ঢাকা, শনিবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২১,   অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন কারণে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় `জাওয়াদ` শুরু হচ্ছে বঙ্গভ্যাক্সের প্রথম ট্রায়াল বাংলাদেশকে বিনামূল্যে করোনার আরও টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র রোনালদোর রেকর্ডের ম্যাচে জয় পেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

বন্ধ হচ্ছে না চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, আতঙ্কে যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০২১  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

ন্য যেকোনো গণপরিবহনের তুলনায় নিরাপদ হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষের পছন্দ ট্রেনে ভ্রমণ। কিন্তু ট্রেনের যাত্রীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে আচমকা চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কাজ করলেও সহসাই রোধ করা যাচ্ছে না ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা।

 

যাত্রীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো অঞ্চলে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। এই পাথর নিক্ষেপ এখন মূর্তিমান আতঙ্ক। অথচ রেলওয়ে আইনে পাথর নিক্ষেপের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

 

রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রেনকে যাত্রীবান্ধব করতে রেলওয়ের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। এখন চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগসহ জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে রেলওয়ে। পাথর নিক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত রেল-পুলিশের টহল বাড়ানোসহ স্কুলশিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, মসজিদ-মন্দিরের ইমাম-পুরোহিতদের সহযোগিতায় জনসচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া কেউ পাথর নিক্ষেপকারীকে ধরিয়ে দিলে তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি মালিকানাধীন ও সরকার পরিচালিত দেশের একটি মুখ্য পরিবহন সংস্থা। বর্তমানে দেশে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি রেলপথ রয়েছে। দেশের ৪৪টি জেলার সঙ্গে এই রেললাইন নেটওয়ার্ক সংযুক্ত। রেলপথে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ১১৬টি। এতে ৩৪ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ১০৯টি ট্রেনের জানালা ভেঙেছে। এর মধ্যে দেশের ১৫টি এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি।

 

গত ১৫ আগস্ট নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় চলন্ত ট্রেনে নিক্ষেপ করা পাথরের আঘাতে আজমির ইসলাম নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এমন ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে নানা কর্মসূচি পালন করেন নাগরিক প্রতিনিধিরা। পরে ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে রেলওয়ের কর্মসূচি বা উদ্যোগের কথা জানান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

 

ওই সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বলেন, উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালে ট্রেন চালুর পর থেকেই পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটছে। উন্নত দেশেও এই অপকর্মটি হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে সমস্যাটি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রেনের গার্ড, কর্মচারী, যাত্রীও আহত হচ্ছেন। অনেকে চোখ হারিয়েছেন। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পাথর নিক্ষেপ বন্ধে সচেতনতা তৈরির জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

 

রেলমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের ১৩ দিন পর ১৫ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আবারও চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পাথরের আঘাতে মমতাজ মারোয়া (৫০) নামে এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। এছাড়া গত ২ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর ছুদদড়ে মারা হয়। এতে ট্রেনটির অন্তত চার যাত্রী আহত হন।

 

গত ১০ অক্টোবর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গাজীপুরের টঙ্গী স্টেশন পর্যন্ত পাথর নিক্ষেপের বিরুদ্ধে সচেতনতা কার্যক্রম চালায় জিআরপি ও রেলওয়ের ঢাকা বিভাগ। এর আগে ও পরে দেশের অন্য জেলায়ও একই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের কুফল, শাস্তির বিধান সম্বলিত প্রচারণা, লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করা হয়।

 

গত ২০ অক্টোবর রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় হাতেনাতে তিন তরুণকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ। আটকরা হলেন- আকাশ রহমান (১৮) রিফাত ইসলাম (১৯) ও মো. হাসান (১৯)। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে রেল পুলিশ।

 

রেলওয়ে আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর ছোড়া হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ৩০২ ধারা অনুযায়ী, পাথর নিক্ষেপে কারও মৃত্যু হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। যদিও এসব আইনে কাউকে শাস্তির নজির নেই। এছাড়া কেউ যেন রেললাইনের ধারের কাছে না আসতে পারে, আইনে ১৪৪ ধারা জারি করা আছে।

এই বিভাগের আরো খবর