ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৬ অক্টোবর ২০২১,   কার্তিক ১০ ১৪২৮

ব্রেকিং:
দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন ভার্সন`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের অনুরোধ করা হল। নিয়োগ পেতে কেউ অসদুপায়ে আর্থিক লেন-দেন করে থাকলে তার জন্য কর্তৃপক্ষ (প্রকাশক ও সম্পাদক) দায়ী থাকবেনা।
সর্বশেষ:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ত্যাগীদের নাম পাঠানোর নির্দেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিও লেটার জালিয়াতি, সতর্কতা জারি সাহেদকে জামিন দিতে হাইকোর্টের রুল আফগানিস্তান সীমান্তে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তালেবানের হুঁশিয়ারি সুদানের প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লাহ হামদক গৃহবন্দি বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়: তথ্যমন্ত্রী

‘বিজ্ঞান দিয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া, নিয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আবেগ’

লুৎফর রহমান লাভলু

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২১  

লুৎফর রহমান লাভলু, ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

লুৎফর রহমান লাভলু, ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

বিজ্ঞানের কল্যাণে সভ্যতার বিকাশ এবং বিজ্ঞানের অভাবনীয় অবদানের অনন্য উন্নয়ন এ তথ্য ও প্রযুক্তি । যার কল্যাণে বিশ্বব্যাপী সুফল ভোগ করছে মানুষ। তথ্য ও প্রযুক্তির এই অনবদ্ধ অবদানে মুহূর্তেই সবকাজ অনায়াসে করে ফেলছে মানুষ। আমাদের চারপাশে যত আধুনিকতার ছোঁয়া দৃষ্টিগোচর হয় সবটুকুই বিজ্ঞানের দান। সকালে ঘুম থেকে উঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া, এবং সকল কাজে আমরা বিজ্ঞানের উপকরণ ব্যবহার করছি। আজকাল রান্নাবান্না, খাবার, ঘর থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবনে সকলক্ষেত্রে আমরা বিজ্ঞানের ফল ভোগ করছি। তাই আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি বিজ্ঞান মানব সভ্যতায় দিয়েছে বহুগুণ আধুনিকতার ছোঁয়া।

 

পাশাপাশি বিজ্ঞান কেড়ে নিয়েছে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও আবেগ। তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের ফলে আজ হারিয়ে গেছে প্রকৃতির চীরচেনা রূপ ও দৃশ্য যা আর দেখা যায়নানা। হারিয়ে গেছে কৃষকের ঐতিহ্য, হারিয়ে গেছে কোকিলের গান, নেই গ্রাম বাংলার সেই ঐতিহ্যগুলো। বিজ্ঞানের প্রসারের ফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে দেখা যায়না কৃষকের গরুরগাড়ি,ঘোড়ারগাড়ি, লাঙ্গল চাষ, দেখা যায়না কৃষাণের রৌদ্দে বসে মাঠে খাবার খাওয়ার দৃশ্য। আজ বিদ্যুৎ, গাড়ি, যন্ত্রপাতি, ট্রাক্টর, সেচমটরের আবিষ্কারে সেই গ্রামীণ ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে গেছে। নেই মাঝি ভাই, কৃষাণ, জেলে ও গাড়িয়াল ভাইদের বাঁশির সুর,ভাটিয়ালী, জারি, সারী,  ময়মনসিংহের গীতিকবিতা ও গ্রামীণ লোকসংগীত।

 

বর্তমানে আমরা আধুনিক পপ মিউজিক ও পাশ্চাত্যে কৃষ্টিকালচারে অভ্যস্ত হয়ে বাঙ্গালীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছি। নেই সেই চিঠি লিখার মজাগুলো যখন ছিলনা মোবাইল ফোন,ইন্টারনেট, ছিলনা ফেসবুক,ম্যাসেঞ্জার, সোশ্যাল মিডিয়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থার এতো প্রচার প্রসার।একটি চিঠি লিখে চিঠির উত্তরের অপেক্ষায় প্রহরগুনা কবে ডাকপিয়ন নিয়ে আসবে চিঠি আবেগগুলো আর নেই। আজ ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার, গুগল, ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদি ফলে আমরা মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো খবরাখবর যেকোনো স্থানে বসে পেয়ে যায়। কোন কারণে গ্রাম থেকে শহরে গেলে হঠাৎ কোনদিন চলে আসা পরিবারের সকলের মাঝে জেগে উঠা ভালোবাসা আজ হারিয়ে গেছে। এখন আসি স্কুল, কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের গল্পে।আগেকার দিনে ছুটির দিনে সকল বন্ধুরা মিলে একত্রে ঘুরতে যাওয়া, একসাথে গল্প করা,দুষ্টামি করা আর দেখা যায়না।হয়ে উঠেনা একত্রে বসে চায়ের দোকানে বসে আড্ডাবাজি আর গানের আসরগুলা।আজকাল আমরা বন্ধুরা একত্র হলেও সেই খোলা আকাশের নিচে বসে প্রাণোচ্ছলভাবে কথাবলি না।সবাই ব্যস্ত থাকি মোবাইল ফোন,নেটভিত্তিক কৃত্রিম  প্রযুক্তির আনন্দে। শেষে দুই একটা সেল্ফি উঠে শেষকরি বন্ধুদের সেই আড্ডাটা।

 

জ্ঞানের প্রসারতার ফলে হারিয়ে গেছে সেই বাল্যকালের খেলাধুলা গুলিও।কানামাছি, দারিয়াবান্দা,বউচুর, হা-ডু-ডু,মারবেল,লাটিম ইত্যাদি খেলাগুলো আজ হারিয়ে গেছে পক্ষান্তরে ছেলেমেয়েরা ব্যস্ত নেটভিত্তিক অনলাইন গেমস খেলায় যেমন : ফ্রি ফায়ার,পাজবি,লুডু, কম্পিউটারের ইত্যাদি গেমসে।খাবারেও নেই সেই অপরূপ দৃশ্য নেই ঢেকিছাটা চাউলের ভাত, নেই সেই বিলের ছোট, বড় মাছগুলো।আজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতিতে আমরা মিল থেকে চাউলের ভাঙ্গি ও কৃত্রিমভাবে মাছচাষ করে চাহিদাপূরণ করছি যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কারণ বর্তমানে সব কিছুতেই কিটনাশক, ফরমালিন ও মেডিসিন ব্যবহার করা হয়। একসময় আমাদের বলা হতো 'ভাতে মাছে বাঙ্গালি' কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ আমরা ফাস্ট ফুড ও জাঙ্কফুডে অভ্যস্ত। হারিয়ে গেছে আজ গ্রাম বাংলার পিঠা উৎসব। গ্রীষ্ম, বর্ষা,শীত সব ঋতুতে কমবেশি পিঠা বানানোর উৎসব চলতো কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন পিঠা কিনতে পাওয়া যায় ফলে আর দেখা যায়না পিঠা উৎসব।

 

কৃষ্টি, কালচার, সংস্কৃতিতেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যেখানে বাঙ্গালীরা একসাগর রক্তের বিনিময়ে এনেছে স্বাধীনতা। ছাত্রদের তাজা রক্তে এসেছে মাতৃভাষা। সেই ভাষার নেই যথাযথ প্রয়োগ আজ আমরা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ছেড়ে গ্রহণ করছি ইংরেজি সাহিত্য ও পাশ্চাত্য কালচার। যা এক প্রকার আধুনিকতার নামে বেয়াহাপনার ছাড়া কিছু নয়। বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের ফলে তাই সকাল থেকে রাত,ঘর থেকে রাষ্ট্রে এসেছে পরিবর্তন লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ঠিক তেমনি হারিয়ে গেছে শুধু গ্রামীণ ইতিহাস,ঐতিহ্য, আবেগ,স্নেহ, ভালোবাসা আর ভালোলাগা। আগেকার দিনে কোন বিপদে পড়লে সবাই এগিয়ে গিয়ে সাহায্য করতো আর বর্তমানে মানুষ তা না করে বরং ফোনে ছবি,ভিডিও করে ইচ্ছামতো মন্তব্য করে ভাইরাল করে সোশ্যাল মিডিয়াতে। যার অন্যতম কারণ আজ আমরা হারিয়ে ফেলেছি আমাদের আবেগ,ভালোবাসা ও মনুষ্যত্ব।

 

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমরা পরিণত হয়েছি এক যন্ত্রমানবে। উপরের আলোচনা আর বর্তমানের চরম বাস্তবতার আলোকে বলা যায় বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি দিয়েছে আধুনিকতা কেড়ে নিয়েছে আমাদের আবেগ। পরিশেষে বলতে হয়, বিশ্বায়নের এযুগে যেহুতু উন্নত বিশ্বের সাথে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তবে তথ্য প্রযুক্তির ভার্চুয়াল জগত ছাড়াও যে আমাদের আছে এক বাস্তব সুন্দর, পরিচ্ছদ জীবন সেজীবনে আমাদের ফিরে গিয়ে বাঙ্গালীর নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টিতে জীবনযাপন করতে হবে।তথ্য ও প্রযুক্তির যুগেও বাঙ্গালীর নিজস্ব স্বকীয়তা ইতিহাস ও ঐতিহ্য বেঁচে থাক হাজার বছর জুড়ে।

 

শিক্ষার্থী ও লেখক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।
অনার্স ২য় বর্ষ,ঢাকা কলেজ,ঢাকা।

এই বিভাগের আরো খবর