ঢাকা, শনিবার   ২২ জানুয়ারি ২০২২,   মাঘ ৯ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন কারণে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৮ প্রাক্তন ফুটবলার ও কোচ সুভাষ ভৌমিক মারা গেছেন খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল ঢাকায় শাবিপ্রবির শিক্ষক প্রতিনিধি দল মা হলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, পাঠদান চলবে অনলাইনে করোনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড

দেশে এলো মোবাইল নেটওয়ার্ক ফাইভজি

প্রতিদিনের চিত্র বিডি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০২১  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

১২ডিসেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের হাত ধরে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক ফাইভজি।

 

মিলবে যত সুবিধা
ফাইভজির সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে অত্যন্ত উচ্চগতির ইন্টারনেট। কিছুদিন আগে টেলিটক পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি একটি ডিভাইসের জন্য চালু করে ১৫০০ মেগাবাইট পর্যন্ত স্পিড পেয়েছিল। বাইরের দেশে ২০০-৪০০ মেগাবাইট স্পিড অহরহই পাওয়া যাচ্ছে ফাইভজির কল্যাণে। এদিকে ‘ওকলা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত আগস্টের সূচকে বাংলাদেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গড় গতি ছিল সেকেন্ডে ১২.৯২ মেগাবাইট (এমবিপিএস)। আর আট মেগাবাইটে এক মেগাবাইট।  

 

শুধু গতিই নয়, ফাইভজির অন্যতম বড় সুবিধা লেটেন্সি কমানো। লেটেন্সি- অর্থাৎ ডিভাইস থেকে নেটওয়ার্ক হয়ে তথ্য ওয়েবসার্ভারে পৌঁছাতে এবং ফিরে আসার মধ্যকার সময় যত কম হবে তত সহজেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে রিমোট নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যদি লেটেন্সি অতিরিক্ত হয়, যেমনটা টুজি বা থ্রিজির মধ্যে দেখা গেছে, তাহলে লাইভ (সরাসরি) কোনো কাজ করা যায়ই না বলা যায়। এমনকি কথা বলার মধ্যেও তখন দেখা যায়, কথা বলার পর সেটি অন্য প্রান্তে পৌঁছতে লেগে যাচ্ছে বেশ কিছু সময়। ফাইভজির মাধ্যমে লেটেন্সি এতটাই কমানো সম্ভব যে বাসায় বসে কয়েক মাইল দূরে থাকা ড্রোনও চালানো যাবে কোনো সমস্যা ছাড়াই। ভবিষ্যতে সেলফ ড্রাইভিং গাড়ি বা রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতি চালনার মতো কাজ করা যাবে ফাইভজির মাধ্যমে, অন্তত গবেষকদের তেমনটাই আশা।

 

উচ্চগতির ফলে দ্রুতই বড় ফাইল, যেমন উচ্চমানের ভিডিও বা বড়সড় সফটওয়্যার থেকে শুরু করে ৪কে মানের লাইভ ভিডিও আদান-প্রদান করা যাবে ফোন থেকেই, ব্রডব্যান্ড ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের প্রয়োজন হবে না। অনলাইন গেইমিংয়ের ক্ষেত্রেও লেটেন্সি কম থাকায় মোবাইল গেমিং এগিয়ে যাবে আরো এক ধাপ। লেটেন্সি কমানোর পাশাপাশি ফাইভজিতে চেষ্টা করা হয়েছে যত দূর সম্ভব নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার মডেমের আকৃতি ও সেটি চালাতে শক্তি ব্যয় কমানোর। এর ফলে ক্ষুদ্রাকৃতির ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি ডিভাইস সহজেই ফাইভজির মাধ্যমে সংযুক্ত থাকতে পারবে। এর ফলে স্মার্ট লাইট, ফ্যান, লক থেকে শুরু করে নানা ধরনের সেন্সর, ক্যামেরা ও ডাটা সংগ্রহের ডিভাইস স্বল্পমূল্যে তৈরি করা যাবে এবং সেগুলো চালাতে লাগবে না ওয়াই-ফাই ও ব্রডব্যান্ড সুবিধা।

 

ইন্টারনেট অব থিংসের বিপ্ল­ব বলা যায় আটকেই আছে শুধু ফাইভজির জন্য। স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহার যদি পুরোদমে শুরু হয়, তাহলে দুনিয়া অনেকটাই বদলে যাবে। শুধু ক্ষুদ্রাকৃতির জিপিএস, মোবাইল ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনে অ্যাপ সুবিধার ফলে বাজারে হাজির হয়েছে রাইড শেয়ারিং এবং বড় পরিব্যাপ্তির হোম ডেলিভারি সেবা, ফোরজির কারণে লাইভ ভিডিও করা হয়েছে অত্যন্ত সহজ, যেখানে ১০ বছর আগেও স্যাটেলাইট লিংক ছাড়া ফিল্ড থেকে লাইভ ভিডিওর কথা কল্পনাও করা যেত না। অতএব, সামনে ফাইভজির ফলে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে চাষবাস করা, এমনকি আরো নির্ভরযোগ্য রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও মূল অফিসে কাজ করা থেকে শুরু করে লাইভ সার্জারির মতো কল্পবিজ্ঞানের চলচ্চিত্রের মতো কাজগুলোও হবে দৈনন্দিন সব ঘটনা।

 

যে প্রযুক্তি আসছে দেশে
যেহেতু একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সব ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়, তাই ফাইভজিরও রয়েছে একাধিক ধরন। লো ব্যান্ড ফাইভজি নেটওয়ার্ক বর্তমানের ফোরজি নেটওয়ার্কের চেয়ে মাত্র ২০ শতাংশ বেশি গতিতে কাজ করতে সক্ষম, কিন্তু সেটি বিশাল এলাকা কাভারেজ দিতে পারে। এরপর আছে মিডিয়াম ব্যান্ড, যার স্পিড ফোরজির কয়েক গুণ, কিন্তু কাভারেজ একটি শহরতলির বেশি নয়। আর আছে হাই ব্যান্ড ফাইভজি, যার লেটেন্সি এবং স্পিড ব্রডব্যান্ডের অপটিক্যাল ফাইবারের কাছাকাছি, কিন্তু রেঞ্জ একেবারেই কম। এটিকে মিলিমিটার ব্যান্ডও বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে লো এবং মিডিয়াম ব্যান্ড নিয়েই কাজ করছে নেটওয়ার্ক নির্মাতা হুয়াওয়ে, আশা করা যায় সব জায়গায় ফাইভজি পৌঁছে যাওয়ার পর ক্ষেত্রবিশেষে মিলিমিটার ব্যান্ডের নেটওয়ার্কের দেখাও মিলবে, তবে আপাতত রেঞ্জ বাড়িয়ে পুরো দেশে নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেওয়ার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। তাদের ৬৪টি ৬৪আর মিমো এএইউ প্রযুক্তির একটি কার্যকারিতা হলো এটি বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইটে বিদ্যুতের ব্যবহার কমাবে এবং দমকা হাওয়ার চাপেও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করবে।

 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানিয়েছেন, বর্তমানে ফাইভজি নিয়ে দেশে কাজ করছে হুয়াওয়ে, তারা রবির সঙ্গে এরই মধ্যে সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশের অপারেটরদের জন্য একটি ফাইভজি নীতিমালাও তৈরি করা হচ্ছে, যাতে আগামী দিনে সব অপারেটর মিলেমিশে কাজ করতে পারে।
অন্যদিকে, হুয়াওয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশে ফাইভজি নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে নকিয়া। চুক্তি অনুযায়ী তারা বাংলাদেশে ফাইভজি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অটোমেশন, ডিজিটাইজেশন এবং ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ চালনার জন্য সরকারের ডিজিটাল অ্যাজেন্ডাকে তুলে ধরবে।  

 

ব্যবহার করতে যা লাগবে
দেশের স্মার্টফোন বাজারে এরই মধ্যে বেশ কিছু ফাইভজি ফোনের দেখা মিলেছে, যার সব কটিই লো এবং মিডিয়াম ব্যান্ডে কাজ করতে সক্ষম। কিছু ফোনে হাইস্পিড মিলিমিটার ব্যান্ডের অপশনও রয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ব্যবহারকারীর হাতেই এখনো ফোরজি ফোনের দেখাই মিলছে বেশি। ধরে নেওয়া যেতে পারে, আগামী দুই বছরে বেশির ভাগ ব্যবহারকারীই চেষ্টা করবেন বর্তমান ফোরজি ফোন বদলে ফাইভজি ফোন নেওয়ার, ফলে বাজারে তৈরি হবে বিশাল এক ঘাটতি।

 

নতুন নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য লাগবে লো এবং মিডিয়াম ব্যান্ড ফাইভজি সমর্থিত ফোন, বাজারে যার দাম অন্তত ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু। তবে জানা গেছে, দেশি কম্পানিগুলো এরই মধ্যে কাজ করছে নাগালের মধ্যেই ফাইভজি স্মার্টফোন নিয়ে আসার জন্য। স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের বাইরে চাইলে পিসি বা ল্যাপটপের সঙ্গেও মডেমের মাধ্যমে ফাইভজি ব্যবহার করা যাবে।

 

কোথায় ও কখন ফাইভজি
টেলিটকের ফোরজি সিমেই ফাইভজি সেবা মিলবে। ফোরজি সিম ফাইভজিতে সক্রিয় করে নিতে হবে। তবে টেলিটক গ্রাহকরা সবাই এখনই এ সুবিধা পাবেন না। প্রথম পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের ফোরজি সিম ফাইভজিতে সক্রিয় করে দেওয়া হবে।

 

রাজধানী ঢাকার চারটি এলাকায় এবং ঢাকার বাইরে দুটি এলাকায় এই সেবা চালু করা হবে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে, সংসদ ভবনের কাছে মানিক মিয়া এভিনিউতে, সচিবালয়ে এবং ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর এলাকায় টেলিটকের বিটিএস বা বেস ট্রান্সসিভার স্টেশনের মাধ্যমে এটি চালু করা হবে। ঢাকার বাইরে চালু করা হবে টুঙ্গিপাড়ায় এবং সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায়।

 

এ ছাড়া চলতি মাসেই সব অপারেটরের জন্য ফাইভজি নেটওয়ার্ক ফ্রিকোয়েন্সি নিলাম হওয়ার কথা রয়েছে, ফলে শিগগিরই দেশের প্রতিটি এলাকায় পৌঁছে যাবে ফাইভজি নেটওয়ার্ক।

 

শুধু টেলিটকের হাত ধরেই দেশে ফাইভজি সেবা চালু হলেও, দ্রুতই বেসরকারি টেলিকম অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ফ্রিকোয়েন্সি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। রাজধানীর ছয়টি টাওয়ার বা বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) দিয়ে ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালানোর পরীক্ষা শুরু করবে টেলিটক। টেলিটকের কিছু নিজস্ব সংযোগ এবং সরকারি দপ্তরে এ সংযোগ ব্যবহার করা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর