ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬

ব্রেকিং:
৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ শাহাদাত কাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাক-কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের কর্মবিরতি
সর্বশেষ:
শেষ টেস্ট খেলতে কলকাতার পথে টাইগাররা, মূল চ্যালেঞ্জ বোলারদের মনে করেন পেসার আল-আমিন হোসেন পেঁয়াজের পর চালের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে : নাসিম পদ্মা সেতুতে বসেছে ১৬তম স্প্যান আজ কার্গো বিমানে পেঁয়াজের প্রথম চালান আসছে বিটিআরসির কলসেন্টারে ৭ হাজার ৯০৮ অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী আজ রাতে দেশে ফিরছেন তিনটি বিলে সম্মতি প্রদান করেছেন রাষ্ট্রপতি

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮

পঠিত: ২৭

ব্যাপক সচেতনাতা সৃষ্টি ও দেশের নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে গণমাধ্যম নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূণ ভূমিকা পালন করতে পারে। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশী এই জনগোষ্ঠীর কল্যাণে গণমাধ্যমের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন অধিকার কমীরা।

বর্তমানে শিশু ও নারী পাচারের মাধ্যমে উক্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার লংঘন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাচার রোধ করে তাদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে  প্রচারণামূলক কাজের মাধ্যমে গণমাধ্যম চেষ্টা করলে ‌‌‘অন্যতম’ এ দায়িত্ব পালন করতে পারে। বিশেষ করে নারী ও শিশু পাচার সংক্রান্ত ঘটনাবলী ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে  নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

আমরা জানি- মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন প্রনয়ণ করা হয়েছে পাচার প্রতিরোধ ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে। এ আইনে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের জন্য ৭টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। অথচ অদ্যবধি এই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়নি। এ জন্যই অপরাধীরা অপরাধ করে শাস্তি না পাওয়ায় তারা আরও জঘন্য কাজে জড়ানোর উৎসাহিত হচ্ছে। ফলে দেশে নারী ও শিশু পাচার-নির্যাতন থামানো সম্ভব হচ্ছেনা।

উক্ত আইনে পাচারের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধীদের এই শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীদেন মাঝে এক ধরনের ভীতি সঞ্চার হতো, ফলে তারা এই কাজ হতে নিবৃত্ত হতো, কিন্ত বিচার না হওয়ায় এটা এ প্রবনতা বেড়েই চলেছে।

পাচারকৃত শিশুদের মামলাগুলোর বিচারকাজ বর্তমানে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আদালতে হওয়ায় এই মামলার রায় হতে বেশ সময় লেগে যায়- কারণ এই আদালতগুলো ইতিমধ্যে মামলাজটে দিশেহারা। তাতে করে শিশু পাচার সংক্রান্ত মামলার বিচারকাজ বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা ও নারী ও শিশুদের সুরক্ষার স্বার্থে বিশেষ আদালত গঠন করা জরুরী।

অধিকার কর্মীরা মনে করেন, দেশের পাচার প্রবণ এলাকাগুলোতে যদি এই বিশেষ আদালত গঠন করা যায় তাহলে পাচার প্রতিরোধে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই আশু পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

পাচারের কারণে একটি শিশুর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয় উল্লেখ করে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এর কারণে একটি শিশুর দৈহিক, শিক্ষাগত, মানসিক, আবেগগত ও সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তারা আরো মনে করেন, এই বিষয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া দরকার এবং পাচারের কারণে সৃষ্ট সমস্যাসমূহ সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার জরুরী ভিত্তিতে।

নারী মৈত্রী’র নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি বলেন- পাচার এর ভয়াবহতা এবং এর থেকে উত্তরণের জন্য সচেতনাতা সৃষ্টির পাশাপাশি কিভাবে এ সমস্যা থেকে প্রতিকার পাওয়া যাবে সে পন্থাগুলি নির্দেশিকা আকারে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে পৌঁছানের ব্যবস্থা সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমের একটি ‘বিশেষ দায়িত্ব’ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

মানব পাচারের ঘটনা মানবাধিকারের এক চরমতম লংঘন হিসাবে উল্লেখ করে মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, এটা প্রতিরোধের লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি যৌথ উদ্যোগ (সেরকারী-বেসরকারী সমন্বয়ে) গ্রহণ করা দরকার। এটা সম্ভব হলে পাচারের মতো জঘন্য ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

আমাদের দেশে ’মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ ও ’মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০১৮-২০২২)’ রয়েছে আইনি সুরক্ষা হিসাবে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়াতে যদি এগুলো পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ দেওয়া হয় তবে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি সাধিত হবে বলে মনে করেন প্রিভেনশন অফ চাইল্ড ট্রাফিকিং থ্রু স্ট্রেনদেনিং কম্যুনিটি এন্ড নেটওয়ার্কিং (পিসিটিএসসিএন) কনসোর্টিয়াম এর সদস্য সংগঠন কম্যুনিটি পার্টিসিপেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক মোসলেমা বারী।

শিশু ও নারী পাচার রোধে সংশ্লিষ্ট আইন, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা এবং উপরোক্ত বিষয়গুলো যাতে বাস্তবায়ন করা হয়, এবং সংবেদনশীল প্রতিবেদন ও লেখনী তুলে ধরার মাধ্যমে নারী ও শিশুদের অধিকার যাতে সুরক্ষিত হয় আমাদের গণমাধ্যম প্রতিনিয়ত সেই মহান ভ’মিকা পালন করবে বলে অধিকার কর্মীরা আশা করেন।

ইংরেজী দৈনিক ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেস এর সিনিয়র সাংবাদিক বিভাষ বণিক মনে করেন, দেশ ও জনগণের প্রতি গণমাধ্যমের দায়িত্ব রয়েছে। “গণমাধ্যম যদি দেশের অর্ধেকেরও বেশী জনগোষ্ঠী (নারী ও শিশু) এর সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করে তবে সেটা জাতির বৃহত্তর স্বার্থে একটি মহান কাজ করা হলো বলে তিনি এ মন্তব্য করেন”।

এই বিভাগের আরো খবর