ঢাকা, রোববার   ২৪ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৮ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সন`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের অনুরোধ করা হল। নিয়োগ পেতে কেউ অসদুপায়ে আর্থিক লেন-দেন করে থাকলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ (প্রকাশক ও সম্পাদক) দায়ী থাকবেনা।
সর্বশেষ:
খুব শিগগিরই ইলেকট্রনিক্স শিল্প গার্মেন্টসকে ওভারটেক করবে: সালমান এফ রহমান সরকারের শক্ত অবস্থানের জন্য ভারত প্রশংসা করেছেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জানুয়ারি থেকে ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে কবি শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন আজ আবারো শুরু হচ্ছে এইচএসসি’র ফরম পূরণ রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ‘কিলিং স্কোয়াড’-এর এক সদস্য গ্রেফতার

পুরো দেশ লকডাউন সেখানে নীলফামারীতে উত্তরা ইপিজেড খোলা

রুবেল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২০  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

সারা বাংলাদেশ লকডাউন নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড খোলা রাখা হয়েছে, লকডাউন দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছে নীলফামারীবাসী। আজ রবিবার (২৯ মার্চ/২০২০) জরুরী ভিত্তিত্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গতকাল শনিবার থেকে এলাকাবাসী  ইপিজেডের অভ্যান্তরে থাকা কলকারখানাগুলো বন্ধ ঘোষনার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন শতশত জন।

“তারা লিখেছেন গোটা নীলফামারী জেলা ২৬ মার্চ হতে লকডাউন। মানুষজন গৃহবন্দী। কিন্তু খোলা রাখা হয়েছে নীলফামারী সদরে সংগলশী ইউনিয়নে অবস্থিত বেপজার উত্তরা ইপিজেড। সেখানে কাজ করছে এ জেলার প্রায় ৩৫ হাজার নারী পুরুষ শ্রমিক। তাদের প্রতিদিন সকাল ৭টায় যেতে হয় ইপিজেডে ও বাড়ি ফিরতে হয় সন্ধ্যায়। নীলফামারীবাসী করোনা ভাইরাসের গৃহবন্দী হলেও এই শ্রমিকরা গৃহবন্দী হয়নি।  তারা জানিয়েছে (২৬ ও ২৭) শে মার্চ দুই দিন সরকারি ছুটি ছিল (২৮ শে মার্চ শনিবার) থেকে পুনরায় তাদের কাজে যেতে হচ্ছে। একদিন কাজে না গেলে তাদের চাকুরী থাকবেনা। তারা বাধ্য হয়ে চাকুরী হারার ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

মোঃ আনারুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেছেন অতিসত্বর উত্তরা ইপিজেড বন্ধ ঘোষণা করুন। কেননা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা গত ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল ২০২০ইং পর্যন্ত উত্তরা ইপিজেডে চায়নাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কোম্পানীগুলোকে প্রডাকশন চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই জরুরী ছুটি ঘোষণা করেন নাই।

উত্তরা ইপিজেডে কয়েকটা ফ্যাক্টরী ইতিমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করছে সেগুলো হলো, ভেলেটেক্স, দেশবন্ধু, সেকশন সেভেন, উত্তরা সোয়েটার্স অন্যতম। এখন যে সকল ফ্যাক্টরী চালু রয়েছে তারমধ্যে ভেনচুরা লেদারওয়ার, মাজেন বিডি, সনিক ও অন্যান্য কোম্পানি এখনও দিব্বি খোলা এবং অধিকাংশ কোম্পানিগুলোই এই “করোনা” ভাইরাসের জনক চায়নিজ কর্তৃক পরিচালিত।

এভাবে লক ডাউন ভেঙ্গে যদি প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ কাজে যাওয়া আসা করতে থাকে আর চায়নিজদের তত্বাবধানে থেকে যদি কেউ সংক্রমিত হয় করোনা ভাইরাসে বা যেকোন অনন্য উপায়ে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পরলে এজন্য কে দায়ী থাকবে! নীলফামারীর ২০ লাখ মানুষ ঝুকিতে পড়ছে।

নারী নেত্রী আরিফা সুলতানা লাভলী তাহার ফেসবুকে লিখেছেন, উত্তরা ইপিজেড লকডাউন করা জরুরী। তিনি বলেছেন উত্তরা ইপিজেডে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩১ ফ্যাক্টরির মধ্যে ২২ ফ্যাক্টরি চালু রয়েছে। শ্রমিকদের পাশাপাশি ইপিজেড এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই ইপিজেডে চীনা নাগরিক থাকায় আমরা বেশি আতঙ্কিত। ইপিজেডের মূল গেটের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ইপিজেড কেন্দ্রীক গড়ে ওঠা বাজারের দোকানগুলো বন্ধ থাকলেও পূর্বের মতোই নারী-পুরুষ শ্রমিকরা সাইকেল, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা করে দলবেধে আসছেন, ইপিজেডের প্রবেশ করছেন একে অপরের গায়ে ঘেঁষে। নূন্যতম দূরত্বও বজায় রাখছেন না শ্রমিকরা।

নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ রণজিৎ কুমার বর্মন বলেন, উত্তরা ইপিজেড নিয়ে একটু বেশীই চিন্তিত কারন ওখানে যারা বিদেশ থেকে আসে তারা হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলে না, আমার সাথে যোগাযোগও করে না। বিশেষত চীনের নাগরিকদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সময়ে আমি এবং আমার ষ্টাফদের মাধ্যমে তাদের তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারা আমার সাথে কো-অপারেট করে নি। এখন তাদের সাথে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে। সিভিল সার্জন জানান, “সর্বশেষ যে ১৫ জন চীনা নাগরিক এসেছে। তার ১৪ জন কোয়ারেন্টাইন শেষ করেছে। এখনও একজন কোয়ারেন্টিনে আছে। তাদের মেডিকেল টিমও আমাদের সাথে যোগাযোগ করে না, আমাদের ষ্টাফদের তো ভিতরেই ঢুকতে দেয় না।”

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অবগত করেছি। নির্দেশনা মাফিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই বিভাগের আরো খবর