ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬

ব্রেকিং:
৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ শাহাদাত কাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাক-কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের কর্মবিরতি
সর্বশেষ:
দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী শেষ টেস্ট খেলতে কলকাতার পথে টাইগাররা, মূল চ্যালেঞ্জ বোলারদের মনে করেন পেসার আল-আমিন হোসেন পেঁয়াজের পর চালের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে : নাসিম পদ্মা সেতুতে বসেছে ১৬তম স্প্যান

ভারতে নারীরা চাকুরী হারাচ্ছে

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ৫ জুলাই ২০১৮

পঠিত: ২৪

ভারতে নারীদের  ছুটি বাড়ার সাথে সাথে, তাদের চাকরি হারানোর ঝুঁকিটাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।ভারতীয় নারী আইনে তাদের  মাতৃত্বকালীন ছুটি ৩ মাস থেকে ৬ মাস করা হয় কিন্ত,টিমলিজ সার্ভিসেস নামক সংস্থার সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, এই নতুন আইন চালু হওয়ার পর মেয়েদের চাকরি দিতে অনেক কোম্পানিই দ্বিধায় ভুগছে।যার কারনে এ বছরের শেষ নাগাদ ১৮ লক্ষ নারী চাকরি হারাতে পারেন।

তবে যাই হোক,বহু কর্মরত মায়েরা মনে করছেন, ছ'মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি অনেক লড়াইয়ের পর অর্জিত একটি অধিকার, কোনও যুক্তিতেই তা কমানোর চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।কিন্তু এই আইন চালু হওয়ার ফলে বহু সেক্টরেই মেয়েদের চাকরির সুযোগ সঙ্কুচিত হচ্ছে, বলছিলেন টিমলিজ সার্ভিসেসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ঋতুপর্ণা চক্রবর্তী।

তিনি জানান, টিমলিজের জরিপ বলছে এভিয়েশন, শিক্ষা, রিটেল, ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক খাত, রিয়েল এস্টেট বা ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো অনেক খাতেই দেখা যাচ্ছে কোম্পানিগুলি বাড়তি খরচের কথা ভেবে উদ্বিগ্ন। আর মেয়েদের নিয়োগ করার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ছে।

তবে মায়েদের জন্য এই ছ’মাসের ছুটি যে খুবই ইতিবাচক ফল দিচ্ছে - টিমলিজ সে কথাও মানছে।

ভারতে মাতৃত্বকালীন ছুটি যখন মাত্র তিন মাসের ছিল, সে সময় মা-হওয়ার পর কর্পোরেট সংস্থার উঁচু পদের চাকরি ছাড়তে হয়েছিল নেহা চোপড়াকে। তিনি মনে করেন, তখন ৬ মাসের মেটার্নিটি লিভ থাকলে তার কেরিয়ার হয়তো অন্যরকম হত।

তিনি বলেন, ‘আমি তিন মাসের ওই ছুটি নিইনি, কারণ আমার জন্য ওটা যথেষ্ট হত না। আমার শিশুকে আমি বুকের দুধ খাওয়াতে চেয়েছিলাম, লম্বা ছুটি পেলে অবসাদের সঙ্গে যুদ্ধ করাটাও অনেক সহজ হত। ফলে আমি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম। তবে আমি পাশাপাশি এটাও বিশ্বাস করি শুধু মা নন, এই লম্বা ছুটিটা যদি বাবা-মার দুজনের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়া যেত, সেটা আরও অনেক ভাল হত।’

এদিকে ভারতের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিটু-র সাধারণ সম্পাদক তপন সেন মনে করছেন, জরিপের আড়ালে আসলে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে কাটছাঁট করার একটা কর্পোরেট ষড়যন্ত্র চলছে।

তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, এই সব কোম্পানিগুলোর লাভ করার যেন একটাই রাস্তা, মেয়েদের মেটারনিটি বেনিফিট তুলে দেওয়া। টিমলিজের মতো কোম্পানিগুলো কর্পোরেটের দালাল হিসেবে কাজ করে, তারা তো এই ধরনের যুক্তিই দেবে!

কিন্তু আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার অনেক লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে অর্জিত - এর সঙ্গে কোনও আপস চলবে না। এই বেনিফিট থাকলে মেয়েদের রিক্রুট করা যাবে না, কোনও সভ্য সমাজ কি এই যুক্তি দিতে পারে না কি?

অ্যাক্টিভিস্ট ইন্দ্রানী মালকানিও মনে করেন, এত লম্বা মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য ভারতের কর্পোরেট জগত হয়তো এখনও প্রস্তুত নয় ।কিন্তু তাহলেও কিছু করার নেই।