Berger Paint

ঢাকা, শনিবার   ০৬ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭

ব্রেকিং:
দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২,৬৩৫ যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু ১ লাখ ১০ হাজার ছুঁই ছুঁই করোনায় শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বে করোনায় মৃত্যু প্রায় ৪ লাখ, আক্রান্ত ৬৮ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি
সর্বশেষ:
শুধু ঢাকাতেই করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ৭ লাখ: দাবি ইকোনমিস্টের বিশ্বে প্রাণঘাতি করোনায় ৬ নম্বরে ভারত করোনায় মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের মৃত্যু দাবী! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ব্রাজিল ছাড়া করার হুমকি প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর সিলেটে বিভাগে একদিনে আরও ৯১ জন করোনায় আক্রান্ত বঙ্গোপসাগরে ফের নিম্নচাপের সম্ভাবনা

ধূমপায়ীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা কম!

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২০  

পঠিত: ৩৩৩
ছবি-প্রতিদিনের চিত্র

ছবি-প্রতিদিনের চিত্র

 চীনে করোনায় আক্রান্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে যারা ধূমপায়ী ছিলেন তাদের বেশিরভাগই নাকি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তবে তারা কেউই দীর্ঘমেয়াদী ধূমপায়ী ছিলেন না। এমনকি তাদের শরীরে তেমন কোনো মারাত্মক রোগও ছিল না। গবেষকদের ধারণা, এ কারণেই বোধ হয় তাদের ক্ষেত্রে করোনা মারাত্মক প্রভাব ফেলেনি।

এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, ধূমপায়ীদের করোনা ভাইরাস থেকে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমনকি তাদের দ্রুত মৃত্যু হতে পারে এই রোগ থেকে। চীনে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে যারা ধূমপায়ী ছিলেন তাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ রোগীর লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা মারা যায়। এটি সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।

অন্যদিকে চীনের আরেক গবেষক দলের দাবি, যারা বর্তমানে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের অনেকেই ধূমপায়ী। এই গবেষণা অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে যাদের কাশি, গলাব্যথা বা জ্বরের মতো হালকা উপসর্গ ছিল তাদের ১১ শতাংশ রোগীই ধূমপায়ী ছিলেন।

উহানের এই বিশেষজ্ঞরা আরো বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ধূমপায়ীদের শরীরে মারাত্মক এই ভাইরাস ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম ছিল। আর এ কারণেই তারা যখন চীন থেকে অনান্য শহরে গিয়েছে তখন এই ভাইরাসটি অন্যান্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

একদল বিশেষজ্ঞরা উহানের এই গবেষকদের তথ্যটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন। কারণ ধূমপান ক্যান্সারের কারণ। এটি ফুসফুসের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং ফ্লুর মতো শ্বাস প্রশ্বাসের অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, চীনের ৩০০ মিলিয়ন মানুষ ধূমপান করে অর্থাৎ সেখানকার মোট জনসংখ্যার প্রায় পঞ্চমাংশ এবং বিশ্বের মোট অংশের এক তৃতীয়াংশ।

উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝোংনান হাসপাতালের গবেষকরা জানায়, তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৪০ জন রোগীর মধ্যে এক দশমিক ৪ শতাংশই ধূমপায়ী ছিলেন। অর্থাৎ সেখানে দু'জন বর্তমান ধূমপায়ী এবং সাতজন পূর্বে ধূমপায়ী ছিলেন। এই নয় রোগীর মধ্যে তিনজনের মধ্যে কম গুরুতর লক্ষণ ছিল। বাকি ছয়জনের মধ্যে অবশ্য গুরুতর লক্ষণ পকাশ পেয়েছিল।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন লেখক ও গবেষকরা বলছেন, ধূমপান এবং করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যকার সম্পর্ক এখনো পরিষ্কার নয়। কারণ এখনো এ বিষয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, সর্দি-জ্বর ও কাশি এমন লক্ষণযুক্ত রোগীদের মধ্যে মাত্র ১১ দশমিক ৮ শতাংশই বর্তমান ধূমপায়ী ছিলেন। যদিও লাইফ সাপোর্ট নেয়ার পর মৃত্যুবরণ করা রোগীদের হার আরো দ্বিগুণ।

একই সমীক্ষায় আরো জানা গেছে, ৬৭ শতাংশ রোগীর কাশি ছিল যা সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ।  অন্যান্য সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ছিল। অন্যদিকে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদি রোগে অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হার্টের রোগী।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি বড় গবেষণায় পূর্বে সতর্ক করা হয়েছিল, ধূমপায়ীদের মারাত্মক কোভিড-১৯ ঝুঁকি রয়েছে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের অধীনে এক হাজার করোনা রোগীকে নিয়ে করা গবেষণায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ৯১৩ রোগীর মধ্যেই হালকা লক্ষণগুলো ছিল। আর তাদের মধ্যেই ১১ দশমিক ৮ শতাংশ রোগী ছিলেন ধূমপায়ী।

বিশ্লেষণ অনুসারে, গুরুতর লক্ষণযুক্ত করোনা রোগীর মধ্যে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ ধূমপায়ী ছিলেন। তবে তাদের সবার মধ্যেই উচ্চ রক্তচাপ, সিওপিডি ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ ছিল।  কোনো না। এর থেকে গবেষকদের ধারণা, যেসব ধূমপায়ীরা কম সময় ধরে ধূমপান করছেন এবং শরীরে এসব রোগ নেই তারা মোটামুটি ঝুঁকিমুক্ত। তবে যাদের শরীরে এসব রোগ বাসা বেধেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি ধুমপায়ী তাদের ক্ষেত্রে করোনা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ।

ইইউর স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, ধূমপান করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে আরো জটিল করতে পারে। একই মত প্রকাশ করে ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (ইসিডিসি) জানায়, কোভিড-১৯ এ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ধূমপায়ীরা। মিনেসোটার রচেস্টারের মায়ো ক্লিনিকের প্রফেসর টেলর হেজে বলেছেন, ধূমপায়ী বা ভ্যাপারদেরকে এই রোগ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

ইসিডিসির আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধূমপানের ফলে ফুসফুসের উচ্চ স্তরের এসিই২ নামক এনজাইম বেড়ে যায়। এতে করে ফুসফুসে করোনা সংক্রমণ আরো বেড়ে যায়। উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা যেসব ওষুধ খেয়ে থাকে এতে করে তাদের কোষগুলোতে থাকা এসিই২ এর পরিমাণ বেড়ে যায়। এর থেকেই করোনা সংক্রমণ আরো বেড়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা।

তামাকের ব্যবহার ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে করে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। গ্রীস এবং হার্ভার্ডের দু’জন বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি ধূমপানের ফলে যারা এরই মধ্যে ফুসফুস নষ্ট করে ফেলেছে তাদের ক্ষেত্রে করোনা সত্যিই মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: ডেইলিমেইল