ঢাকা, বুধবার   ২৮ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৩ ১৪২৮

ব্রেকিং:
৪২তম বিসিএসে আরও ২ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি ভিকারুননিসা স্কুলের প্রিন্সিপালের ফোনালাপের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন টেকনাফে পাহাড় ধসে প্রাণ গেল ৫ ভাই-বোনের
সর্বশেষ:
বিশ্বে একদিনে সংক্রমণ বেড়েছে দেড় লাখ, মৃত্যু ছাড়াল ৯ হাজার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: এসএসসি–এইচএসসি ফলে স্নাতকে ভর্তি, আবেদন শুরু

ভ্রমণপিপাসুদের পদচারনায় মূখরিত আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০২০  

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র


 
ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। তন্মধ্যে চর আলেকজান্ডার অন্যতম। মেঘনা পাড়ের জনপদ লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলা আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধকে ঘিরে পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।নদীর ঢেউ আর পানির শব্দে জেগে উঠা নির্মল প্রকৃতিতে সেজেছে আলেকজান্ডার বেঁড়িবাঁধ। এতে লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনাপাড়ের জনপদটিতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

রামগতি উপজেলার নদী আর নির্মল প্রকৃতি দুইয়ে মিলে এ উপকূলকে করে তুলেছে অপরূপ। উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে ছোট ছোট নৌকায় জেলেদের ইলিশ ধরা, জোয়ার-ভাটার টানে উঁচু ঢেউ আঁচড়ে পড়ছে বেড়িবাঁধের গায়ে এমন নানা দৃশ্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা। ঈদসহ যেকোন ছুটিতে এখানে দর্শণার্থীদের খই ফুটে। নদী থেকে ভেসে আসা দক্ষিণা বাতাসে মন জুড়াতে সুযোগ পেলেই এখানে ছুটে আসে হাজারো মানুষ। দর্শণার্থীদের পদচারণা আর হৈ-হুল্লোড়ে বেঁড়িবাঁধটি হয়ে উঠে আরো অপরুপ।

এখানে নদীর ঢেউ-জলের মিষ্টিসুর, জেগে ওঠা চর, নৌবিহার, ঢেউ-বেলা ভূমির মিতালীর সান্নিধ্য পেতে প্রতিদিন আসে হাজারো মানুষ। জেলা শহর থেকে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় ঈদসহ বিশেষ দিন গুলোতে বেড়িবাঁধের আলেকজান্ডারের এক কিলোমিটার অংশে নানা বয়সী মানুষের উপচেপড়া ভিড় লেগে থাকে। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিকল্পিতভাবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে এটি পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার ইলিশের অভয়াশ্রম। শুধু লক্ষীপুরের প্রায় ৬২ হাজার জেলে এ নদী নির্ভর জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে।

পর্যটন কেন্দ্র আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধককে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকানপাট। ফুসকা,চটপটি, নাগরদোলা,আইসক্রিম, খাবার হোটেল, বাহারী রঙের বেলুনের দোকানসহ নানা পসরা সাজিয়ে বসে থাকেন দোকানীরা। দোকানদার নাসির উদ্দীন বলেন -মোটামুটি বিক্রিবাট্টা ভালোই হয়।

আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন নদীতে পণ্যবাহী সারি সারি লাইটারেজ জাহাজ ও মাছ শিকারে অসংখ্য নৌকার ছুটা ছুটি যেন নজর কাড়ে। তীরে রয়েছে নারিকেল-সুপারিসহ বিভিন্ন বৃক্ষের সাজানো বাগান। এ ছাড়া চরে দৃষ্টি কাড়ে গরু-মহিষ, ভেড়া আর রাখালের বন্ধুত্ব। সয়াবিন ও ধানসহ ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠ। এ যেন সৌন্দর্যের লীলা ভূমি। স্নিগ্ধতায় মনছুঁয়ে যায়।

এতে এখানে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জানতে চাইলে ঘুরতে আসা ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল বলেন, আলেকজান্ডারে প্রতিদিন হাজারো নারী-পুরুষ ও শিশুদের অপূর্ব মিলন মেলা ঘটে। আনন্দ-উচ্ছাসে মুখরিত হয়। মানুষের জীবন যাত্রার মান বদলে যাচ্ছে। অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজগর আলী বলেন, এ নিয়ে মন্ত্রণালয় ও পর্যটন করপোরেশনে চিঠি দেয়ার পর একটি প্রতিনিধিদল মে মাসে পরিদর্শন করে গেছে। তারা পর্যটনকেন্দ্র ঘোষণার পরিবেশ পেয়ে প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে গেস্ট হাউস ও টয়লেটসহ অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। সম্প্রতি ছাতা স্থাপন ও টয়লেট নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

লক্ষীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ‘আলেকজান্ডার বেঁড়িবাঁধটি স্থানীয়দের কাছে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। ঈদ-পূজা ও নববর্ষের সময় বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটে থাকে। পর্যটকদের জন্য সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা থাকে’

লক্ষীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য মেজর(অব.) আবদুল মান্নান বলেন, আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধকে ঘিরে পর্যটনে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

সকাল থেকে শুরু করে রাত ৮ পর্যন্ত পর্যটকদের পদচারনায় মূখরিত থাকে আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ।

এই বিভাগের আরো খবর