ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন কারণে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় `জাওয়াদ` শুরু হচ্ছে বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ট্রায়াল বাংলাদেশকে বিনামূল্যে করোনার আরও টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র রোনালদোর রেকর্ডের ম্যাচে জয় পেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

নবীনগরে নির্বাচনী সহিংসতায় একজন নিহত

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২১  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় প্রতিপক্ষের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক মাসুদ মিয়া নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশের দাবী, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মাসুদ নিহত হয়েছে। সে একাধিক মামলার পলাতক আসামী ছিলেন। এদিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতাকারী দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছেন।

 

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে নেয়ার পথেই মাসুদ মারা যায়। এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের বাজারে ও পশ্চিমপাড়া কবরস্থান এলাকায় দুই দফায় কুপিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে হামলাকারীরা।নিহত মাসুদ মিয়া (৪০) খাগাতুয়া গ্রামের মঙ্গল মিয়ার পুত্র।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় খাগাতুয়া গ্রামের কালু মিয়া ও যাদব মিয়ার সাথে মাসুদ মিয়ার বিরোধ চলে আসছিলো। আসন্ন (২৮ নভেম্বর) রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা মারুফের সমর্থক ছিলেন মাসুদ। বৃহস্পতিবার ভোরে ভাগ্নিকে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে খাগাতুয়া বাজারে চা খেতে যান মাসুদ। এসময় সিএনজিচালিত তিনটি অটোরিকশায় করে একদল যুবক এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে মাসুদকে রক্তাক্ত জখম করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিএনজিতে তুলে খাগাতুয়া পশ্চিমপাড়া কবরস্থানের সামনে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় কুপিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে রাস্তায় ফেলে দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন মাসুদকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নবীনগর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢাকা নেওয়ার পথিমধ্যে দুপুরে মাসুদ মারা যায়। মাসুদের মৃত্যুর খবর চাউর হলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে রতনপুর ইউনিয়নে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা মারুফ অভিযোগ করে বলেন, 'প্রতিপক্ষ নৌকার প্রার্থীর সমর্থকেরা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতেই আমার সমর্থকের উপর হামলা করে। এতে মাসুদ নিহত হয়।' অপরদিকে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদ হাসান বলেন, 'এটি নির্বাচনী বিরোধের সহিংসতার ঘটনা নয়। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জেরেই মাসুদের উপর হামলার পর ঢাকা নেয়ার পথে সে মারা যায়।'

 

নবীনগর থানার পরিদর্শক (ওসি) আমিনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'স্থানীয় কোন্দলের জের ধরে এই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে বিষয়টির তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অবস্থায় কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এই বিভাগের আরো খবর