Berger Paint

ঢাকা, বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২১ ১৪২৭

ব্রেকিং:
হত্যার দায় সিনহা ও সিফাতের ওপর চাপিয়েছে পুলিশ ইতালিতে প্রবেশের অপেক্ষায় হাজারও বাংলাদেশি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আভাস বিশ্বে করোনায় মৃত ৬ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি একদিনে পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ১১ শিশুর
সর্বশেষ:
তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে : আবহাওয়া অধিদপ্তর কুমিল্লার সাবেক এমপি এটিএম আলমগীরের ইন্তেকাল এবার সীমান্ত ঘেঁষে হেলিপ্যাডের কাজ শুরু করল নেপাল, আরও চাপে ভারত রাজধানীতে ঢুকছে বন্যার পানি, অনেক এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

বিস্মিত হাইকোর্ট : ১ সাংবাদিককে ধরতে ৪০ জনের বাহিনী!

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২০  

পঠিত: ২৫১
ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

 

কুড়িগ্রামের বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাড়িতে গভীর রাতে টাস্কফোর্সের অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কে পরিচালনা করেছেন তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে দায়ের করা রিটের আংশিক শুনানিতে আজ রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রশিদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

আদালত রিটের শুনানিতে বলেন, ‘মধ্যরাতে মাত্র ১ জন সাংবাদিককে ধরতে তার বাসায় ৪০ জনের বিশাল বাহিনীর কেন প্রয়োজন,  তিনি কি দেশের সেরা সন্ত্রাসী? প্রশ্ন আদালতের।

সেই সাথে মধ্যরাতে কেন অভিযান পরিচালনা? তার কারণসহ রাষ্ট্রপক্ষের কাছে পাঁচটি বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।  

রাষ্ট্রপক্ষের কাছে যে বিষয়গুলো হাইকোর্ট চেয়েছেন তা হলো- সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে দেওয়া সাজা ও দণ্ডের আদেশের অনুলিপি, অভিযান কারা পরিচালনা করেছে মোবাইল কোর্ট নাকি টাস্কফোর্স, রাতে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আইন অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, অভিযান পরিচালনার কারণ এবং আইন অনুসারে ঘটনা কার সম্মুখে কখন সংঘটিত হলো তা জানাতে।

এ বিষয়গুলো নিয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য সোমবার আদালতকে জানাবেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য।

আজ রোববার সকালে বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ জনস্বার্থে  হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।

আবেদনে টাস্কফোর্সের নামে আরিফুল ইসলামকে অবৈধ সাজা ও আটক করা কেন সংবিধান পরিপন্থি হবে না, আরিফুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া কুড়িগ্রামের ডিসি, সিনিয়র সহকারী কমিশনার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তাদের ভূমিকার ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য তলবের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরিফের বিরুদ্ধে করা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলার নথি এবং টাস্কফোর্স পরিচালনার নথি তলব করা হয়েছে।

অন্যদিকে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে ২৫ হাজার টাকায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা রোববার তাকে জামিন দেন। তবে সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ ওই জামিন আবেদন করেননি বলে জানা গেছে।

গভীররাতে কুড়িগ্রামে সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও।

সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শুক্রবার গভীররাতে জেলা প্রশাসনের লোকজন তার বাড়িতে গিয়ে প্রথমে দরজা ভাঙেন তারপর ভেতরে ঢুকেন। পরে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে বাড়িতে ‘আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা’ পাওয়ার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফের সহকর্মী ও পরিবারের দাবি, একটি পুকুর সংস্কার নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন করায় জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ফাঁসানোর জন্য এ পরিস্থিতি তৈরী করেছেন। জানাগেছে, এরই মধ্যে এই জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এই বিভাগের আরো খবর