ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৬ মে ২০২২,   জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
ডাক্তারদের ফাঁকিবাজি রুখতে হাজিরা খাতায় দিনে তিনবার সই করার নির্দেশ! ১০০০ জনবল নিয়োগ দেবে ওয়ালটন ঢাকায় আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি সরকারকে ৬ দিনের আল্টিমেটাম ইমরান খানের ফাইনালের পথে বেঙ্গালুরু, লখনৌর বিদায় সেনেগালে হাসপাতালে আগুন; ১১ নবজাতকের মৃত্যু বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত ২০০ ছাড়িয়েছে ঢাবিতে ফের ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘর্ষ

বাঁশের সাঁকোই ভরসা মহালছড়ির পাঁচ গ্রামের মানুষের

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১১ মে ২০২২  

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।


পাঁচ গ্রামের প্রায় ২হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় এই সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করতে হয় গ্রামবাসীদের।স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত সাঁকোটি প্রতিবছর মেরামত করেন নিজেরাই। তবে এর একটি স্থায়ী সমাধান চান এলাকার বাসিন্দারা।

 

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলাধীন সদর ইউনিয়ন ও ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের মধ্যখানে অবস্থিত চেঙ্গী নদী। চেঙ্গী নদীর ওপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় নিজেদের নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। বর্তমানেসাঁকোটি ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের দাবা ফাদা পাড়া, ধনপাতা পাড়া, রাঙ্গাপানি ছড়া, ক্যায়াংঘাট গুচ্ছগ্রাম ও মহাজন পাড়া গ্রামের জনসাধারনের পারাপারের একমাত্র ভরসা।

 

গ্রামবাসীরা জানান, এক-দুই দিনের নয়, বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পাঁচ গ্রামের মানুষকে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেকবার দুর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে। বর্ষায় এ দুর্ভোগ পৌঁছায় আরও চরমে। সাঁকো মেরামতে সরকারি কোনো অনুদানও পাওয়া যায় না।  

 

প্রতিবছর পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। চাঁদা তুলে কেনেন বাঁশ-খুঁটি। জনপ্রতিনিধিরা দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও পরে আর তা বাস্তবায়ন হয় না বলে অভিযোগ তাদের। তাই অবিলম্বে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

 

স্থানীয় এলাকার অন্বেষা চাকমা জানান, ছোট কালে এই নদী সাঁতরে পার হয়ে মহালছড়ি স্কুলে যাওয়া খুব কষ্টের ছিল। এখনও আগের মত। গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

 

স্থানীয় দাবা ফাদা পাড়া গ্রামের এক সরকারি চাকুরিজীবি নিক্কন খীসা জানান, ‘এটি দীর্ঘ দিনের সমস্যা। বর্ষায় যাতায়াতের জন্য গ্রামের লোকজন নিজ খরচে বাঁশের সাঁকোটি মেরামত করেন। একটি সাঁকো এক বর্ষা পার করার পর আর ব্যবহার করা যায় না। স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে আমরা বেশ কয়েকবার ধরনা দিলেও শুধু পেয়েছি আশ্বাস। এ সমস্যা নিরসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গ্রহনের কোন লক্ষন নেই। অথচ বর্তমান সরকার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করে চলেছেন।

 

দাবা ফাদা গ্রামের দুগ্ধ খামার মালিক ত্রি শংকু খীসা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে পা পিছলে পড়েছি। অনেকবার দুধ নষ্টও হয়েছে। এছাড়াও কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপন্য বাজারে নিতে গিয়ে কাঁধে বহন করা পন্য নষ্ট হয়েছে। আর বাঁশের সাঁকো থেকে পা পিছলে প্রায় সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাতো আছেই।

 

স্থানীয় পাড়া কার্বারি শিশির বিন্দু চাকমা জানান, এলাকায় বর্ষা মৌসুমে চেঙ্গী নদী পারাপারের জন্য কোন স্থাীয় সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এলাকাবাসীর। উৎপাদিত কৃষিপন্য সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারছেন না কৃষকেরা। কোন মূমুর্ষ রোগীকে চিকিৎসা করাতে নিতে হলে এই সাঁকো পার হতে কষ্ট হয়। তাই কোনমতে চলাচলের জন্য হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট একটি ফুটব্রিজ দাবী করেছেন তিনি।

 

এ ব্যাপারে মহালছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান রতন কুমার শীল ও ক্যায়াংঘাট ইউপি চেয়ারম্যান রুপেন্দু দেওয়ান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, চেঙ্গী নদীর উপর দিয়ে ফুট ব্রিজ নির্মাণ করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এত টাকা বরাদ্দ দেয়া সম্ভব নয়। এরপরও ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। এখানে একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ফুট ব্রিজ নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ দিতে পারে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে । ’

 

 

এই বিভাগের আরো খবর