ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮

ব্রেকিং:
বাসায় হবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিল্লিতে সাত দিনের কারফিউ জারির ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
সর্বশেষ:
এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি নিলে তা ফেরতের নির্দেশ, কমিটি বাতিলের হুঁশিয়ারি মাঝ রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আসছেন করোনা রোগীরা করোনায় ২৫ প্রশাসন কর্মকর্তার মৃত্যু

ভারতের প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২১  

ছবি- সংগৃহীত।

ছবি- সংগৃহীত।

 

ধর্ষণ নিয়ে বিরুপ মন্তব্যের অভিযোগে ভারতের সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবি ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি শারদ বোবড়েকে লেখা একটি ‘খোলা চিঠিতে’ পাঁচ হাজারের ওপর নারীবাদী, নারী অধিকারকর্মী ও নাগরিকরা তাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি বোবড়ের মন্তব্যে তারা ‘ক্রুদ্ধ’ ও তার বিবৃতি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

 

ভারতের প্রধান বিচারপতি আদালতে ধর্ষককে দু’টি ‘ন্যক্কারজনক’ প্রশ্ন করেছিলেন। প্রথমটি: ‘আপনি কি ওই মেয়েকে বিয়ে করবেন?’

 

তিনজন বিচারকের একটি বেঞ্চের প্রধান হিসেবে বিচারপতি শারদ বোবড়ে এই প্রশ্ন করেছেন ২৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে, যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিকে তিনি আরো বলেছেন, ‘আপনি যদি ওই মেয়েকে বিয়ে করতে চান, আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পারি। না চাইলে আপনি চাকরি হারাবেন ও জেলে যাবেন।’

 

তার এই মন্তব্য নিয়ে ভারতজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগকারী নারী, ২০১৪ থেকে ১৫ সালের মধ্যে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের ঘটনার যেসব ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনেছেন, সেসময় তার বয়স ছিল ১৬। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার দূর সম্পর্কের আত্মীয়।

 

প্রধান বিচারপতি বোবড়েকে লেখা ওই চিঠির বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মেয়েটির পিছু নিয়ে তাকে হয়রানি করে। তাকে বেঁধে রাখে। চিৎকার যাতে করতে না পারে এ জন্য তার মুখ কাপড় গুঁজে বন্ধ করে রাখে। এরপর অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই স্কুলছাত্রীকে বারবার ধর্ষণ করে ও পেট্রল ঢেলে তার গায়ে আগুন দেবার ও তার ভাইকে খুন করার হুমকি দেয়‘।

 

মেয়েটির পরিবার আরো অভিযোগ করেছে যে তারা পুলিশে খবর না দেবার ব্যাপারে সম্মতি দেয়। কারণ অভিযুক্তের মা তাদের বলেছিল যে মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর ছেলেটির সাথে তারা মেয়েটির বিয়ে দেবে।

 

ভারতে ধর্ষণের ঘটনার জন্য প্রায়ই ধর্ষিতাকে দায়ী করা হয়ে থাকে এবং এ ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনাকে একটা মেয়ের জন্য সারা জীবনের কলঙ্ক হিসেবে দেখা হয়। ফলে মেয়েটির পরিবার ছেলেটির মায়ের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল। কিন্তু অভিযুক্ত পরে সেই প্রতিশ্রুতি মানতে অস্বীকার করে আরেকজনকে বিয়ে করার পর ধর্ষণের শিকার মেয়েটি পুলিশের কাছে যায়।

 

আরো পড়ুন: ফেঁসে যাচ্ছেন নাসিরের স্ত্রী তামিমা!

 

অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যে সরকারি কর্মচারী। গ্রেফতার হলে তিনি চাকরি হারাবেন এই মর্মে নিম্ন আদালতে আবেদন জানালে তাকে জামিন দেয়া হয়। কিন্তু মুম্বাই হাইকোর্ট এই নির্দেশকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে তার জামিন বাতিল করে।

 

এই বিভাগের আরো খবর