Berger Paint

ঢাকা, শুক্রবার   ৩০ অক্টোবর ২০২০,   কার্তিক ১৪ ১৪২৭

ব্রেকিং:
রপ্তানিকারকদের জন্য সুখবর; কমল সুদের হার ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে ফের বাড়লো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি সংক্রমণ বাড়ায় ফের লকডাউনের মুখোমুখি জার্মানি ফের লকডাউন ফ্রান্সে চীনের তৈরী ভ্যাকসিন পেয়েছে ইসরায়েল
সর্বশেষ:
যুগপুর্তিতে ৪৫০ কিমি মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত টাইফুন ‘মোলাভি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড ভিয়েতনাম, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ ফরাসি ম্যাগাজিন শার্লি হেবদোর বিরুদ্ধে মামলা করলেন এরদোগান বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত ৪ কোটি ৪৪ লাখ ছাড়াল মেসি-দেম্বেলের গোলে জুভেন্টাসকে হারালো বার্সা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০’ প্রদান আজ

বেশিক্ষণ মাস্ক ব্যবহারে শরীরে ঢুকতে পারে বিষাক্ত গ্যাস

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মে ২০২০  

পঠিত: ৩৫৬
ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

ফেস মাস্ক (মুখোশ) এক নাগাড়ে বেশীক্ষণ ব্যবহারে শ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করতে পারে কার্বন-ডাই অক্সাইড। এছাড়া দীর্ঘ সময় এই মাস্ক ব্যবহারে হতে পারে জীবাণু সংক্রমণের নিরাপদ স্থান। কারণ দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে মাস্ক আর্দ্র হয়ে যাওয়ার ফলে অন্যান্য জীবাণু জন্ম নিয়ে তা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ভেতরে চলে যায়। এতে ব্যবহারকারী নতুন সংক্রমণের শিকার হতে পারেন। এ ছাড়া দুর্গন্ধও হতে পারে।

 

এজন্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি সময় ধরে মাস্ক ব্যবহার না করে খুলে রেখে সতেজ বায়ু গ্রহণ করে পুনরায় ব্যবহার করা উচিত। তাছাড়া ব্যবহৃত মাস্কটি বারবার পরা উচিত নয়। যদি এ মাস্ক ছাড়া আর কোন মাস্ক না থাকে সেক্ষেত্রে ভাল করে সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে অথবা করা রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: আবুল কালাম আজাদ তিন স্তরের কাপড়ের মাস্ক তৈরি করে ধুয়ে ব্যবহার করতে বলেন। তার মতে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, থুতু, সর্দি থেকে আসা ড্রপলেট থেকে সুরক্ষা পেতে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার অপরিহার্য। মুখে যদি পরিহিত মাস্ক থাকে সেক্ষেত্রে অন্যের সর্দি থেকে আসা ড্রপলেট সরাসরি অন্যের নাকে-মুখে প্রবেশ করতে পারে না। সে কারণে মহামারী করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে এ সময়ে বাইরে গেলে মানুষকে বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’। আবার এই মাস্ক মানুষের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে তাই বেশিক্ষণ মাস্ক ব্যবহার না করে হাইপোক্সিয়ায় (টিস্যুতে অক্সিজেনের অভাব) নামক সমস্যা থেকে দুরে থাকতে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা।

তিনি জানান, অনেকক্ষণ মাস্ক ব্যবহার করলে মানুষ স্বাভাবিক বায়ু নাক দিয়ে টেনে নিতে পারে না। শ্বাসটাও মাস্কের ভেতর দিয়ে নিতে হয়, আবার মাস্কের একই স্থানে নিঃশ্বাস ছাড়তে হয়। ফলে এক সময় কার্বন-ডাই অক্সাইড মাস্কের মধ্যে জমা হতে থাকে। কারণ কার্বন-ডাই অক্সাইড অপেক্ষাকৃত ভারী গ্যাস। এটি সরাতে না পারলে শ্বাসের সাথে মাস্ক ব্যবহারকারী শরীরে কার্বন-ডাই অক্সাইড নিয়ে নেয় অক্সিজেনের সাথে। দেহের ভেতর বেশি পরিমাণে কার্বন-ডাই অক্সাইড গেলে মাথা ঘোরাতে পারে, মাস্ক ব্যবহারকারী হতবিহ্বল অবস্থায় পড়তে পারেন। অনেক সময় বোধশূন্যও হয়ে যেতে পারেন কিংবা অবসাদগ্রস্ততা দেখা দিতে পারে।

জনস্বাস্থ্যের অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা গেলে গ্লুকোজ ভেঙে যেতে পারেে এবং তাতে বৃদ্ধি পেতে পারে বিপজ্জনক ল্যাকটিক অ্যাসিড। আবার মাস্ক পরা অবস্থায় গাড়ি চালালে প্রয়োজনের তুলনায় অক্সিজেনের অভাবে ড্রাইভার সাময়িক অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে এমনকি দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারে। 

মাস্ক ব্যবহারের কিছু নিয়মাবলী রয়েছে। যখন ব্যবহারকারীকে কারো খুব কাছাকাছি গিয়ে অবস্থান করতে হয় অথবা কেউ খুব কাছে চলে আসার আশঙ্কা থাকলে মাস্ক ব্যবহার করতে হয়। মাস্ক পরার সঠিক নয়েম হলো প্রতি ১০ মিনিট অন্তর এটি খুলে সতেজ বায়ুতে শ্বাস নেয়া তবে কাছাকাছি কেউ থাকলে সেটা করা উচিত নয়। এটা করতে চাইলে অবশ্যই কিছুটা সরে গিয়ে মাস্কটি খুলে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে আবার প্রয়োজনে অন্যদের কাছাকাছি যাওয়া হবে সঠিক পন্থা। খেয়াল রাখতে হবে করোনা প্রতিরোধ করতে গিয়ে মাস্ক ব্যবহারে অনিয়ম করে অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে যাওয়া প্রত্যাশিত হয় না।