Berger Paint

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

ব্রেকিং:
১৫ বছরের মধ্যে ১০ বছরই আয়কর দেননি ট্রাম্প! চির নিদ্রায় শায়িত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অস্ত্র মামলায় সাহেদ করিমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ২৪ বলে ৮২, ৯ বলে ৭ ছক্কা, নতুন রেকর্ড আইপিএলে এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ: ছাত্রলীগ নেতা রাজনও গ্রেফতার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ : রনি ও রবিউল গ্রেফতার ৭৪-এ পা রাখলেন শেখ হাসিনা
সর্বশেষ:
সৌদিতে শিডিউল ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছে বিমান ড. কামাল ও আসিফ নজরুল ঢাবি এলাকায় অবা‌ঞ্ছিত : সন‌জিত সাহেদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার রায় আজ কাশ্মীর সীমান্তে পাক-ভারত উত্তেজনা, এক সেনা নিহত

মর্যাদাপূর্ণ আশুরা; ইসলামী ইতিহাস ও শরীয়াহ্’র গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়

নাহিদা বুশরা সমাপ্তি তালুকদার

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২০  

পঠিত: ২৭২
নাহিদা বুশরা সমাপ্তি তালুকদার। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

নাহিদা বুশরা সমাপ্তি তালুকদার। ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। ইসলামী পরিভাষায় আরবি বর্ষপঞ্জি হিজরি সনের প্রথম মাস,মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। আশুরা শব্দটি আরবি 'আশারা' শব্দ থেকে এসেছে। আশার' এর অর্থ দশ। আর আশুরা' অর্থ দশম। অন্যথায় বলা হয়েছে, এ মাসের ১০ তারিখে ১০'টি বড় ঘটনা সংঘটিত হওয়ার জন্যও এ তারিখকে আশুরা বলা হয়। আশুরার দিনে অনেক তাৎপর্যময় ঘটনা ঘটেছে তাই এই দিনের মর্যাদও অনেক বেশি।
এজন্য মহররম মাসকে গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পবিত্র কুরআন মাজীদেও মহররম মাসকে সম্মানিত মাস এবং গুরুত্বপূর্ণ মাস হিসেবে উল্লখ্য করা হয়েছে।

আসমান সমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লহ কিভাবে,এ (১২'টি) 'র মধ্যে চার'টি হচ্ছে (যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য) নিষিদ্ধ মাস; এটা (আল্লাহর প্রণীত) নির্ভুল ব্যবস্থা,
"অতএব তার ভেতরে (হানাহানি করে) তোমরা নিজেদের ওপর জুলুম করো না।" [সূত্র :- সূরা:-তাওবা,,আয়াত নং :-৩৬]

> মর্যাদাপূর্ণ  ৪'টি মাস হচ্ছে :
১. জিলক্বদ
২. জিলহজ্জ
৩. মহররম এবং
৪. রজব

এই চার' মাসের মর্যাদা ও মহত্বের জন্য যুদ্ধ বিগ্রহ নিষিদ্ধ করা হয়। শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে সবাই এই চার মাসের মর্যাদা  রক্ষার্থে যুদ্ধ-কলহ,দাঙ্গা-হাঙ্গামা সব কিছু থেকে বিরত থাকত।

হাদিস শরীফে আরবি ১২ মাসের মধ্যে মহররম'কে 'শাহরুল্লাহ' বা আল্লাহর মাস নামে অভিহিত করা হয়।

আশুরার দিন যেসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল সেসবের মাঝে কিছু ঘটনা নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:

১. এই দিনে,হযরত মুসা (আ:) ফেরাউনের অত্যাচারের জন্য তাঁর দলবল সহ অন্যত্র চলে যান। পথিমধ্যে নীল নদ পার হয়ে তিনি ফেরাউনের হাত থেকে এই আশুরার দিনে রক্ষা পান। অন্যদিকে ফেরাউন তার দলবল সহ নীল নদের অতলে পতিত হয়ে মারা যায়।

২. এই দিনে,আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।

৩. এই দিনে, হযরত আদম (আ:) বেহেশত থেকে পৃথিবীতে আসেন এবং স্ত্রী হাওয়া (আ:) এর সাথে আরাফার ময়দানে সাক্ষাৎ করেন।

৪. এই দিনে, আইয়ুব (আ:) দীর্ঘ ১৮'বছর কঠিন   রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন।

৫. এই দিনে,হযরত ইয়াকুব (আ:) এর পুত্র হযরত ইউসুফ (আ:) তার ভাইদের ষড়যন্ত্রে কূপে পতিত হন এবং একদল বণিকের সহায়তায় মিসরে পৌঁছান। অতঃপর আল্লাহর কুদরতে মিসরের প্রধানমন্ত্রী হন।

৬. মহররম মাসের ১০ তারিখে কারবালায় মর্মান্তিক ও এক বিয়োগান্তক ঘটনা ঘটে। এ দিনে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইমাম হোসাইন কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন।

আশুরার রোজার গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিসে আল্লাহর রাসূল (সা:) বলেছেন যে,"আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী, আল্লাহ তা'য়ালা এই অসিলায়  আমাদের  অতীতের এক বছরের গুনাহ্ মাফ করে দিবেন।
[সূত্র:-সহীহ তিরমিজি শরিফ]

আশুরার দিন'কে প্রত্যেক মুসলিম পবিত্র ও বরকতময় হিসেবে পালন করে আসছে। ১০ মহররম হযরত মোহাম্মদ (সা:) এর প্রিয় নাতী হযরত ইমাম হোসাইন (রা:) কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংসভাবে শাহাদাত বরন করেন। ফোরাত নদীর তীরে অবস্থিত কারবালার ঘটনা সব ট্রাজেটিক ঘটনাকে অতিক্রম করে আজও শোকময় স্মৃতি হয়ে আছে প্রতিটি মুসলিমের হৃদয়ে।

তাই মহররম মাস আমাদের চেতনা শক্তিকে মনে করিয়ে দেয় যে,
মহররম মানেই ত্যাগ।
মহররম মানেই শক্তি ও প্রতিবাদের কথা।

পরিশেষে বলা যায় আশুরা বহুবিধ কারনে আমাদের কাছে গুরুত্ব এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
সুতরাং পবিত্র  মহররম মাসে এবং আশুরার দিনে রোজা রেখে, বেশি বেশি দোয়া পাঠ করে ও অন্যদের সাহায্য করে কিছু কল্যাণ লাভের সুযোগ গ্রহন করি।

লেখিকা: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।