Berger Paint

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ১৮ ১৪২৭

ব্রেকিং:
বন্যা মধ্যাঞ্চলেও ছড়াল বন্যা, ১৫ জেলায় দুর্ভোগ লকডাউনের নিয়ম ভঙ্গ করে সমালোচিত হওয়ার পর নিউ জিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেভিড ক্লার্ক পদত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৫২ হাজার করোনায় আক্রান্ত
সর্বশেষ:
আজ দেশের অর্ধেক অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টি, ১ নম্বর সতর্কতা হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের ঢামেক করোনা ইউনিটে দু’দিনে আরো ১৬ জনের মৃত্যু

বৃদ্ধা মাকে স্টেশনে রেখে উধাও পাষান্ড স্বজন

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২০  

পঠিত: ২৬১
ছবি- ইউএনবি

ছবি- ইউএনবি

 

মানবিক বিপর্যয় দিন দিন বাড়ছে। হাড় কাঁপানো এই শীতের মধ্যে বৃদ্ধাকে রেল স্টেশনে রেখে পালিয়েছে তাঁর স্বজনেরা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ১৪ দিন থাকার পর গত রোববার রাতে ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে কিছুটা সুস্থ হলেও তার শারীরিক অবস্থার শঙ্কা এখনো কাটেনি বলেছেন চিকিৎসকেরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং সেবা প্রদানকারী 'রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে'র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ইউএনবিকে বলেন, ‘সেদিন স্টেশনে আমি দোকানে বসে বেচা-বিক্রি করতেছিলাম হঠাৎ দেখি কয়েজন লোক রিকশা ভ্যানে করে বৃদ্ধ মহিলাকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের একটি জায়গায় নামিয়ে দিল। কৌতূহলী হয়ে আমি তাঁদের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টি শেষ হওয়ার দীর্ঘক্ষণ পরও তারা ফিরে না আসায় আমি স্টেশনের তেঁতুল গাছের নিচে পরিত্যক্ত জায়গাটিতে খড় বিছিয়ে দেই। এরপর পুরাতন কম্বল দিয়ে বিছানা তৈরি করে তাঁকে সেখানে রাখি। আমি গরিব মানুষ তারপরও এই কয়দিন তাঁকে যথাসাধ্য সেবাযত্ন করার চেষ্টা করেছি। এভাবে গত দুই সপ্তাহ তিনি এখানেই ছিলেন।

দুই সপ্তাহ পর বিষয়টি জানাজানির পর স্থানীয় প্রশাসন বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তবে,  এমন অমানবিক ঘটনার খবরে বৃদ্ধা মায়ের সেবা-যত্নে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, চিকিৎসকসহ স্থানীয় জনপ্রশাসন এগিয়ে এসেছেন।

রহনপুর পৌর মেয়র তারেক আহমেদ বলেন, ঘটনাটি খুবই অমানবিক। রাতে বিষয়টি শোনার পরই হাসপাতালে ছুটে এসেছি। তিনি আমার মায়ের মতোই, তাই তাকে ফেলে যেতে পারিনি। যত দিন এই অসহায় বৃদ্ধ মায়ের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া যাচ্ছে তত দিন পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সন্তানের মতোই তার পাশে থাকব।’

রহনপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে মালতি বেগম নামের এক নারীকে ওই বৃদ্ধাকে দেখভালের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে মালতি বেগম বৃদ্ধাকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছেন।

মালতি বেগম জানান, বৃদ্ধা মা যখনি চেতনা ফিরে পাচ্ছেন তখনই স্বজনদের প্রতি একরাশ ঘৃণা প্রকাশ করছেন। হাতের ইশারায় দূরে সরে যেতে বলছেন।

এই বিভাগের আরো খবর