ঢাকা, রোববার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১১ ১৪২৮

ব্রেকিং:
আজ থেকে বিমানবন্দরে করোনা টেস্ট রোহিঙ্গাদের ফেরানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে মিয়ানমারকে দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সন`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের অনুরোধ করা হল। নিয়োগ পেতে কেউ অসদুপায়ে আর্থিক লেন-দেন করে থাকলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ (প্রকাশক ও সম্পাদক) দায়ী থাকবেনা।
সর্বশেষ:
জাতিসংঘের সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশ নিষিদ্ধ ৮ খেলোয়াড় নিয়ে দল ঘোষণা ব্রাজিলের মমেক ও রামেকে আরও ১১ জনের মৃত্যু বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ২৩ কোটি ছাড়াল

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে তুলুন

লুৎফর রহমান লাভলু

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।


প্রাকৃতিক দুর্যোগের আধার বলা হয় সোনার বাংলাকে।প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশের নিত্যসঙ্গী। দেশের প্রতিটি অঞ্চল কোন না কোন সময় বিভিন্ন রকম দুর্যোগের সম্মুখীন হয়।বাংলাদেশে যে সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে তারমাঝে অন্যতম বন্যা। নদীবহুল এদেশে বন্যা মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করে।বর্ষার মৌসুমে প্রতিবছর ব্যাপক জোয়ারের চলমানতা ও ভারী বৃষ্টিবর্ষণ প্রতিবছর নদীর জল দুকূল ভাসিয়ে বন্যা সৃষ্টি করে। যার ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয় মানবকুল,পশুপাখি, প্রাণী,জীব ও জগতের। সর্বোপরি মানবজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এবারো তার বিপরীত নয় বর্সার মৌসুমের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছোট,বড় সব মিলিয়ে দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ পশ্চিম ও উওরাঞ্চলে বেশ কয়েকবার বন্যা হয়েছে।তবে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অন্ততঃ ১২ জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

 

দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের এই জেলাসমুহে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।উজানে ভারি বর্ষণ চলতে থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার বিস্তার ঘটছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী,গাইবান্ধা, উত্তর-মধ্যাঞ্চলের জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা; মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, শরিয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে ব্যাপক হারে।নিম্নাঞ্চলে মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর অবস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি বাড়ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।যমুনা,ব্রহ্মপুত্র,তিস্তা নদীর পানি অতি বৃদ্ধির ফলে প্লাবিত হয়েছে ১২টি জেলার সব উপজেলাগুলো।বন্যার প্রকোপ বেড়ে যাওয়াতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে নদীভাঙ্গন।আর নদীভাঙ্গনের ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে শতশত একর ফসলি জমি,ঘরবাড়ি, পশুপাখি সমস্ত জীব জগতের বৈচিত্র্য।তাই সকল সহাই সম্পদ হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে অনেক মানুষ। বন্যায় কবলিত হয়ে মানুষ হারিয়েছে হাজার হাজার বসতবাড়ি, লক্ষ লক্ষ টন হেক্টর জমির সবজি,মৎস্য খামার,পোল্ট্রি খামার।গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য জীবনে নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বন্যায় কবলিত হয়ে গোয়ালের গরু,ধান,ছাগল সবই ক্ষতিগ্রস্থ।ধ্বংস হয়েছে কয়েকশত পোল্ট্রি খামার ভেসে আসছে হাজারো হাঁস-মুগরি, অনেক মানুষের তৈরি মাটিরঘর,হাজার একর ফসল।মাছের খামার ডুবে যাবার কারণে ভেসেগেছে শত কোটি টাকার মাছ,পানিতে ভেসে আসছে গবাদি পশু। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, স্কুলের মাঠ সবই ডুবে গেছে পানিতে। মসজিদ, মাদরাসা , মন্দির ও গির্জা সবটার ভেতরে পানি। ঘরে পানি, বাহিরে পানি,রাস্তায় পানি, এমন অনেক অঞ্চলে দাঁড়ানোর জন্য নেই শুকনো একটু জায়গা। বসার, খাওয়ার,ঘুমানোর জন্যও কোথাও একটু জায়গা নেই।

 

এতদ অঞ্চলের মানুষের জীবন আজ বড়ই কষ্ট। মহিলা,বৃদ্ধা, শিশুদের কষ্ট আরো বেশি তারা আরো বেশি অসহায়। চারদিকে শুধু মানবতার হাহাকার। বন্যার্তদের পানির কারণে বন্ধ আছে ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা।বন্যায় পতিত এই মানুষগুলোর জন্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস দরকার যেমন:খাদ্য, বস্ত্র,নিরাপদ পানি,ঔষধ ও থাকার জন্য স্বাস্থ্যকর একটা পরিবেশ।খাবার পানির বড়ই অভাব কারণ গভির নলকূপগুলো সব পানির নিচে আর পুকুরগুলো ময়লা ও দূষিত পানিতে ভরপুর।আর রান্নাকরার কোন ব্যবস্থা ও সুযোগ নেই তাই তাদের শুকনো খাবার চিড়া,মুড়ি, বিস্কিট, রুটি ইত্যাদি খেয়ে জীবন চালাতে হচ্ছে।বাংলাদেশের বেশিভাগ অঞ্চলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আশ্রয় নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নেই আর যা আছে তা একেবারে নগণ্য। তাই মানুষ জীবন বাঁচানোর জন্য গবাদিপশু নিয়ে উচু রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় কিংবা ইউনিয়ন অবস্থান করছে।এক কথায় ত্রাণের সাহায্যের উপর নির্ভর করেই বেঁচে আছে জীবন।তাই প্রতিবছরের ন্যায় এবারো এসব দুর্গত ভাইদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।

 

সরকার প্রতিবছর ত্রাণসামগ্রী যথাসম্ভব পাঠানোর চেষ্টা করে, তবে এবার এখনো যথাযথভাবে সকল বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণসামগ্রীর সাহায্য পৌছেনি। আর যা পৌছেছে তা একেবারে নগণ্য কারণ জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ বন্যায় কবলিত। প্রতিবছর সরকারকর্তৃক যে পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয় তা জনসংখ্যা অনুপাতে পর্যাপ্ত নয়।তবে এটাও সত্য যে বন্যাকবলিত এই বিশাল জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা সরকার একার পক্ষে অসম্ভব। কারণ গত দুই বছর থেকে করোনা নামক অশুভ শক্তির হাতে বন্দি সারাদেশ ও বিশ্ব। করোনা সাথে আবার ডেঙ্গুরোগীর সেবা, টিকা, চিকিৎসা ও সহয়তা করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এদিকে আবার বন্যার আঘাত সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সরকার ও জনগণকে। যা একটি সদ্য উন্নয়নশীল দেশের সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের যেসকল ভাইয়েরা বন্যায় কবলিত হয়ে দিনপার করছে তাদের সাহায্য করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বন্যায় কবলিত হয়ে যে ক্ষতি হয়েছে,তা বর্ণনাতীত। এসব ক্ষতি পূরণ হবার নয়।এই সকল দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে ও বন্যার পানি নেমে গেলেও এসব মানুষদের অনেকদিন সেই কষ্ট সহ্য করতে হয়। কারণ তখন মানুষ বিভিন্ন প্রকার পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। বন্যার পর বিশুদ্ধ পানির অভাব প্রকট রূপ ধারণ করে।ফলে ডাইরিয়া,কলেরা, আমাশয় বিভিন্ন রোগের প্রভাব মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সারা দেশের সকল সামর্থ্যবান মানুষ মানবতার সেবাই এগিয়ে আসলে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা কঠিন ও অসম্ভব নয়। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসকল দু্র্গত মানুষের আবার সহজেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে, একথা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তাই ছাত্র, শিক্ষক, চাকরিজীবী, মানবিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সকল মানুষকে সামর্থ্য অনুযায়ী আসুন দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেই শুকনো খাবার,বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ঔষধ।যারা বন্যার হারিয়েছে ঘর তাদের মাথা গোজার ঠাঁই কররে দিই ঘরের ব্যবস্থা করে,যাদের ফসল নষ্ট হয়েছে আসুন তাদের নতুন করে কৃষিকাজের জন্য পাশে দাঁড়াই।যারা গবাদিপশু হারিয়েছে তাদের হাতে তুলে দিই গবাদিপশু। ক্ষতিগ্রস্থ পোল্ট্রি ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের আবারো নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য সহয়তাকরি। ব্যবসা ও বাণিজ্যে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সকল ব্যাংকের উচিৎ সহজ শর্তে পর্যাপ্ত ঋণদান করা এবং যেসকল ভাইয়েরা ঋণ নিয়েছিল তাদের ঋণ পরিশোধে সময় বাড়িয়ে দেওয়া।

 

আমরা জানি ক্ষুদ্রের মাঝে বৃহতের সৃষ্টি আমাদের দেশের এককোটি মানুষ যদি দানকরে একশত টাকা তাহলে সহজে জোগাড় হবে শতকোটি টাকা।আর যদি দানকরে একহাজার টাকা তাহলে নিমিষেই জোগাড় হবে শতকোটি টাকা। তাই এই উদ্যোগ আজ আমাদের গ্রহণ করতে হবে।দেশের শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও সামর্থ্যবান মানুষদের আজ দুর্গত মানুষের জন্য অনেককিছু করার আছে। যার সামর্থ্য যতটুকু সে অনুপাতে সাহায্য করলে খুব সহজেই গড়ে উঠবে একবিশাল ত্রাণতহবিল।আর এই তহবিল যথাযথভাবে ব্যবহার করে আমরা সহজেই ফিরিতে আনতে পারবো দুর্গতদের সুন্দর জীবন।তাই এধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে।দেশের মানুষের উপকার করার সময় এখনই।আজ শুধু প্রয়োজন উদ্যোগ ও উদ্যোগতার। মনে রাখতে হবে এটা আমাদের জাতীয় সমস্যা তাই বর্ষার মৌসুম আসার আগেই এই দু্র্যোগ মোকাবিলা করার জন্য যথাযথ পুর্ণবাসন সহায়তা মজুদ রাখতে হবে।

 

সর্বোপরি তারা সমাজের অংশ আমাদেরর মতো মানুষ।আজ তারা বিপদগ্রস্ত, আগামীতে আমরাও বিপদে পড়তে পারি। আজ যেমন তাদের সাহায্যের দরকার আগামীতে আমাদেরও পড়তে পারে। সুতরাং আসুন মানবতার স্বার্থেই তাদের পাশে দাড়াই। জয় হক মানবতার।সকলের সার্বিক সহযোগীতায় সর্বহারা মানুষ আবারো তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক প্রার্থনা ও কামনা রইলো।

 

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
অর্থ সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ঢাকা কলেজ শাখা।

এই বিভাগের আরো খবর