Berger Paint

ঢাকা, শনিবার   ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩,   মাঘ ২২ ১৪২৯

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
সৌদি আরবে এক বছরে ১৪৭ জনের মৃত্যুদণ্ড আ.লীগ জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করে : প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ বাড়ল দেড় লাখ মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা আরও ছয় মাস বাড়ল আমি বাংলাদেশে বাবার কাছে থাকতে চাই: লায়লা রিনা

বালু খুড়ে জীবিকা নির্বাহ করছে একদল অভাবী মানুষ

নাইমুর রহমান তালুকদার, শেরপুর

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৩  

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।


ভোগাই নদীতে বালু খুড়ে নুড়ি পাথর তুলে জীবিকা নির্বাহ করছে একদল অভাবী মানুষ। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী রামচন্দ্রকুড়া মন্ডলিয়া পাড়া ইউনিয়নের পানিহাটা তারানি এলাকায় পাথর তুলে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা।

 

এ অঞ্চলে বেশকিছু পাথর শ্রমিক তাদের জীবিকার তাগিদে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর ঠান্ডা পানিতে বালি গর্ত করে নুড়ি পাথর তুলেন। প্রচন্ড শীতেও জীবিকার তাগিদে তাদের বাধ্য হয়ে নামতে হয় শীতল পানিতে। সারাদিনের উত্তোলিত পাথর মহাজনের কাছে বিক্রি করে চলে সংসার। এ যেন বরফ জলে জীবিকার লড়াই।  

 

ভারত-বাংলাদেশের দুই সীমান্তের বুক চিরে প্রবাহিত ভোগাই নদীতে এখানকার শ্রমিকের জীবিকার ভান্ডার। কেউ কেউ আর্শ্বিাদও মনে করেন ভোগাই নদীকে। প্রতিদিন শত শত সিএফটি নুড়ি পাথর তোলা হচ্ছে এ নদী থেকে। ভোর সকালে বরফগলা ঠান্ডা পানিতেই শ্রমিকরা প্রতিদিন দলবেঁধে নদীতে আসে। সঙ্গে থাকে লোহার জাকলা, চালুনি ঝুড়ি ও কোদাল। দিনভর চলে পাথর উত্তোলন। সে পাথর সংগ্রহ করে নদীর কিনারে এনে সেখান থেকে নদী তীরে স্তুপ করে রাখা হয়। সারা দিনে একজন শ্রমিক গড়ে ২০-২৫ সিএফটি পাথর তুলতে পারেন। কখনো কম হয়। সন্ধ্যায় মহাজনের কাছে বিক্রি করে গড়ে হাতে পান তিনশো থেকে চারশো টাকা।

 

তারা প্রথমে নদীর বালু চড়ে গর্ত করে। সেখানে বালুমিশ্রিত পাথর প্রথমে জালিতে তুলে ও জলে ছেঁকে বালু থেকে আলাদা করে স্তুপ করে রাখে। পরে তা ট্রলিতে লোড করে স্থানীয় পাথর মহাজনদের কাছে বিক্রি করেন। এই নুড়ি পাথর স্থানীয় বাজারে সিমেন্টের খুটি, ঘরের মেঝে পাকা করতে ব্যবহার করা হয়। ভোগাইয়ের এই পাথরের সাথে মিশে গেছেন নারীরাও। তারাও খুঁজে নিয়েছেন নতুন কর্মসংস্থান। ভোর হলেই গৃহের কাজকর্ম সেরে স্বামী সন্তানদের খাইয়ে বের হয়ে যান কাজে। সারাদিন কঠোর খাটুনি শেষে এসব নারী শ্রমিকের আঁচলে আসে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার উৎস।  

 

তারানী গ্রামের মর্জিনা বেগম বলেন, ‘আমগর কোন জমি নাই, সরকারী খাস জমিতে থাহি। স্বামী কামাল হোসেনরে নিয়া সারাদিন নুড়ি পাত্তর তুলি। এই দিয়ে আমগর সংসার চলে কোনো মতে। এর মধ্যে দুইডা সন্তান তাদেরও পড়া লেহার খরচ করুন লাগে। বড় ছেলেডা নাইনে ও মেয়েডা সিক্সে পড়ালেহা করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভাই এই ভোগাই নদীডাই আমাগরে বাঁচাই রাখছে। পানিখানা বরফের মতো ঠান্ডা ভাই। কাম না করলে খামু কী।’

 

তারানী গ্রামের ইব্রাহিম খলিল নামের আরেক শ্রমিক জানান, ঘরে স্ত্রীসহ পাঁচ ছেলেমেয়ে। বড় মেয়ে ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের কাজ করে। সন্তানের পড়া-লেখা ও ভরণপোষণ চলে এই পাথর জীবিকার ওপর। দিনভর দলের সঙ্গে ঠান্ডা পানিতে পাথর তুলে তা বিক্রি করে পরিবারের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করেন। এত ঠান্ডা পানিতে কাজ করছেন, অসুখ হয় না? প্রশ্ন করলে মনির নামের আরেক শ্রমিক জানান, ‘হ্যাঁ ভাই, সর্দি-জ্বর তো হয়ই। কয়দিন জ্বরে পড়ে ছিলাম। কাজ না করে উপায় নাই।’

এই বিভাগের আরো খবর