ মনে করেন। তার জামাতা জ্যাক কুশনার ও মেয়ে ইভাংকাকে তার উপদেষ্টা করে হোয়াইট হাউসে স্বজনপ্রীতির নজির স্থাপন করেছেন, যা মার্কিন ইতিহাসে বিরল এবং ভোটাররা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি।

 

করোনা ভাইরাসের এ চরম কান্তিকালে যেখানে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন, সেখানে ইরানের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার মার্কিন ঘোষণা প্রমান করে ডোনাল্ড ট্রাম্প কত নীচু প্রকৃতির মুলাবোধ ধারণ করেন! শুধু তাই নয, করোনা ভাইরাস মোকাবেলার জন্য আমেরিকা তার বন্ধুপ্রতীম দেশ জার্মানীতে পাঠানো কিছু চিকিৎসা সামগ্রী ব্যাঙ্কক থেকে ফেরৎ নিয়েছে এবং কানাডায় পাঠানো কিছু চিকিৎসা সামগ্রী আটকিয়ে দিয়েছে। জার্মানী একে আধুনিক কুটনীতিতে প্রকাশ্য চৌর্য্যবৃত্তি বলে বর্ণনা করেছে। তাছাড়া, নির্বাচনের কয়েকমাস আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানীর মার্কিন ঘাঁটি থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করে পোলান্ডে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ডেমোক্র্যাটরা এবং মার্কিন সমরবিদরা একে ট্রাম্পের চরম অপরিপক্ক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেছিলেন। বিষয়টি জো বাইডেনের জন্য ইতিবাচক হিসেবে কাজ করেছে।

 

তবে মোদ্দাকথা হচ্ছে ট্রাম্পের সময় চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আমেরিকার কুটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি। করোনার প্রভাবে হাবুডুবু খাচ্ছে আমেরিকার অর্থনীতি ও জনজীবন। একঘুয়ে ট্রাম্পের একের পর এক অপরিপক্ক সিদ্ধাস্ত আমেরিকার কুটনীতিকে ধীরে ধীরে যেমন বন্ধুবিহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে, ঠিক তেমনি ট্রাম্পের ব্যর্থতাকে জো বাইডেনের জন্য বেশ ইতিবাচক ভূমিকা হিসেবে কাজ করেছে। নিঃসন্দেহে করোনা মোকাবেলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নভেম্বরের নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল। ট্রাম্পের ব্যর্থতাগুলো জো বাইডেনের জয়লাভের জন্য যাদুর মন্ত্রের মতো কাজ করেছে।

 

আরো পড়ুন: আজীবনের জন্য বন্ধ হলো ট্রাম্পের টুইটার এ্যাকাউন্ট

 

তবে বিদায়ের প্রাক্কালে কংগ্রেস ভবনে আক্রমণ করে ট্রাম্পের ইন্ধনে তার সমার্থকরা যা ঘটিয়েছে, তা শুধু মার্কিন ইতিহাসের এক কলঙ্কিত ঘটনা নয়, তা সারা বিশ্বের গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত ও মারাত্মক হুমকি। ট্রাম্পের বিতর্কিত কর্মকান্ডগুলো ইতিহাসে কলঙ্কিত ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে ট্রাম্পের লম্ফঝম্প, হাঁকডাক, মামলা হামলা, পাগলামী ও হম্বিতম্বি সবশেষ হয়েছে। তাকে আর মিথ্যা বলতে হবে না। তার আশা নিরাশা শেষ হযেছে, জো বাইডেন ও কামালা হারিস জয় লাভ করেছে। তাদেরকে অভিনন্দন, জয় হোক গণতন্ত্রের, বিশ্বে শান্তি ফিরে আসুক। এখন মার্কিন কুটনীতি হয়তো নতুনভাবে বিশ্বে আলো ছড়িয়ে বিশ্বকে নতুনভাবে আলোকিত করবে।

 

লেখক: ব্যাংকার ও মুক্তমনা কলাম লেখক, সতিশ সরকার রোড, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

এই বিভাগের আরো খবর