Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২,   আশ্বিন ১৪ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
এসএসসির নির্বাচনি পরীক্ষার ফল ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ কোনো দলকে সমর্থন নয়, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভারত আরও তিন বছরের সাজা পেলেন অং সান সু চি করতোয়ায় নৌকাডুবি: পঞ্চম দিনের উদ্ধার অভিযান চলছে

পাঠাভ্যাস ও সরকারি প্রনোদিত গ্রন্থ

রহিমা আক্তার মৌ

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২  

রহিমা আক্তার মৌ, ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

রহিমা আক্তার মৌ, ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।


১০সেপ্টেম্বর শনিবার গোধূলি বেলায় সমকাল সুহৃদ সমাবেশ, ঢাকা কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বিখ্যাত উপন্যাস 'চিলেকোঠার সেপাই' গ্রন্থের উপর এই পাঠচক্রের আলোচনা হয়। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ, লেখক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। বইটি সম্পর্কে আলোচনা করেন, দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ ও সহ সম্পাদক এহসান মাহমুদ। মতামত প্রকাশ করেন সুহৃদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ফরিদুল ইসলাম নির্জন, ও যুগ্ম আহবায়ক মেহেরুন রুমা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের (ভারপ্রাপ্ত) বিভাগীয় সম্পাদক আসাদুজ্জামান। এমন আয়োজনে আমি এই প্রথম গিয়েছি। সেদিন যে 'চিলেকোঠার সেপাই' বইয়ের উপর আলোচনা হবে আমি ঠিক জানতাম না। জানলে কিছুটা হলেও পড়ে যেতাম, কারণ বইটি আমার পড়া নেই। লিখতে হলে পড়ার কোন বিকল্প নেই। লেখালেখি করি বলে যখন যে বিষয়ে লিখি সে বিষয়ে অনেক পড়ার দরকার পড়ে বলে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই পড়ার বাইরে পড়ে যায়, তেমনি বই 'চিলেকোঠার সেপাই'। উপস্থিত আলোচনা শুনে তখনিই ঠিক করি দ্রুত এই বইটি ও 'খোয়াবনামা' বইটি পড়ব। আরো আনন্দিত হলাম এটা জেনে যে এমন আয়োজন চলমান থাকবে সুহৃদ সমাবেশের। অন্তত এই উপলক্ষেও কিছু বই পড়া হবে।

 

সরকারি কর্মকর্তাদের ‘জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস’ গড়ে তোলার জন্য গত অর্থ বছরে (২০২১-২২) হঠাৎ করেই বই কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়। যতটুকু জানি আমাদের দেশে সরকারের তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রধানত বই কেনে। জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন৷ নিদিষ্ট সময়ে পত্রিকায় সার্কুলার দেয়া হয়, সেই নিয়মে প্রকাশনী, প্রকাশক, লেখক বই এর এককপি করে জমা দেন। যাচাই-বাছাই করার পর যাদের বই নেয়ার উপযোগী হয় তাদের বই নেওয়া হয়। তবে সেখানেও আছে ভিন্নতা। জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনে লেখক ও প্রকাশক দুই জনেই বই জমা দিতে পারে, তবে একই বই দুজনে দিতে পারে না। লেখক জমা দিতে চাইলে প্রকাশকের অনুমতি নিয়েই দিতে পারে, সে ক্ষেত্রে প্রকাশক সে বই জমা দিবেন না। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে আগে শুধু প্রকাশক বই জমা দিতে পারতেন আর লেখক নিজে কোন বই করলে মানে কোন প্রকাশনীর মাধ্যমে নয় এমন বই জমা দিতে পারতেন। গত দুইবছর থেকে সে প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও অন্যদুই প্রতিষ্ঠানের মত বই কিনে থাকেন। ইসলামি ফাউন্ডেশন আবার দুই ভাগে বই নেয়, একটা হল ইসলামি ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম অন্যটি হল ইসলামি ফাউন্ডেশন আগারগাঁও। লেখক হিসাবে বই জমা দেয়ার সুযোগ থাকলে আমি নিজেই আমার বই জমা দিই, সেটা প্রকাশকের অনুমতি নিয়ে। কারণ যতটুকু জানি একজন প্রকাশক বা একটা প্রতিষ্ঠান ২৫ টির অধিক বই জমা দিতে পারেন না। ইসলামি ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম একই বছর আমার দুই বই ও জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ভিন্ন ভিন্ন বছর আমার তিনটি বই নিয়েছে।

 

বলা হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস’ বই কেনার বিষয়ে কোনো নিয়ম-নীতি মেনে করা হয়নি৷ কোনো প্রকল্প ছাড়াই ‘বইপত্র ও সাময়িকী' খাত থেকে চার বছরের জন্য মোট বরাদ্দ করা হয় ৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। বর্তমান সময়ে ২০২২ সালে এই উদ্যোগ নিশ্চই খুবই ভালো। শুধু জ্ঞ্যান অর্জন নয় এই উদ্যোগের ফলে পাঠ্যবই এর বাইরে বই পড়ায় আগ্রহী হয়ে উঠবে আমাদের সব বয়সীরা। একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী যখন একটা ভালো বইয়ের সন্ধান পাবেন, পড়বেন তখন তার প্রজন্ম ও তার পরের প্রজন্মের সাথে এই নিয়ে আলোচনা করবেন, পড়ার জন্যে উৎসাহ দিবেন। হয়তো কেউ কেউ এই বিষয়ে একমত নাও হতে পারেন, সেটা সবার ব্যক্তিগত বিষয়, আমি আমার মতামত প্রকাশ করলাম মাত্র। শুধু এটাই নয়, এই উদ্যোগের ফলে মানসম্মত লেখা আসবে, মানসম্মত বই প্রকাশিত হবে। প্রকাশক লেখক, প্রকাশনা সংস্থা ক্রমে উপকৃত হবেন। ব্যক্তিগত ভাবে একজন লেখক হিসাবে এমন বই কেনার উদ্যোগের খবর পেলে আমিও খুশি হই। বলতে পারেন অনেকটা স্বার্থপরের মতোই।

 

উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য পাঠাগার তৈরির করার জন্যে এই উদ্যোগ নেয়া। আগামী চার বছর, ছোট ছোট বরাদ্দ দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার অফিস, জেলা প্রশাসক অফিস এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসে পাঠাগার গড়ে তোলা হবে। এর জন্য ১ হাজার ৪৭৭ বইয়ের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হয়। তবে শুধু মাত্র এই তালিকা থেকে বই নেয়া হবে এমনটি কোথাও বলা হয়নি। আলোচিত এই বই কেনার জন্য দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় প্রতিটিতে এক লাখ ৫০ হাজার, ৬৪ জেলার প্রতি জেলায় দুই লাখ এবং আট বিভাগে তিন লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চার বছরের মধ্যে ওই টাকায় বই কিনতে বলা হয়। গত অর্থ বছর থেকেই বই কেনা শুরু হয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, "পরিকল্পনার গোড়ায় গলদ। সব শুনে মনে হচ্ছে, বই পড়ানোর চেয়ে বিক্রির টাকা পকেটে যাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি কর্মকর্তারা কি অফিস বাদ দিয়ে বই পড়বেন? অনেক ভালো লেখক জায়গা পাচ্ছেন না; কিন্তু একজন অতিরিক্ত সচিবের এত বই একটি তালিকায় থাকা তো রীতিমতো অপরাধ। ২৯টি বই থেকে তিনি কত উপার্জন করেছেন দুদকের তদন্ত করা উচিত। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ওপর যেনতেনভাবে একটি বই লিখেই লেখকের তালিকায় নাম জায়েজ করা যায় না।"-- ( তথ্যসূত্র : ২৭ আগষ্ট, ২০২২, দৈনিক প্রথম আলো)

 

জেলা-উপজেলায় বই কিনতে ৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে পাঠানো হয়েছে ১ হাজার ৪৭৭টি বইয়ের তালিকা। এরই মধ্যে বই কিনতে শুরু করেছেন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। এই তথ্য এখান পর্যন্ত ঠিক আছে, কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো তালিকার মধ্যে একজন অতিরিক্ত সচিবেরই ২৯টি বই থাকায় সবকিছু যেন গুলিয়ে যায় সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসা একপুকুর দুধে এক কাপ লেবুর পানির পড়ার মত। অবশ্য পুরো তালিকা আমি দেখিনি। গণমাধ্যমে শুধু জানতে পারলাম।

 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "তালিকা বাতিল করা ইতিবাচক, তবে এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে৷ নিজে প্রকাশনা সংস্থা করে নিজের বই ছেপে আবার তা সরকারি অর্থে কেনার ব্যবস্থা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ এরইমধ্যে বই কেনাও হয়েছে৷ তাই সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার৷ এর নীতিমালা ও স্বচ্ছতা থাকা দরকার৷ বই কেনা হবে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বইয়ের গুণগত মান দেখে৷ কোনো দলীয় রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়৷ কিন্তু আমাদের দেশে একটা রেওয়াজ হয়ে গেছে সব খানেই দলীয় বিবেবচনায় সবকিছু করার চেষ্টা হয়৷"

 

শুধু যে একজন তাই নয়। তালিকার ১ হাজার ৪৭৭টি বইয়ের মধ্যে শতাধিক বই অন্তত ২৫ জন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার লেখা। আরো আছে আইনকানুন, দাপ্তরিক বিভিন্ন জরুরি প্রসঙ্গ, ইতিহাস ও দর্শনের প্রয়োজনীয় বই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে আর হচ্ছেও। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনেক অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে। অবশ্য আমার মত একজন নগন্য লেখকও দুইটা বই করেছি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে উপহার দিলাম উনার মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন নিয়ে বই "মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান মতিন" আর বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে "বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ"। উক্ত তালিকায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে থাকা ১৬৬টি শিরোনামের মধ্যে অন্তত ৪০টি বই আছে, যা ১৫ জন সরকারি কর্মকর্তার লেখা। অবশ্য আমার একটা বই থাকলে হয়তো আমিও খুবই আনন্দ উপভোগ করতাম।

 

এই বিষয়ে সাহিত্যিক, অনুবাদক, বাংলা একাডেমি কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন লিখেন,
"কেনার জন্য পাঁচশ বই-ই যথেষ্ট। তার মানে প্রচুর অপশন আছে। তবুও, প্রথম আলোকে ধন্যবাদ জানাই, বিষয়টি আলোতে আনার জন্য।.... এ ধরনের ক্রয়ের ক্ষেত্রে আগামীতে যাতে জনাব মো. নবীরুল ইসলামের মতো কেউ এই 'কাজ' করতে না পারেন, সে জন্য এই প্রতিবাদের প্রয়োজন আছে। এর আগে, আমলারা দুজনকে একুশে পদক দিয়েছেন যা প্রতিবাদের মুখে তুলে নেওয়া হয়েছে।..... অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, বই কেনার তালিকা প্রস্তুতে লেখকদের কমিটি কেন করা হয়নি? প্রশ্নটা যথার্থ, কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, লেখকরা বড়ো বড়ো মিটিং করে যে সমস্ত তালিকা ইতোপূর্বে করেছেন, তা আরো বেশি যাতা হয়েছে।

 

শেষ প্রশ্ন থেকেই যায়, বইগুলো থাকবে সরকারি কার্যালয়ের পাঠাগারগুলোতে। ছুটির দিনগুলোতে সেগুলো বন্ধ থাকে, খোলা থাকলেও মনে হয় না কেউ বই পড়ার জন্য যাবে। আবার অফিস সময়ে বইপড়ার সময় কি আসলেই থাকে? বা থাকা উচিত? শেষ পর্যন্ত বইগুলো অফিসের দেয়ালে অস্পৃশ্যই থেকে যাবে নাতো?...... অফিস সজ্জার জন্য সাধারণ শো পিস কেনা হলে বই কেন নয়? বই তো, আমার ধারণা, দূর থেকেও আলো দেয়। একটা সভ্য জাতির অফিস-আদালত-গৃহে কিছু বই তো থাকারই কথা।"

 

উক্ত বইয়ের তালিকার সেই ২৯ বই যে প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে সেখানেও রয়েছে গড়মিল। আসলে এটা নাকি কোন প্রকাশনীই নয়, যার তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির পরিচালক আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, "মৃত্তিকা প্রকাশন আমাদের সদস্য নয়। আর বাস্তবে এই প্রকাশনীর কোনো অস্তিÍত্ব নেই। নবীরুল সাহেব নিজেই একটি প্রকাশনী বানিয়ে তার নিজের বই নিজের পয়সায় ছাপেন। আর বিভন্ন দপ্তরে যখন ছিলেন, তখন তার মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। অন্য প্রকাশকরা তার অল্প কিছু বই ছেপে থাকতে পারে। আর তার বই কোথায় পাওয়া যায় তা-ও আমরা জানি না।"

 

১০ সেপ্টেম্বরের পাঠচক্রে কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ভাই শিক্ষাবিদ, লেখক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন, "চিলেকোঠার সেপাই গ্রন্থটি বাংলাদেশের একটা ইতিহাস। লেখক একই সাথে শহরের চরিত্র ও গ্রামের চরিত্র তুলে এনেছেন। তুলে ধরেছেন ঊনসত্তর এর অভ্যুত্থান এর কথা, আমাদের মুক্তির কথা, শাসনের কথা, শোষণের কথা। আপনারা এসব জানার চেষ্টা করবেন, আপনারাই তো আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিবেন এমন ইতিহাস সমৃদ্ধ বই।"

 

ঠিক সেই সময়ে নিজের মনের ভেতর প্রশ্নের জন্ম, উক্ত তালিকায় কি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর কোন বই ছিল? হয়তো ছিল, হয়তো ছিল না। এখন তো অনেক কিছুই ব্যাবসায়ীদের দখলে হয়তো এই খাতটিও সেদিকে হাঁটছে।

 

লেখক: সাহিত্যিক, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক