ঢাকা, সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১১ ১৪২৮

ব্রেকিং:
১০ আগস্ট থেকে ওমরাহ’র সুযোগ পাচ্ছে বিদেশী মুসল্লিরা তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত, পার্লামেন্ট স্থগিত
সর্বশেষ:
ইরানে পানির দাবিতে বিক্ষোভ, নিহত ৩ বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণ কমেছে

নিয়তির নিষ্ঠুর বিড়ম্বনায় দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ী চাষ

মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২০  

মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

মোস্তফা আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র


প্রবাদে আছে, 'নিয়তির যেখানে নির্মম পরিহাস শত চেষ্টা সেখানে ব্যর্থ হয়, ভাগ্যের যেখানে নিষ্ঠুর বিড়ম্বনা শত বিপ্লবও সেখানে মুখ থুবড়ে পড়ে'। ঠিক তেমনই  বিপদ যেন পিছু ছাড়ছে না দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি চাষিদের। বেশ কয়েক বছর ধরে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের চিংড়ি শিল্প  নানান বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। চিংড়ির পোনা উৎপাদনকারী বাণিজ্যিক হ্যাচারিগুলো বন্ধ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় মারাত্মকভাবে মাছের পোনা সংকট। তার সঙ্গে বছর বছর দুই থেকে তিনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো লেগেই আছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে অতিরিক্ত পানির জোয়ারে খুলনার পাইকগাছা, কয়রা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি, সদর, কালিগঞ্জ ও বাগেরহাটে ভেসে গেছে কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের। মাছের ঘের, হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছে তারা।

জানা যায়, করোনার মধ্যেও চিংড়ি রপ্তানিতে আশোর আলো দেখলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিংড়ির উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চিংড়ি রপ্তানিকারকরা। গত জুন-জুলাই মাসে মোংলা বন্দর থেকে নেদারল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা। তবে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস্ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন’র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মো. আব্দুল বাকি বলেন, ঘূর্নিঝড় আম্পানে উপকূলের অসংখ্য চিংড়ি ঘের নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আবার নদীর অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত চিংড়ি মিলছে না।

চিংড়ি চাষি হুমায়ুন কবির জানান, গত মার্চ-এপ্রিল মাসে করোনা মহামারীর কারণে চিংড়ির আড়ত বন্ধ থাকায় হাট-বাজারে তা’ কম দামে বিক্রি হয়েছে। এখন জোয়ারের পানিতে পাইকগাছা-কয়রা, শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জের কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে। ফলে মাছের ক্ষতি, পোনা ও খাবার সংকট, কর্মচারীদের বেতন-সব মিলিয়ে বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে খামারিরা।

জানা যায়, এর আগে গত ২০ মে সাতক্ষীরা-খুলনা-বাগেরহাটসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরা-খুলনা-বাগেরহাটের মৎস্য ঘের পানিতে ডুবে যায়। মৎস চাষিদের ক্ষতি হয় কয়েক কোটি টাকা। তবে এসময়ও চিংড়ি চাষি ও চাষি সমিতির নেতৃবৃন্দ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি দাবি করেছিলেন। আম্পানের পরে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও চাষিরা আবারও পোনা ছেড়েছিল মৎস্য ঘেরে। সেই পোনা বড় হওয়ার পরে কিছুদিন ধরে বিক্রি শুরু করেছেন চাষিরা। এর মধ্যেই গেল পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় আবারো বাগেরহাটের কয়েক হাজার চিংড়ি ঘের ভেসে গেছে।

জানা যায়, উপকূলীয় জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরায় প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়। চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ১০ লাখ মানুষ। মৎস্য অধিদপ্তর, সহকারি পরিচালক এইচ এম বদরুজ্জামান বলেন, নানা কারণে চিংড়ি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে চাষিরা। পরপর কয়েকবছর লোকসানের কারণে চিংড়ির বদলে অনেকে সাদা মাছ বা ধান চাষে ঝুঁকছে।

লেখক: শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী

 

এই বিভাগের আরো খবর