Berger Paint

ঢাকা, রোববার   ০৭ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭

ব্রেকিং:
দেশের ৫০ জেলা পুরোপুরি লকডাউন, ১৩ জেলা আংশিক
সর্বশেষ:
করোনায় বিপর্যস্ত স্পেনকে ছাড়িয়ে পঞ্চমে ভারত চট্টগ্রামে আরও ১৫৬ জনের করোনা শনাক্ত বাজেট অধিবেশনের আগেই সব এমপির করোনা টেস্ট রুবানা হক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেননি: বিজিএমইএ বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংসহ নয়জনের কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়েছে।

দুর্নীতি বিরোধী অভিযান কি ঢাকায় সীমাবদ্ধ!

আজহার মাহমুদ

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

পঠিত: ৬৬০
আজহার মাহমুদ

আজহার মাহমুদ

নীতি নৈতিকতা থেকে সরে এসে অপকর্ম আর অপরাধ করাটাই আমার কাছে এক কথায় দুর্নীতি মনে হয়। মনে হওয়ার অনেক কারণও আছে। আমরা কাছে ‘নীতি’ শব্দটাই অনেক বড় কারণ। এই যেমন রাজনীতি, সমাজনীতি, নীতিমালা, জাতীয় নীতি, শ্রম নীতি, বাণিজ্য নীতি, আরও হাজার হাজার নীতি আছে। যা বলতে গেলে শেষ হবে না। তবে এসব কিছুর মধ্যে নীতি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ নীতি বলতে সহজভাবে বুঝায় নিয়ম, প্রথা, প্রনালী। আর এই নিয়ম কিংবা নীতির উল্টোকেই অনিয়ম এবং দুর্নীতি বলে। যার কারণে দুর্নীতি সরাসরি নীতির অপর পক্ষকে বুঝায়।
এবার আসা যাক মূল কথায়। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির বিরোদ্ধে বর্তমান সরকার যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে সেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে এই প্রশংসার সাগরে প্রশ্নের নৌকাও বইছে প্রচুর। এসব প্রশ্নের মধ্যে অন্যতম প্রশ্ন আমার এই লেখার শিরোনাম। এইযে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে কাউন্সিলর রাজীব, যুবলীগ নেতা খালেদ, সম্্রাট, আরমান, ক্যাডার শামীম, সেলিম প্রধান এবং বিসিবির লোকমান ভূয়ারা জেলে গেছেন। তারা সকলেই ছিলেন ঢাকায়। ঢাকার বাইরে চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো অভিযান কিংবা দুর্নীতিবাজ ধরা পড়েছে বলে আমার মনে হয় না। তাহলে কি ঢাকায় সব দুর্নীতি হয়? কিংবা ঢাকার বাইরে কি কোনো দুর্নীতি হয় না? প্রশ্নগুলো সত্যিই না করার মতো নয়।
আমি যদি নীতির মধ্যে দিয়ে বলি তাহলে আমার বলতে হবে, দুর্নীতি সব জায়গায় হচ্ছে। যেমন বালিশ কান্ড ঠিক তারপর পর্দা কান্ড। জমি দখল করে কিছু কিছু কাউন্সিলররা রাতারাতি কোটি টাকার মালিক হয়ে যায় আমার অনেকে টেন্ডারবাজি করে বনে যায় বড় শিল্পপতি। এসব কিছুই দুর্নীতির অবদান। তবে এই দুর্নীতির রং সব জেলা, সব উপজেলা, সব স্থানেই লেগে আছে। কেউ ধরা খাচ্ছে কেউ খাচ্ছে না। দুখিঃত! কাউকে ধরছে কাইকে ধরছে না। এমনটাই হচ্ছে। তবে কেন এমন হচ্ছে সেটাই ভাববার বিষয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এ অভিযান চলবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কিন্তু তবুও অনেকেই ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। একজন পৌরসভার কাউন্সিলর যদি মাটির ঘর থেকে কাউন্সিলর হওয়ার পর বাড়ির গেইটের জন্য পচাত্তর লক্ষ খরচ করতে পারেন তাহলে তার বাড়ির জন্য কত খরচ করেছেন সেটা একটু কল্পনা করে দেখবেন। অংকটা মিলে যাবে। হ্যাঁ এমন কাউন্সিলরও চট্টগ্রামে রয়েছে। শুধু নেই তদন্ত। কারণ সঠিক তদন্ত করতেও যে নীতির প্রয়োজন সেটাই আমরা মাঝে মাঝে ভুলে যাই। আজকাল নীতি খুঁজে পাওয়া বড়ই দুষ্কর। পত্রিকার মারফতে জানতে পারলাম একজন কাউন্সিলর তার বিক্রি করা জায়গা গুলোও এখন আর দিচ্ছেন না। তিনি কাউন্সিলর হওয়ার পর তার সমস্ত সম্পত্তি তিনি নিজের দখলে নিয়ে নেন। আর সাধারণ মানুষ এর প্রতিবাদ করতে পারে না। না পারার কারণ সহজ। সরল অংকের চাইতে সহজ। ক্ষমতা আর শক্তির কাছে পরজয় বরণ করে না এমন মানুষ খুব কম। কারণ অপরাজিত থাকতে হলে আপনাকে পরপারে চলে যেতে হবে। এপারে থাকতে হলে পরজায় মানতেই হবে।
আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী। সবাই অনেক আনন্দ-খুশীতে রয়েছে। তবে কেন জানি আনন্দিত হতে পারছি না। কি দিতে পেরেছি আমরা বঙ্গবন্ধুকে? ওনার ছবি অফিসে লাগিয়ে, ওনার নাম ধারণ করে যদি দুর্নীতি আর অপকর্ম করা হয় উনি নিশ্চই খুশি হবেন না। আর বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে না পরলে আমাদেরও আনন্দিত হওয়ার কোনো মানে হয় না। মাঝে মাঝে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, ‘হে বঙ্গবন্ধু এটাই কি তোমার সোনার বাংলা?’ যে মানুষটা নিজের যৌবন বির্সজন দিয়েছে বাংলাদেশের জন্য, নিজের জীবন দিয়েছে বাংলাদেশের জন্য, নিজের স্ত্রী-সন্তানের জীবন দান করেছে বাংলাদেশের জন্য, কি দিয়েছি আমরা সে মানুষটাকে? কিছুই না।
বঙ্গবন্ধু আমার কাছ থেকে বেশি কিছু তো চাননি। চেয়েছেন একটা সোনার বাংলা। চেয়েছেন একটা সম্প্রতির দেশ। কিন্তু আমরা তার নাম এবং তার আদর্শকে বিক্রি করে অন্যায় অপকর্ম আর দুর্নীতিতে লিপ্ত হচ্ছি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন। এ অপশক্তিকে থামাতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সারাদেশে একযোগে অভিযান। দলের ভেতরে এবং বাইরে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না। সকলকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তদন্তের আওতায় আনতে হবে সকল আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়া ব্যক্তিদের। প্রতিটি উপজেলা থেকে শুরু করতে হবে তদন্ত। তখনই কেচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসবে। পরিচ্ছন্ন হবে দেশ। সকল বিষধর সাপ তখন চিড়িখানায় আটকে রাখা যাবে। তাই এখনই সময় সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের। শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক অভিযান নয়, সারাদেশেও এ অভিযান চাই। এজন্য দেশের সকল মানুষ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এসব দুর্নীতিবাজদের বিরোদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে।

লেখক : প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক।

 

এই বিভাগের আরো খবর