ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রাহায়ণ ৫ ১৪২৬

ব্রেকিং:
৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ শাহাদাত কাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাক-কাভার্ডভ্যান শ্রমিকদের কর্মবিরতি
সর্বশেষ:
দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী শেষ টেস্ট খেলতে কলকাতার পথে টাইগাররা, মূল চ্যালেঞ্জ বোলারদের মনে করেন পেসার আল-আমিন হোসেন পেঁয়াজের পর চালের দাম বাড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে : নাসিম পদ্মা সেতুতে বসেছে ১৬তম স্প্যান

ভোলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যতম দর্শণীয় স্থান মনপুরা দ্বীপ

মোঃ ইব্রাহীম, ভোলা

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১ অক্টোবর ২০১৯

পঠিত: ২৭

ভোলার প্রাকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা ভোলা দ্বীপ থেকে প্রায় ৮০ কিঃ মিঃ দুরত্বে সাগরের বুকে নয়নাভিরাম আরেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। মনগাজী নামে এখানকার এক লোক একদা বাঘের আক্রমনে নিহত হন। তার নামানুসারে মনপুরা নামকরন করা হয়।

বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা ভূমি রূপালী দ্বীপ মনপুরা। চতুর্দিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত সবুজ-শ্যামল ঘেরা মনপুরা। সুবিশাল নদী, চতুর্দিকে বেড়ীবাঁধ, ধানের ক্ষেত, বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগানে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা জেলার মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। মেঘনার কোল ঘেসে জেগে ওঠা তিন দিকে মেঘনা আর একদিকে বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ সাজে সজ্জিত লীলাভূমি মনপুরা।

ভোলা জেলা সদর থেকে দক্ষিন পুর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেষে মেঘনার মোহনায় চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ পিয়াসু মানুষের চারণভূমি বলা চলে। অবসর সময়ে এই দ্বীপে ছুটে আসে অনেক পর্যটক। চাইলে আপনিও যেকোনো সময় চলে আসতে পারেন মনপুরা দ্বীপে। মেঘনার কোল ঘেসে এখানে না আসলে বোঝাই যাবেনা সবুজের দ্বীপ মনপুরায় কি সৌন্দর্য লুকায়িত আছে। পর্যটনের কি অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে পুরানো এ দ্বীপে। পর্যটক আর ভ্রমন পিপাসু মানুষকে মুগ্ধতার বন্ধনে আটকে দেওয়ার বহু উপকরন রয়েছে এ দ্বীপে।

এখানে সকাল বেলার সুর্য যেমন হাঁসতে হাঁসতে পুর্বদিকে ডিমের লাল কুসুমের মত উদিত হতে দেখা যায়, তেমনি বিকেল বেলাতেও আকাশের সিঁড়ি বেয়ে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিম আকাশে মুখ লুকায়। মনপুরাতে এসেই বল সুর্যোদয় ও সূর্যাস্ত প্রত্যক্ষ করা যায়।

উল্লেখ এখন লক্ষ্য যায় মনপুরা এখন রয়েছে বিল ও সেই জিল মায়া ঘেরা বনভূমি।

কিভাবে যাবেন মনপুরায়-
ঢাকা থেকে মনপুরা যাওয়ার জন্য একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হল লঞ্চ। প্রতিদিন বিকাল ৫.৩০ এ ঢাকা থেকে ফারহান -৩/৪ ছেড়ে যায় এবং বিকাল ৬ টায় তাসরিফ-১/২ ছাড়ে। সন্ধ্যায় ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলো ভোর ৫-৬ টার মধ্যেই পৌঁছে যায় মনপুরায়। মনপুরা থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলো প্রতিদিন দুপুর ২টার দিকে ছেড়ে যায়। এছাড়া ভোলা থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে ও যাতায়াত করা যায়।

ঢাকা থেককে লঞ্চের ভাড়া :
ডেক -১৫০-২০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন -৮০০-১০০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১৬০০-১৮০০ টাকা, ফ্যামিলি -২০০০-৩৫০০ টাকা, ভিআইপি -৫০০০ টাকা।

যোগাযোগ ও বুকিং :
ফারহান-৩: ০১৭৮৫৬৩০৩৬৫-৬৭
ফারহান-৪: ০১৭৮৫৬৩০৩৭০

তাসরিফ-১ : ০১৭৩০৪৭৬৮২২, ০১৭৬৮৯৬২১০৮
তাসরিফ-২ : ০১৭৩০৪৭৬৮২৪

কোথায় থাকবেন: থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে থাকতে পারবেন, প্রতি রুম ৬০০ টাকা। ৪-৫ জন থাকতে পারবেন।

ক্যাম্পিং করার জন্য আদর্শ জায়গা মনপুরা। আছে আদিগন্ত ভূমি। একটা ভালো জায়গা দেখে তাবু ফেলে নিন। পড়শীদের সাথে রফা করে রান্নার আয়োজন করতে পারবেন। আর যাদের তাবু নেই তারা হাজিরহােেট হোটেলে থাকতে পারেন।

মনপুরার খাবার: এখানে বিশেষ বিশেষ কিছু খাবার লক্ষ করা যায়। শীতের হাঁস, মহিষের দুধের দধি, টাটকা ইলিশ, বড় কই, মাগুর, কোরাল, বোয়াল ও গলদা চিংড়ি। মেঘনা নদী থেকে ধরে আনা টাটকা ইলিশ ও চর থেকে আনা কাঁচা দুধের স্বাদই আলাদা। অনেকের মতে এখানকার খাটি দুধ খেয়ে ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা দেখে মানুষের মন ভরে যেত। এজন্য এর নামকরণ করা হয় মনপুরা।

সে যাই হোক না কেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা দ্বীপের রূপের বর্ণনা লিখে শেষ করা যাবেনা। সরকারের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতায় এই দ্বীপ হয়ে উঠতে পারে অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন সমৃদ্ধ একটি দ্বীপ।

 

এই বিভাগের আরো খবর