ঢাকা, শনিবার   ১৭ এপ্রিল ২০২১,   বৈশাখ ৪ ১৪২৮

ব্রেকিং:
বাসায় হবে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দিল্লিতে সাত দিনের কারফিউ জারির ঘোষণা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
সর্বশেষ:
এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি নিলে তা ফেরতের নির্দেশ, কমিটি বাতিলের হুঁশিয়ারি মাঝ রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আসছেন করোনা রোগীরা করোনায় ২৫ প্রশাসন কর্মকর্তার মৃত্যু

মাটিরাঙ্গার তবলছড়ি ও তাইন্দং এলাকায় ‘ইউপিডিএফ (প্রসিত)’ গ্রুপের তাণ্ডব

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২১  

ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের তাণ্ডব চিত্র

ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের তাণ্ডব চিত্র

 

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ি ও তাইন্দং এলাকাস্থ শুকনাছড়ি, ইসলামপুর, লাইফুপারা ও পংবাড়ী এলাকায় গত রবিবার (০৪এপ্রিল ২০২১খ্রি) ও সোমবার (০৫এপ্রিল ২০২১খ্রি) স্থানীয় বাঙালিদের ওপর ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) দলের সন্ত্রাসীরা নৃশংস হামলা করেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শন করেন। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।

 

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারে আওতায় আনা হবে। পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের কোন ঠাঁই নেই। এলাকাবাসি সবাইকে হেফাজত-জামাতের উস্কানিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আইন কাউকে ছাড় দিবে না। যে দোষী তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের কোন জাত নাই, ধর্ম নাই। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নেয়ারও আহবান জানান তিনি। এসময় উপস্থিত জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল আজিজসহ জেলা, উপজেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

স্থানীয় সাংসদ ও প্রশাসন পরিদর্শন এবং আলোচনা সময়ের ছবি

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, এ দলটি স্থানীয় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি এবং বাঙালিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে আসছিল। এর চূড়ান্ত রূপ নেয় গত রবিবার। এদিন আনুমানিক সকাল সাড়ে দশটার দিকে লাইফু কার্বারি পাড়া এলাকায় কচু ক্ষেতে কর্মরত ২০ থেকে ২৫ জন বাঙালিকে আকস্মিকভাবে ১২ থেকে ১৫ জন ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের সদস্যরা ঘেরাও করে মারধর করে এবং ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় চারজন স্থানীয় বাঙালি গুরুতর আহত হন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

 

এরপর গত সোমবার ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের সদস্যরা সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আবার বাঙালি গ্রামে প্রবেশ করে বাঙালিদের বেড়ধক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। একই দিনে রাত ৯ টার দিকে আবারও বাঙালি গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী হানা দেয় এবং বাঙালিদের মারধর ও ঘরবাড়ি হতে বের করে দেয়। পরে খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মুসলিম পাড়া, ইসলামপুর, শুকনাছড়ি’সহ আশে পাশের গ্রাম থেকে বাঙালিরা একত্রিত হয় তাইন্দং বাজারে এবং তারা ধাওয়া দিলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় মুসলিম পাড়ার পংবাড়ী এলাকার বাঙালি মফিজ মিয়ার দখলীকৃত সেগুন বাগানের তিন শতাধিক সেগুন গাছ কেটে দেয়। এরপর নিরীহ আনু মিয়ার চায়ের দোকান রাত সাড়ে ১২ টার সময় পুড়িয়ে দেয় এমনটাই অভিযোগ করেন স্থানীয় বাঙালিরা।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে তবলছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক।

 

পাহাড়ে সেনাক্যাম্প প্রত্যাহারের ফলে এই সন্ত্রাসী দলের হামলা বেড়েছে। পাহাড়ে বর্তমানে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে বাঙালিদের ওপর হামলা করার সাহস পাচ্ছে এমনটা অভিযোগ করেন স্থানীয় বাঙ্গালিরা।

 

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ২৪০টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করে নেয়।
 

 

এই বিভাগের আরো খবর