ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১০ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সন`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের অনুরোধ করা হল। নিয়োগ পেতে কেউ অসদুপায়ে আর্থিক লেন-দেন করে থাকলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ (প্রকাশক ও সম্পাদক) দায়ী থাকবেনা।
সর্বশেষ:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগীদের নাম পাঠানোর নির্দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটার জালিয়াতি, সতর্কতা জারি সাহেদকে জামিন দিতে হাইকোর্টের রুল আফগানিস্তান সীমান্তে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তালেবানের হুঁশিয়ারি সুদানের প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদক গৃহবন্দি বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়: তথ্যমন্ত্রী

ফরিদপুরে পাটের মুল্যে সন্তুষ্টি কৃষকের

ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২১  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

ফরিদপুরের মধূখালী উপজেলায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় পাট জাগ দিতে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল পাট চাষিদের। পরবর্তীতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ায় সেই সমস্যা কেটে যায়। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর পাটের ফলন যথেষ্ট ভালো হয়েছে। বাজারে নতুন পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এতে বেশ আনন্দিত পাট চাষিরা।

 

দেখা যাচ্ছে নসিমন, ভ্যানে, মিনিট্রাকে করে বাজারে পাট নিয়ে যাচ্ছেন পাট চাষিরা। গত কয়েক বছর ধরেই পাটের দাম খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। এর মধ্যে গত বছর শেষের পাটের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।

 

মধুখালী বাজারের পাট ব্যবসায়ী মো: শহীদ মোল্যা জানান, মিলে প্রতিনিয়িত পাট নিলে পাটের দাম থাকবে। মিল মালিকরা পাট ক্রয় কমিয়ে দিলে দাম কমে যাবে। পাট কাটা মৌসুমের শুরুতেই পাটের দাম চড়া ছিল। পরে কমে বিক্রি হয় ২ হাজার টাকা থেকে ২ হাজার ২শ টাকা দরে। বর্তমানে এটি ৩হাজার থেকে ৩হাজার ২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অনেক চাষী আরও বেশি দামের আশায় পাট স্টক করেছেন।

 

পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাট চাষ করে তিন মাসের মধ্যে পাট ঘরে তোলা যায়। কম সময়ে, কম পরিশ্রমের ফসল পাট। প্রতি বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ১০/১২ মণ পাট উৎপাদন হয়।

 

আড়পাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আড়পাড়া গ্রামের পাট চাষি বেল্লাল হোসেন জানান, ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ওই জমিতে ২৫ মণ পাট হয়েছে। কয়েকমণ পাট ২ হাজার ৮শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আরও দামের জন্য কিছু পাট ঘরে রেখে দিয়েছেন।

 

উপজেলার মেগচামী গ্রামের চাষী মো: জিন্না মিয়া জানান, তিনি ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা। ২ বিঘা জমিতে প্রায ১৮ মণ পাট হয়েছে। তিনি সেই পাট বাজারে নিয়ে প্রতিমণ ২ হাজার ৮শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এতে তার অনেক লাভ হয়েছে। কম খরচে, কম পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় খুব খুশি তিনি।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভি রহমান বলেন, চলতি বছর ৮ হাজার ৩ শত ৫২ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৫ শত ৫৩ হেক্টর। ভাল বীজ ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ শত ১ হেক্টর জমিতে বেশি পাট চাষ হয়েছে। দামেও কৃষকরা খুশি রয়েছেন। পাটের দাম এ রকম থাকলে আগামী বছর কৃষকরা আরও ব্যাপকভাবে পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন। এ বছর মধুখালী উপজেলায় প্রায় ১৮হাজার ৭৩১.০৭ মেট্টিক টন পাট উৎপাদন হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর