Berger Paint

ঢাকা, বুধবার   ২১ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ৬ ১৪২৭

ব্রেকিং:
‌বরিশালে ম্যা‌জিস্ট্রেট ও পু‌লিশের ওপর জেলেদের হামলা বিএনপির সাবেক এমপি ভাষাসৈনিক নুরুল ইসলাম আর নেই আটক সেনাকে চীনের কাছে হস্তান্তর করলো ভারত মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের যেভাবে হবে মূল্যায়ন তেজগাঁওয়ে এপেক্সের টায়ার কারখানায় ভয়াবহ আগুন
সর্বশেষ:
মাধ্যমিক পর্যায়ে বার্ষিক পরীক্ষা হবে না- শিক্ষামন্ত্রী মেসির রেকর্ডের রাতে পিকের লাল কার্ড; তারপরও গোল উৎসব বার্সার কৃষি মন্ত্রণালয়কে করোনার সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ ইতালি প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি

নদীর উত্তাল ঢেউয়ের গর্জনে প্রতিনিয়ত ভাঙ্গছে নিজামপুরের বেড়িবাঁধ

রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২০  

পঠিত: ৮৫
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

উত্তাল স্রোতের তান্ডবে টাল-মাটাল নিজামপুর বেড়িবাঁধ। যে কোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। কলাপাড়ায় মহিপুরের নিজামপুর গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি নির্মান কাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক বছর না যেতেই ভাঙ্গতে শুরু করেছে। অমাবস্যা-পূর্ণিমা কিংবা জোয়ারে আন্ধারমানিক নদীর খরস্রোতা উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে বারবার এ বাঁধের উপর। প্রতিনিয়তই ভাঙ্গছে  বাঁধটি। ফলে হাজার হাজার মানুষ পুন:রায় পানিবন্দি ও আর্থিক ক্ষতির শংকায় রয়েছে। গত কিছুদিনের অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডব জুড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১৫নভেম্বর ঘূর্নিঝড় সিডরে মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের পাউবো’র ৪৭/১ পোল্ডারের বেরিবাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এর পর ২০০৮ ঘূর্নিঝড় নার্গিস, ২০০৯ আইলা, ২০১৩ মহাসেন, ২০১৫ কোমেন, ২০১৬ রোয়ানু, ২০১৭ মোরা, ২০১৯ ফণী ও বুলবুল এর তান্ডবে নিজামপুর বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বেশ কয়েকবার সংস্কারসহ তিন-তিনবার পূন:নির্মান হলেও সাগর মোহনা আন্ধারমানিক নদীর অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারে পানি ভাঙ্গন কবলিত অংশ দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। বার বার প্লাবিত হয় ওই ইউনিয়নের অন্তত: তিন হাজার একর ফসলি জমি। ওই এলাকায় দীর্ঘ ১২ বছরেও মনমত ফসল পায়নি কৃষকরা। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে নদী ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করে দেয় রিং বেরিবাঁধ। সবশেষ এ বছর আম্ফান ও গত কিছুদিনের অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে বাঁধটির বিভিন্ন অংশে  ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

একজন কৃষক বলেন, আমাদের অনেক চাষের জমি গিলে খেয়েছে এই নদী। এই বাঁধটি নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের এবার আর যাওয়ার কোন জায়গা থাকবেনা। একই আরেক কৃষক বারেক হাওলাদার  বলেন, আন্ধারমানিক নদীর জোয়ারের তান্ডবে শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। নদীর পানির চাপ বাড়ার সাথে সাথে বাঁধটি  চরম হুমকী ও  ঝুকির মধ্যে রয়েছে।

নিজামপুর গ্রামের একজন বাসিন্দা বলেন, সিডরের পর থেকে কয়েক গ্রামের মানুষ গত ১০ বছরে জমিতে কোন চাষ করতে পারিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জনগনের দূর্ভোগ লাগবে এখানে রিং বেরিবাঁধ তৈরী করে দিয়েছে।

মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ: ছালাম আকন বলেন, এলাকার বেশিরভাগ মানুষই মৎসজীবী  অনেকেউ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুধু অমাবস্যা-পূর্ণিমাই নয়, জোয়ার ভাটার সাথে যুদ্ধ করেই বেঁচে থাকতে হয় এখানকার মানুষের। পূর্বের বেবিবাঁধ নেই। এখানে সাড়ে আটশ মিটার রিং বেরিবাঁধ হয়েছে। তাও আবার আম্ফান ও অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে  ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অনেক বার ঘুরেছি।

কলাপাড়া পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, নিজামপুরের রিং বেরিবাঁধটি সরজমিনে পরিদর্শন করেছি। যে বরাদ্ধ দেয়া হয় তা দিয়ে কোন রকমের কাজ করা সম্ভব। সাগর মোহনায় পুর্নাঙ্গ বেরিবাঁধ করা প্রয়োজন। এজন্য প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয় পাঠানো হয়েছে।

 

এই বিভাগের আরো খবর