Berger Paint

ঢাকা, শনিবার   ০৩ জুন ২০২৩,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪৩০

ব্রেকিং:
চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, নারায়ানগঞ্জ, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ ব্যুরো / জেলা প্রতিনিধি`র জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন পাঠানোর আহ্বান করা হচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা- স্নাতক, অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল যোগ্য। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার `প্রিন্ট এবং অনলাইন পোর্টাল`-এ প্রতিনিধি নিয়োগ পেতে অথবা `যেকোন বিষয়ে` আর্থিক লেনদেন না করার জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের এবং প্রতিনিধিদের অনুরোধ করা হল।
সর্বশেষ:
রাজধানীতে বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা কানাডা প্রবাসী নারীর মরদেহ উদ্ধার পে-স্কেল না হলেও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এরদোয়ানের ফোন বিএনপি নেতা খায়রুল কবিরের বাড়িতে আগুন নাইজেরিয়ার কাছে হেরে বিদায় স্বাগতিক আর্জেন্টিনার বিদ্যুতের ঘাটতি ৩০০০ মেগাওয়াট, সারা দেশে লোডশেডিং

ভূমিকম্পের কারণ ও বিপর্যয় থেকে আমাদের সচেতন ও সতর্ক হতে হবে

মো. জিল্লুর রহমান

প্রকাশিত: ৬ মে ২০২৩  

মো. জিল্লুর রহমান। ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি

মো. জিল্লুর রহমান। ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি


বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (৫ মে ২০২৩) ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৩ এবং এটির উপকেন্দ্র ছিল ঢাকার দোহার থেকে ১৪.২ কিলোমিটার পূর্ব দক্ষিণ-পূর্বে এবং আজিমপুর থেকে ২৩.৪ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে। তাছাড়া, এটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ দশমিক কিলোমিটার গভীরে।

 

সাম্প্রতিককালে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তুরস্কের ৭.৮ মাত্রার শক্তিমালী ভূমিকম্পের কথা আমাদের অনেকেরই স্মরণে আছে। এটি তুরস্ক ও সিরিয়ায় রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে গেছে। মাত্র এক মিনিটের ভূকম্পন! মুহূর্তে লন্ডভন্ড তুরস্কের গাজিয়ানতেপ শহর। ভূমিকম্প নয় যেন মৃত্যুপুরী এবং চারদিকে হাজারও মানুষের আর্তনাদ! সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ার সীমান্ত শহরগুলোও। তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে আঘাত হানা ‘শতাব্দীর ভয়াবহতম’ এ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। কেবল তুরস্কেই মারা গেছেন ৪৪ হাজারের বেশি, সিরিয়ায় প্রায় ছয় হাজার প্রাণহানি হয়েছে। জানা যায়, গত ৪৮৫ বছরে বাংলাদেশের ভেতরে ও ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৫২টি মৃদু, মাঝারি ও তীব্র মাত্রায় ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে মাত্র ছয়টি ভূমিকম্প হয়েছিল ঢাকা ও এর আশপাশে। শুধু গত এক যুগেই ঢাকার আশপাশে মোট আটটি ভূমিকম্প হয়েছে। এসব ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী ও দোহারে। বাংলাদেশে বড় ধরনের মারাত্মক ভূমিকম্প আঘাত না হানলেও ভূতত্ত্ববিদরা সর্বসাম্প্রতিক মৃদু ও মাঝারি ভূমিকম্প থেকে ভবিষ্যতে বৃহৎ ও শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণ ও এর বিপর্যয় সম্পর্কে বারবার সতর্ক ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

 

পৃথিবীর অভ্যন্তরে ভূ-আন্দোলনের ফলে উৎপন্ন আকস্মিক শক্তি গুলির মধ্যে অন্যতম হল ভূমিকম্প। এটি এমন একটি প্রাকৃতিক ঘটনা যা পৃথিবীর আকস্মিক কম্পন হিসাবে নিজেকে প্রকাশ করে যা মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এটি পৃথিবীর ভূত্বকের গভীরে ব্যাঘাতের ফলে বা ভূত্বকের মধ্যে গোলযোগের ফলে ঘটে। ভূমিকম্প প্রায়ই পৃথিবীর গভীরে ঘটলেও ভূপৃষ্ঠ থেকে দেখা যায় না। যে কোনো মুহূর্তে পৃথিবীর পৃষ্ঠে বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটতে পারে এবং সেগুলো বিধ্বংসী হতে পারে। ভূমিকম্পের ফলে ভূমিরূপের পরিবর্তন সাধিত হয়, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয় ও মানুষের প্রাণহানী ঘটে। আসলে সারা পৃথিবীব্যাপী প্রতিদিনই প্রায় অসংখ্য ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে থাকে, যার মধ্যে আমরা সামান্য কিছু অনুধাবন করতে সক্ষম হই।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ৮টি ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি এলাকা বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে, এগুলো হলো বগুড়া চ্যুতি এলাকা, রাজশাহীর তানোর চ্যুতি এলাকা, ত্রিপুরা চ্যুতি এলাকা, সীতাকুণ্ড টেকনাফ চ্যুতি এলাকা, হালুয়াঘাট চ্যুতির ডাওকী চ্যুতি এলাকা, ডুবরি চ্যুতি এলাকা, চট্টগ্রাম চ্যুতি এলাকা, সিলেটের শাহজীবাজার চ্যুতি এলাকা (আংশিক-ডাওকি চ্যুতি) এবং রাঙামাটির বরকলে রাঙামাটি চ্যুতি এলাকা। এছাড়া, বাংলাদেশ, ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মার (মায়ানমারের) টেকটনিক প্লেটের মধ্যে অবস্থান করছে। ১৯১৮ সালে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয় এবং ২০০৭ সালের নভেম্বরে ৬.০ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এমনকি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানমন্দিরে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের মে পর্যন্ত ৪ বছরে রিখটার স্কেলে ৪ মাত্রার ৮৬টি ভূ-কম্পন নথিভুক্ত করা হয় এবং একই সময়ের মধ্যে ৫ মাত্রার চারটি ভূ-কম্পনও ধরা পড়ে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানমন্দিরে ২০০৭ সালের মে থেকে ২০০৮ সালের জুলাই পর্যন্ত কমপক্ষে ৯০টি ভূ-কম্পন নথিভুক্ত করা হয়, তন্মধ্যে ৯টিরই রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিলো ৫-এর উপরে এবং সেগুলোর ৯৫% এরই উৎপত্তিস্থল ছিলো ঢাকা শহরের ৬০০ কিলোমিটারের মধ্যে। অতীতের এসব রেকর্ড থেকে দেখা যায় ভূমিকম্পের মাত্রা না বাড়লেও ১৯৬০ সালের পর থেকে ভূমিকম্প সংঘটনের হার বেড়েছে, অর্থাৎ ঘন ঘন স্বল্প মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে। মতানৈক্য থাকলেও অনেক ভূতাত্ত্বিক ছোট ছোট ভূমিকম্প সংঘটন বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস বলে উল্লেখ করেন। অতীতের এসব রেকর্ডকে প্রাধান্য দিয়ে গবেষকরা বলছেন, যে কোনও সময় বাংলাদেশে রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে এবং এজন্য এখন থেকেই আমাদের পূর্ব প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

 

বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশকে ভূমিকম্পের তীব্রতার ভিত্তিতে তিনটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। বুয়েটের গবেষকদের প্রস্তুতকৃত ভূ-কম্পন এলাকাভিত্তিক মানচিত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৪৩% এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে (জোন-১), ৪১% এলাকা মধ্যম (জোন-২) এবং ১৬% এলাকা নিম্ন ঝুঁকিতে (জোন-৩) রয়েছে। যেখানে ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ভূ-কম্পন মানচিত্রে ২৬% উচ্চ, ৩৮% মধ্যম এবং ৩৬% নিম্ন ঝুঁকিতে ছিলো।

 

ভূমিকম্পের ফলে ভূপৃষ্ঠের যেমন নানা রূপ পরিবর্তন সাধিত হয়, তেমনি বহু প্রাণহানি ও জনপদ ধ্বংস হয়। প্রথমত, ভূমিকম্পের ফলে ভূপৃষ্ঠে অসংখ্য ফাটল ও চ্যুতির সৃষ্টি হয়। এই সব ফাটলের মধ্যে দিয়ে ভূগর্ভস্থ গরম জল ও বাষ্প বাইরে বেরিয়ে আসে। আবার চ্যুতির সৃষ্টি হলে ভূভাগ উপরে উঠে বা নিচে নেমে স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি করে। দ্বিতীয়ত, ভূমিকম্পের ফলে ধ্বসজনিত কারণে নদীর গতিপথ রুদ্ধ হলে নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। যেমন - ১৯৫০ সালের ভূমিকম্পে আসামের দিবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল। তৃতীয়ত, অনেক সময় সমুদ্র নিচে প্রবল ভূমিকম্প হলে সমুদ্র তলদেশের কোন অংশ উত্থিত হয়ে সামুদ্রিক দ্বীপ আবার অনেক সময় সমুদ্র মধ্যবর্তী অনেক দ্বীপ সমুদ্র তলদেশে অবনমিত হয়ে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।চতুর্থত, সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদ্রের জল ব্যাপক ও বিধবংসী তরঙ্গের আকারে উপকূলের দিকে এগিয়ে এসে ব্যাপক ধবংসলীলা চালায়। এই সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস কে সুনামি বলে। যেমন -২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে এই রূপ সুনামি সংঘটিত হয়েছিল। পঞ্চমত, ভূমিকম্প যেহেতু আকস্মিক ঘটনা, তাই হঠাৎ করে প্রবল ভূমিকম্প হলে শহর ও নগর নিমেষে ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়। অসংখ্য মানুষ, জীবজন্তু মৃত্যু মুখে পতিত হয়। রাস্তাঘাট, রেল, বাঁধ, সেতু ধ্বংস হয়ে যায়, যা তুরস্কের ভূমিকম্পে দৃশ্যমান।

 

ভূমিকম্পের কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রধানত প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট বা কৃত্রিম কারণে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক কারণগুলোর মধ্যে- প্রথমত, পৃথিবীর ভূত্বক কতগুলি ছোট বড় চলনশীল পাতের সমন্বয়ে গঠিত। এই রকম দুটি পাতের পরস্পরের দিকে বা পরস্পরের বিপরীত দিকে চলনের ফলে পাত সীমান্ত বরাবর ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এই পাত চলন জনিত কারণেই সারা পৃথিবী ব্যাপী ভূমিকম্পের প্রধান কারণ। যেমন - প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় মেখলা বরাবর, আল্পস - হিমালয় ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে, মধ্য মহাসাগরীয় শৈলশিরা প্রভৃতি অংশে প্রবল ভূমিকম্পের প্রধান কারণ হল পাতের চলন। দ্বিতীয়ত, পৃথিবীর ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প গুলির কারণ হিসাবে H. F. Ried স্থিতিস্থাপক প্রত্যাঘাত মতবাদ প্রকাশ করেন। তার মতে ভূ-আন্দোলনের ফলে শিলাস্তরে প্রবল পীড়নের ফলে চ্যুতিতল বরাবর শিলার ভাঙন ও স্খলন ঘটলে আকস্মিক ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। তৃতীয়ত, আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের সময় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সাধারণত যে সব আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণ সহকারে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়, তার আশেপাশের অঞ্চল গুলিতে প্রবল ভূমিকম্প অনুভূত হয়। চতুর্থত, ভূগর্ভের মধ্যে সঞ্চিত বাষ্পপুঞ্জের পরিমাণ যখন অত্যধিক হয়ে যায়, তখন তা প্রবল বেগে শিলাস্তরে ধাক্কা দেয়। এর ফলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের সন্নিহিত অংশে প্রচুর ফাটল থাকায় অভ্যন্তরীণ বাষ্প জনিত ভূমিকম্প প্রায়ই দেখা যায়। পঞ্চমত, সৃষ্টির পর থেকে উত্তপ্ত পৃথিবী ক্রমশ তাপ বিকিরণের মাধ্যমে শীতল হচ্ছে। পৃথিবীর উপরিভাগ শীতল ও কঠিন হলেও অভ্যন্তরভাগ এখনো অত্যধিক উত্তপ্ত রয়েছে। ফলে উপরের ও নিচের স্তরের মধ্যে আয়তনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তাই ভারসাম্য রক্ষার জন্য ভূপৃষ্ঠের কিছু অংশ অবনমিত হয়ে ভাঁজের সৃষ্টি করে। এরূপ পুনর্বিন্যাসের সময় মাঝে মাঝে ভূমিকম্প হতে পারে। ষষ্ঠত, ভূপৃষ্ঠের উপরভাগে, বিশেষত পার্বত্য অঞ্চলে যখন ধ্বস নামে এবং তার ফলে খাড়া ঢাল বরাবর বিশাল পাথরের স্তূপ প্রবলবেগে নিচে পতিত হয়, তখন তার প্রভাবে ভূকম্পন অনুভূত হয়। সপ্তমত, সুউচ্চ পর্বতমালার বরফাচ্ছন্ন শিখর থেকে বিশাল বরফের স্তূপ বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রবল বেগে নিচে পতিত হয়, যাকে হিমানি সম্প্রপাত বলে। এর ফলে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। অন্যদিকে, ভূমিকম্পের মনুষ্য সৃষ্ট কারণগুলোর মধ্যে- প্রথমত, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশ গুলি প্রায় ভূগর্ভে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকে। যার ফলে সেই বিস্ফোরণ কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়। দ্বিতীয়ত, নদীতে বাঁধ দিয়ে কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ করলে জলাধারে সঞ্চিত জলের প্রচন্ড চাপে এবং সেই স্থানের ভূ গঠন সুস্থিত না হলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হতে পারে। যেমন - ১৯৬৭ মহারাষ্ট্রের কয়না নগরের কয়না বাঁধে সঞ্চিত জল রাশির চাপে ভূমিকম্প হয়েছিল।

 

ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পেতে হলে আগে থেকেই কিছু পূর্ব প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার ভবন এমনভাবে ডিজাইন করা উচিত যাতে তারা বড় কম্পন সহ্য করতে পারে। একটি নতুন কাঠামো নির্মাণের আগে, মানুষের সর্বদা স্থপতি এবং প্রকৌশলীদের সাথে পরামর্শ করা উচিত। ভবনের ছাদ উজ্জ্বল রাখা দরকার। ভবন নির্মাণে শক্তিশালী উপকরণ ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে বেশি; পরিবর্তে, কাঠ বা মাটির কাদা ব্যবহার করা উচিত। ছবির ফ্রেম, গিজার, ঘড়ি এবং অন্যান্য দেয়াল এমন জায়গায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে যেখানে পড়ে গেলে কারো ক্ষতি হবে না। যেহেতু ভূমিকম্প আগুনের কারণ হতে পারে, ভবনগুলিকে অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করা উচিত। যদি বাড়িতে অবস্থান করে, যতদ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং সম্ভব না হলে ঝামেলা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত টেবিলের নিচে লুকাতে হবে। লম্বা বা ভারী জিনিসের আশেপাশে দাঁড়ানো বা বসা এড়িয়ে চলতে হবে। আপনি যদি বিছানায় থাকেন তবে এটি থেকে বের না হওয়াই শ্রেয় এবং আপনার পিঠ কুশন করার জন্য একটি বালিশ ব্যবহার করুন। আপনি যদি বাইরে থাকতে যাচ্ছেন বিল্ডিং, গাছ, এবং পাওয়ার লাইন থেকে দূরে ড্রপডাউন. আপনি যদি একটি গাড়ি বা বাসে থাকেন, তবে ধীরে ধীরে নিরাপদ স্থানে যান এবং ভূমিকম্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিতরে থাকুন।

 

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস জানানো খুবই জটিল। গবেষকরা কোনো নির্দিষ্ট ভূমিকম্পকে সরাসরি নির্ণয় করতে পারে না, কিন্তু মাইক্রোসিসমিসিটি গবেষণা, ফোকাল ম্যাকানিজম গবেষণার মাধ্যমে সম্ভাব্য পূর্বাভাস এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, হাইসিসমিসিটি, লোসিসমিসিটি নির্ণয় করতে পারে, যা জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ জীবন ও সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি রোধে অত্যন্ত সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে ভূমিকম্প বিষয়ক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সরকারের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা জরুরি প্রয়োজন। বাংলাদেশ প্লেট বাউন্ডারির অন্তর্ভুক্ত না হয়েও দুর্বল অবকাঠামো, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রয়োজনীয় বিল্ডিং কোড মেনে না চলার কারণে এবং যত্রতত্র ভবন ও স্থাপনা নির্মাণের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি অন্যতম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। যেহেতু ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, একে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সেহেতু ভূমিকম্প পূর্বপ্রস্তুতি ও ক্ষয়ক্ষতি রোধে ভূমিকম্প-পরবর্তী শক্তিশালী এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই দুর্যোগ মোকাবিলা সম্ভব। মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প শক্তিশালী ভূমিকম্পের পূর্বলক্ষণ এবং  ছোট ছোট ভূমিকম্প থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এখনই সচেতন ও সতর্ক হতে হবে।

 

ব্যাংকার ও কলাম লেখক,
সতিশ সরকার রোড, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা

এই বিভাগের আরো খবর