Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৭ ১৪২৭

ব্রেকিং:
করোনায় আক্রান্ত `সারেগামাপা`র ৪ বিচারক শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু, আজ ষষ্ঠী নতুন বছরের শুরুতেই কমপক্ষে দুটি করোনার টিকা মিলবে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পেনে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়ালো অস্কফোর্ডের ভ্যাকসিন ট্রায়াল: ব্রাজিলে স্বেচ্ছাসেবীর মৃত্যু
সর্বশেষ:
বলিউডের সহকর্মীর প্রেমে আপত্তি নেই : কিয়ারা লাইফ সাপোর্টে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এইচএসসির ফরম পূরণের আংশিক টাকা ফেরত পাবেন শিক্ষার্থীরা সাবরিনার মামলায় দুই ওসিকে শোকজ যুক্তরাষ্ট্রে নাইটক্লাবে বন্দুক হামলায় নিহত ৩ আইপিএলের সাফল্যে অবাক হয়নি সৌরভ

ধর্ষণ সামাজিক সমস্যা, আন্দোলন করে অস্থিরতায় নয়; সমাধান ভিন্নপথে

মাজহারুল ইসলাম লালন

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২০  

পঠিত: ২৫০
মাজহারুল ইসলাম লালন। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

মাজহারুল ইসলাম লালন। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

সিলেট এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূ ধর্ষণ,নোয়াখালীতে মধ্য বয়সী মহিলাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, রাজশাহীতে খ্রিষ্টান ফাদার কর্তৃক কিশোরী ধর্ষণ।
চারদিকে এরকম ধর্ষণের খবর স্বভাবতই প্রশ্নবিদ্ধ করছে আমাদের, আমরা কি কোনো সভ্য সমাজে বাস করছি?

বর্তমানে আমাদের সমাজে ধর্ষনের মতো আঁতকে ওঠা অপরাধগুলো সর্বস্তরের মানুষের বিবেক কে নাড়িয়ে দিয়েছে। ছোট বড় কেউই নিরাপদ নয়। শিশু ধর্ষণের মতো পৈশাচিক ঘটনা দেখে গাঁ শিউরে উঠে। কি নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর খুন করে ফেলে দেয়া  হচ্ছে কত কোমলমতি প্রাণ! কখনও কখনও মনে হয় আদৌ কি মানুষ সমাজে বসবাস করি আমরা?

মসজিদের ইমাম,মন্দিরের পুরোহিত,স্কুলের শিক্ষক এমনকি পিতা কর্তৃক কন্যা বলৎকারের মতো নৃসংশ অমানবিক পৈশাচিক কর্মকান্ডের নির্বাক সাক্ষী বর্তমান সময়।
পত্রিকায় ধর্ষণের খবর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনে হয় কোনো ধর্ষকের অভয়ারণ্যে বসবাস করছি আমরা। কিন্তু কেন ধর্ষণের সংখ্যা এতো বৃদ্ধি পাচ্ছে? কী করলে কমবে এ জঘন্য অপরাধ? একদিকে নারী স্বাধীনতা, নারী আন্দোলন, নারী অধিকার নিয়ে সর্বত্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অন্যদিকে বেড়ে চলেছে ধর্ষণের সংখ্যা৷

সম্প্রতি আমাদের দেশে ধর্ষণ মহামারি এতোটাই বেড়ে গেছে  কোনো কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলেছে।যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধারাও রয়েছে। এসব ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে, মানবন্ধন হচ্ছে, জনরোষে পড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের ধরতে হচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীর শাস্তিও হচ্ছে। কিন্তু তারপরও ধর্ষণের মত মহামারি বন্ধ না হয়ে দিনকে দিন বেড়েই চলেছে।

ছোট্ট শিশুকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ, স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রী কে ধর্ষণ,ঘরের দরজা ভেঙে ৫ সন্তানের জননী কে ধর্ষণ, মায়ের সামনে কন্যা ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, পীর সেজে শিষ্যকে ধর্ষণ, ঠাকুর সেজে ভক্তকে ধর্ষণ, দাতা সেজে ধর্ষণ, সাহায্যের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ, ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ, চাকুরীর লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ, নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ, ডাকাতি করতে গিয়ে ধর্ষণ, পুরুষ হয়েও ছেলে শিশুকে ধর্ষণ, দলবেধে ধর্ষণ, ক্ষমতাসীন হয়ে ধর্ষণ, জন্মদিনের পার্টিতে নিমন্ত্রণ করে ধর্ষণ, বাবা হয়ে মেয়েকে ধর্ষণ, মামা হয়ে ভাগ্নিকে ধর্ষণ। ধর্ষণের খবর পড়লে মনে হয় কোনো জঘন্যতম হিংস্র জঙ্গলের নাম বাংলাদেশ।

কিন্তু কেন? ধর্ষণের জন্য কারা দায়ী? কী করে ধর্ষণ কমিয়ে আনা সম্ভব? সমাজে ধর্ষিতা নারীদের কী-ই বা করা উচিত? প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, শাস্তি কোনকিছু দিয়েই ধর্ষণ ঠেকানো যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ধর্ষণের পক্ষে বিপক্ষে লেখা হচ্ছে। নারীবাদীরা ধর্ষণের জন্য ধর্ষকের মানসিকতাকে দায়ী করে ধর্ষকের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের দাবি করছেন। আবার কট্টরপন্থি ধর্মান্ধ ও নারীবাদ বিরোধীরা ধর্ষণের জন্য ধর্ষিতার পোশাক ও বেহায়াপনাকে দায়ী করছেন। কিন্তু কোনোটাতেই কারো কোনো উপকারে আসছে বলে মনে হয় না।

এদেশে ধর্ষণের পরিসংখ্যানটা তৈরী করা হয় মুলত সংবাদপত্রের প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে।কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাস্তব চিত্রটা ভিন্ন। অর্থাৎ বাস্তবে ধর্ষনের ঘটনা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়ে হাজার গুণ বেশি। ধর্ষিত হওয়ার পরও লোক-লজ্জার ভয়ে আইনের আশ্রয় নিচ্ছে না অনেকেই। এজন্য বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসুত্রতাকে দায়ী করা যেতে পারে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে উল্লেখ রয়েছে, ১৮০ দিনের মধ্যে মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কিন্তু এমন অনেক মামলা আছে যে, বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছে। ধর্ষণের মামলা চলাকালীন বিভিন্ন বিব্রতকর পরিস্থিতি এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা আইনের আশ্রয় নিতে ধর্ষিতা নারীদের মনে অনীহা তৈরি করেছে।"

হাইকোর্ট বলেছে, নারীদের ধর্ষণ প্রতিরোধে অ্যালার্ম বা এন্টি রেপ ডিভাইস দিতে। কিছুদিন আগে জাবি শিক্ষার্থীরা ধর্ষণ প্রতিরোধে একটা অ্যাপস তৈরী করছে। ইতিপূর্বে ভারতে ধর্ষণ প্রতিরোধে বের হলো অভিনব ইলেকট্রিক জুতা। ২০১৪ সালে ভারতেই বের হইছিলো নারীদের জন্য এন্টি রেপ জিন্স প্যান্ট। এছাড়া বের হইছিলো এন্টি রেপ ব্রা, এন্টি রেপ লেগিংস, এন্টি রেপ আন্ডারওয়্যার। কিন্তু কথা হইলো, এত এত এন্টি রেপ ডিভাইস আর জামা-কাপড়-জুতা তৈরী হলেও ধর্ষণ কিন্তু কমছে না, বরং ধর্ষণ বেড়েই চলেছে।

বাংলাদেশে ধর্ষণ নিমূলে প্রধান সমস্যা সরিষার মধ্যে ভূত।
ধর্ষণ নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন হলেই আমি ব্যক্তিগতভাবে একটু বিব্রত হই। ধর্ষণের বিচার চেয়ে আন্দোলন করা ভালো, কিন্তু আন্দোলনকারীদের একটা মহলকে নিয়ে আমাদের সমস্যা, কারণ তারা আদৌ ধর্ষণের বিচার চায় বলে মনে হয় না, অন্তত তাদের পরিচয় তা বলে না। এই গ্রুপটি পরিচালিত হয় বাম নেতৃত্বাধীন এবং উপরে গিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যোগ হয় ডেমোক্র্যাটিক ব্লকের সাথে। এদের আন্দোলন নিয়ে যেসব সমস্যাগুলো চোখে পড়ার মতো:

১. এইসব আন্দোলনকারীরা আন্দোলন করে,মানবন্ধন করে ধর্ষকের বিচারের দাবীতে,কিন্তু ধর্ষণের বিচারে সর্বোচ্চ রায় ফাঁসি তথা মৃত্যুদন্ডের বিপক্ষে এরা। আন্দোলকারীদের মূল দাবীর মধ্যে কখন ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাইতে দেখি নাই। কারণ ওয়ার্ল্ডওয়াইড  ডেমোক্র্যাটিকরা মৃত্যুদণ্ড প্রথার বিরোধী। তাই তারা ধর্ষণের বিচার চায়, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড চায় না।

২. যতোটা না রাষ্ট্রীয়,তারচে বেশি ধর্ষণ একটা সামাজিক সমস্যা। কিন্তু একটা মহল এটাকে রাজনৈতিক সমস্যা বানিয়ে ফেলতে চায়। আমি বলবো এটা উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত,তাই আমি এর ঘোর বিরোধী। কারণ ধর্ষণকে রাজনৈতিক ইস্যু যারা বানায়, এতে হয়ত তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হবে, কিন্তু সঠিক ওষুধ প্রয়োগ না করায় ধর্ষণ বরং আরো বাড়বে,এবং বাড়ছেই।

৩. আন্দোলনকারী একটা মহল প্রায়ই প্রচার করে, ধর্ষণ হলে বিচার হয় না। কিন্তু বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। বাংলাদেশে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের মামলাগুলো অন্য যে কোন মামলা থেকে বেশ শক্তিশালী। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অসাধু ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের অপতৎপরতায় ধর্ষক পার পেয়ে যায়,সেটা ভিন্নকথা। অনেকাংশেই এইসব মামলায় একবার ফাসলে জীবন শেষ। বেইল নাই, রিমান্ড সহজ আরো অনেক সমস্যা। এক্ষেত্রে শেষেমেষ বিচারটা আটকায় উচ্চ আদালতে গিয়ে। সেখানে মামলার জট বা দীর্ঘসূতিত্রার সুযোগে আসামীরা সুযোগ পেয়ে যায়।

এবার প্রশ্ন হইলো এই দীর্ঘসূতিত্রাটা কেন ?এর কারণ কেন্দ্রীয় বিচারবিভাগ বিকেন্দ্রীরকণ না হওয়া।  আর সেটার মূল কারণ সুপ্রীম কোর্টে কিছু স্বার্থান্বেষী আইনজীবিদের স্বার্থগত কারণে হস্তক্ষেপ। তারা চায় না বাংলাদেশের বিচারবিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ হোক, এতে তাদের মামলা কমে যাবে তাই। কিন্তু এর মাধ্যমে যে মামলা জট নিরসন হবে সেটা তারা পাত্তা দেয় না।এবং এটার কারনেই ধর্ষিতার পরিবার সহ সাধারণ মানুষগুলোর বিচারবিভাগের প্রতি অনাস্থা।ফলে অনেক ভুক্তভুগীরা এটাকে লোকচক্ষুর অন্তরালেই রাখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে।

৪. আন্দোলনকারী এইসব মহলের আরেকটা একটা শাখা হলো নারীবাদী গং। এরা কোন ধর্ষণ ইস্যু আসলেই প্রচার করতে থাকে- ধর্ষণের জন্য নারীর পোষাক দায়ী না।
নারীর স্বাধীনতার কথা বলে এরা সমাজে আরো অশ্লীলতা ও বেহায়া রীতিনীতি আমদানি করতে চায়।

কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোন নারীবাদীকে দেখলাম না, তারা ধর্ষণ হ্রাসে কি কি উপায় আছে, সেটা খুজতেছে বরং ধর্ষণকে পূজি করে তারা তাদের ব্যক্তিস্বার্থ তথা স্বেচ্ছাচারিতা উদ্ধারে ব্যস্ত। অথচ যেসব দেশে নারীদের ইচ্ছামত পোষাক পরার স্বাধীনতা আছে, তারাই যে শীর্ষ ধর্ষক রাষ্ট্র- এই চিরন্তন সত্যটা তারা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারা মাঠে ময়দানে নারীদের অবাধ বিচরণ চায়,আবার ধর্ষণ রোধও করতে চায়, আদৌ সম্ভব নয়।

৫. সম্প্রতি বাংলাদেশে ধর্ষণ হঠাৎ বৃদ্ধি হওয়ার মূল কারণ হইলো পর্নোগ্রাফি বৃদ্ধি। পর্নোগ্রাফী হলো অনেকটা ভায়াগ্রার মত। আপনি জনগণকে যৌন ওষুধ খাওয়াচ্ছেন নিয়মিত, তাহলে তাদের যৌন উন্মাদনা তো বাড়বেই।

এইসব কারণে শিশু, বৃদ্ধা, বোরকা পরিহিতা এমনকি পাগলী পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে।যদিও ইদানিং পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটগুলো অনেকাংশে বন্ধ করা হয়েছে তথাপি পর্নোগ্রাফির আদলে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন যৌনতাভর্তি ওয়েব সিরিজ নির্মিত হচ্ছে,যা পর্ণোগ্রাফির চেয়েও বেশি উত্তেজনাকর।এগুলো সহজে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে,ফলে তরুন,যুবক,বৃদ্ধ সকলেই যৌন আগ্রাসী হয়ে উঠছে এবং ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য কাজগুলো সংঘটিত করছে।

আরেকটি যৌনতা ছড়ানোর উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে ইমু লাইভ ভিডিও চ্যাটিং,যাতে একশ্রেণীর পেশাদার নারী যৌনকর্মীরা নগ্ন দেহ উপস্থাপনের করে ভিডিও চ্যাটিং করে তরুণ,যুবসমাজ সহ সর্বস্তরের মানুষকে যৌনোত্তেজিত করছে, ফলে একশ্রেণীর মানুষ মাদকাসক্তের মত যৌনাসক্ত হয়ে নারী ধর্ষণ সহ শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধ সংঘটিক করছে। এগুলোর প্রতিকারে ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু আন্দোলনকারী এইসব মহলকে কখনো অশ্লীল ওয়েবসিরিজ বন্ধে কোনো ব্যবস্থাগ্রহণের পরামর্শ দিতে দেখি না।

৬. দেশে ধর্ষণ ইস্যু আসলেই একটা গ্রুপ প্রচার করে নারীদের অস্ত্র নিয়ে ঘোড়াঘুরির জন্য। মার্শালআর্ট শেখানোর জন্য। আমার মনে হয়- এই গ্রুপটা ধর্ষণকে কেন্দ্র করে সমাজকে আরো অস্থিতিশীল করতে চায়। কারণ একটা মেয়ে যতই শক্তিশালী হোক, একটা পুরুষের সাথে তার পেরে ওঠা কঠিন। এছাড়াও এতে করে ধর্ষকরা সংগঠিত হয়ে গণ ধর্ষণের মতো অপরাধগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়বে।

এছাড়াও দেখা যাবে, এগুলোর মাধ্যমে নারীদের প্রতি ধর্ষকগ্রুপের বিদ্বেষ আরো বাড়বে, তখন ধর্ষণের পর নারীকে হত্যা করাও বাড়বে। যেহেতু নারী-পুরুষ উভয় মিলেই সমাজ, তাই লেজাকাটা নারীবাদীদের কথা শুনে এমন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা যাবে না, যাতে সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে আরো সংঘর্ষ তৈরী হয়।
মূলত এটা নিছক ঠুনকো মস্তিষ্কসম্পন্ন একটা পরামর্শ বলে আমি মনে করি।

১০. ধর্ষণ ইস্যু কেন্দ্র করে একটি মহল প্রচার করে- বাংলাদেশে পতিতালয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক।যা বেহায়াপনা ও অশ্লীষতার চরম পর্যায়ের পরামর্শ।তাদের দাবী এর মাধ্যমে নাকি ধর্ষণ কমবে।

এরাই আবার প্রচার করে নতুন টার্ম বিবাহিত ধর্ষণ বা ‘ম্যারিটাল রেপ’ নামক একটি নতুন তত্ত্ব, যেখানে স্ত্রী স্বামীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত করতে পারবে। যা নিছক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টির মাধ্যমে সংসার ব্যবস্থা বিলুপ্তি ঘটানোর এক পায়তারা।

আমি ইতিপূর্বেই বলেছি- এই গ্রুপটি ধর্ষণকে কেন্দ্র করে আন্দোলন করে ধর্ষণ হ্রাস করতে নয়, বরং তাদের নির্দ্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য আছে, সেগুলো হাসিল করার জন্য।
নিজেরা লেজকাটা পুরো সমাজটাকে সগোত্রীয় বানানোর নীল নকশা এসব।

অথচ আমার দৃষ্টিতে বাংলাদেশে নারী নিপীড়ন তথা ধর্ষণ হ্রাসের মূল উপায় ছিলো-
ক) নারী-পুরুষের বিয়ের বিয়ষটি সহজ করা। বয়সের বাধ্য-বাধকতা আরেকটু লাঘব করা যেতে পারে।

খ) নারী পুরুষের জন্য পৃথক গণপরিবহন, স্কুল-কলেজ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র, হাসপাতাল, বাজার-মার্কেট চালু করা। যেখানে নারীদের জন্য নারী এবং পুরুষের জন্য পুরুষ। একজন অন্যজনের যায়গায় আসতে পারবে না। এবং প্রতিটা পাবলিক প্লেসসহ নির্জন ও অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আশংকাজনিত স্থানগুলোকে সিসিটিভির আওতাভুক্ত করণসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের সার্বক্ষণিক তৎপরতা বাড়ানো উচিৎ।

গ) পাঠ্যপুস্তকসহ সর্বত্র ধর্মীয় নৈতিকতা চালু করা। এখন যেটা চলতেছে সেটা হলো সেক্যুলারিজম। সেক্যুলারিজম কখনো নৈতিকতা ধারণ করতে পারে না। নৈতিকতাহীনতার কারণে সমাজের এই দুরাবস্থা। সমাজের সর্বস্তরে নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন অফিস-আদালত তথা কর্মক্ষেত্রগুলোতে ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষায় কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

ঘ) মিডিয়ায় যে কোন ধরনের অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।সেটা দেশী হোক আর বিদেশী হোক। প্রাশ্চাত্য মিডিয়ার রীতিনীতি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। মুক্তমনার নামে চলমান নারী পুরুষের অবাধ বিচরণ বন্ধ করতে হবে।

ঙ)সর্বোপরী ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করতে হবে, এবং বিচারবিভাগকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে, মামলার  জট নিরসনের জন্য। এতে শুধু ধর্ষণ নয়, সকল অন্যায়ের দ্রুত বিচার পাওয়া সম্ভব। রাজনীতির অপশক্তিগুলো নিরসনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিক করতে হবে।

যেহেতু অতি সম্প্রতি ধর্ষণের পরিমাণ বাড়তেছে, তাই খেয়াল করতে হবে, সমাজে অতি সমসাময়িক কি কি অপসংস্কৃতি চালু হচ্ছে এবং কোন কোন সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ নতুন সংস্কৃতির প্রবেশ এবং পুরাতনগুলো হারিয়ে যাওয়ার কারণেই সমাজে অস্থিতিশীলতা বা ধর্ষণ বাড়ছে। সেগুলোকে আবার ঠিক করতে হবে, তবেই সমাজে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। কিন্তু আপনি ধর্ষণ দেখিয়ে নতুন সংস্কৃতি নিয়ে আনার প্ল্যান করবেন, অথচ আপনি জানেনেই না সেটা আনলে ধর্ষণ কমবে না বাড়বে ? যেসব দেশে ঐ সংস্কৃতি চালু আছে তাদের দেশে ধর্ষণের হার কত সেটা খেয়াল করলেই বুঝা যায়, নতুন সংস্কৃতির আউটপুট কি।

সুতরাং ধর্ষণ হ্রাসে উল্টা-পাল্টা সমাধান দিলে হবে না। ধর্ষণকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে রাষ্ট্রীয় অস্থিরতা করলে ধর্ষণ কমানো যাবে না। ধর্ষণের মতো জঘণ্য অপরাধ সংঘটিত হলেই দোষীকে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অতি অল্প সময়ে ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে হবে। ধর্ষণ রোধ কল্পে জনসচেতনা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে।

.
লেখক:কবি ও কলামিস্ট

এই বিভাগের আরো খবর