ঢাকা, রোববার   ২৪ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ৮ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সন`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের অনুরোধ করা হল। নিয়োগ পেতে কেউ অসদুপায়ে আর্থিক লেন-দেন করে থাকলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ (প্রকাশক ও সম্পাদক) দায়ী থাকবেনা।
সর্বশেষ:
খুব শিগগিরই ইলেকট্রনিক্স শিল্প গার্মেন্টসকে ওভারটেক করবে: সালমান এফ রহমান সরকারের শক্ত অবস্থানের জন্য ভারত প্রশংসা করেছেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জানুয়ারি থেকে ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে কবি শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন আজ আবারো শুরু হচ্ছে এইচএসসি’র ফরম পূরণ রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার ‘কিলিং স্কোয়াড’-এর এক সদস্য গ্রেফতার

বাগেরহাটে জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে কয়েক হাজার মৎস্য ঘের

আব্দুল্লাহ আল ইমরান, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০২০  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

                                   

বাগেরহাটে সপ্তাহ ধরে অতিবর্ষনে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বাগেরহাট জেলা শহরের প্রধান বাজার, মোরেলগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ও সড়ক ডুবে গেছে পানিতে। ভেসে গেছে কয়েক হাজার মৎস্য ঘেরের মাছ। নষ্ট হয়েছে চাষীদের সবজি ক্ষেত। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মৎস্য ও সবজি চাষীরা। অনেকের বাড়ি ঘরেও পানি উঠে গেছে। রান্নাও বন্ধ রয়েছে অনেকের। তবে সঠিক কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা জানাতে পারেননি মৎস্য ও কৃষি বিভাগ।

বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ, রামপাল, চিতলমারী, কচুয়া, ফকিরহাট, সদর উপজেলার বিপুল পরিমান মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। মাঠের ঘেরগুলো পানিতে প্লাবিত হয়ে একাকার হয়ে পড়েছে। মাছের ঘের থেকে পানির সাথে মাছ বের হয়ে বিভিন্ন নদী ও খালে চলে যাচ্ছে। এতে চাষীদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে এ অঞ্চলের মানুষের সুপারসাইক্লোন আম্পান ও জোয়ারের পানিতে চিংড়ি ও মাছের অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। এখন অতিবর্ষনে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মৎস্য ও সবজি চাষীরা চরম সঙ্কট ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন পার করছে।

কচুয়া উপজেলার গফফার ফকির বলেন, পানিতে মাছ তো গেছেই। বিভিন্ন সবজি গাছও মরে যাচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে গাছের গোরায় পানি জমে শিকর পচে গেছে প্রায়। এখন রোদ উঠলেই মারা যাবে সবজি গাছগুলো।

চিতলমারী উপজেলার ঘের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান,আমি ৫ একর জায়গা অন্যের জমি লিজ নিয়ে ঘের করি ও ঘেরের পাশে সবজি চাষ করি। যা দিয়ে আমাদের সংসার চলে। কয়েকদিন ধরে অতি বৃষ্টির কারনে আমার ঘের পানিতে ডুবে গেছে। চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে।  
মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ঘষিয়াখালী গ্রামের পলাশ শরিফ বলেন, ২২ বিঘা জমিতে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয় করে মাছ চাষ করেছিলাম। পানিতে সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। কীভাবে দেনা শোধ করব জানিনা।

কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের ইউনুস শেখ বলেন, পোনা ছাড়ার কিছুদিন পরেই আম্পানের আঘাতে পানিতে তলিয়ে যায় আমাদের ঘের। ভেসে যায় মাছ। আম্পানের পরে আবার নতুন করে শুরু করেছিলাম সব কিছু। যখন মাছ বিক্রি করব তখনই টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি আবারও ভেসে গেল আমাদের স্বপ্ন। কী করব জানি না।

এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী ও সাগরে জাল ফেলতে না পেরে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী সুন্দরবনে অবস্থান নিয়েছেন কয়েক হাজার জেলে। কেউ কেউ আবার শরণখোলায় নিজ উপজেলায়ও ফিরে এসেছে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, সমুদ্রে ঝড় হলে জেলেরা সাধারণত বনের খালে আশ্রয় নিয়ে থাকেন। অনেক জেলে আবার লোকালয়েও আশ্রয় নিয়েছে। কোনো জেলে যদি সমুদ্রে সমস্যায় পড়ে থাকে তাহলে তাদের আশ্রয় ও উদ্ধারের জন্য বন বিভাগ চেষ্টা করবে।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর বাগেরহাটর উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর জানান, সবজি মৌসুমের এখন প্রায় শেষ সময়।  এখনো বৃষ্টিতে সবজির তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। এভাবে যদি আরো ২/১ দিন ধরে বৃষ্টি হয় তাহলে সবজি ও আমনের বীজতলা সহ আগাম শীতকালিন সবজির বীজ তলার ব্যাপক ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক নারায়ন চন্দ্র মন্ডল বলেন, আমরা খবর পেয়েছি অবিরাম বৃষ্টি ও বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাগেরহাটের কোথাও কোথাও চিংড়ি ঘের ডুবে গেছে। আমরা জেলা ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের জন্য। মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য পেলে সরকারকে পরিমান জানানো হবে।  

 

এই বিভাগের আরো খবর